সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০১১

মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী,ময়মনসিংহে আপনাকে আমন্ত্রণ!

“বার ভূঁইয়ার” জমিদারী আর সবুজের সমারোহ চারদিকে,দুর থেকে ভেসে আসে সীমানার কড়া শাসন। সব মিলিয়ে এই ঐতিহ্যমন্ডিত ময়মনসিংহে আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি।সড়ক পথে চলে আসুন সোজা রাস্তা ধরে শালবনের ভিতর দিয়ে। সেই কবে ছোট বেলায় দোলনায় দোল খেয়েছিলেন! নিশ্চয় ভুলে গিয়েছেন? আবারো সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ার সব আয়োজন আমরা করে রেখেছি।

এই তো মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ!ঢাকার বিখ্যাত যানজট থেকে গাজীপুরের টঙ্গীতে আসার সাথে সাথে যদি মনে মনে বলেন আহ,বাচঁলাম!তাহলে কিন্তু ভুল করেছেন!রাস্তার মাঝে হাটু পানি জমে গাড়ীর চাকা যখন ডুবতে দেখবেন তখন আপনার মনে হবে যেন আপনি কক্সবাজার সি-বিচে গাড়ীতে আছেন!আপনার চোখ ভারী হয়ে আসবে গাড়ীর ঝাঁকিতে। এবার একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন!গাড়ীতে ঝাঁকি খেতে খেতে আর জ্যামে বসে থাকতে থাকতে অধৈর্য্য হবেন না! কারন আমরা নিয়মিতই আসছি এই রাস্তা ধরে, এবং টঙ্গী থেকে মাত্র ৯৯ কিলোমিটার পথ!
চোখ খুলে অবাক হবেন না কিন্তু বলে দিলাম! কারণ এখন আপনি মাওনা চৌরাস্তায় চলে এসেছেন। এখানে জ্যাম লাগবেই কিছু করার নেই!



বসে বসে পত্রিকা পড়তে পারেন। দেখুন মানুষ কত সুখে আছে! কারো কোন বিষয়ে আপত্তি নেই, আপনারা যে ভাবে রাখছেন সে ভাবেই থাকছে! মাওনাতে রয়েছে অনেক বড় বড় গর্ত যেখানে গাড়ীর চাকা কখনো পিচ বা সুরকীর নাগাল পায়না। বড় বড় বাস আর মালবাহী ট্রাকের ভাষা আপনি বুঝতে পারবেন বসে থেকে।সময় কিন্তু অনেক খানি পার হয়ে গেল মন্ত্রী মহোদয়! আপনার গাড়ী এগিয়ে যাবে হয়তো অনেক গাড়ী ছাড়িয়ে,একটি মহাসড়কের অকাল মৃত্যু পূড়ান পড়তে পড়তে আপনি হঠাৎ হয়তো দেখবেন এক সুন্দর সুদর্শনের গাঁয়ে রাস্তার কাঁদা পানির ছিটা গিয়ে লাগার অন্যরকম মজার দৃশ্য। প্রাণ খুলে হাসার জন্য বাস্তব রসদ পাবেন এই মহাসড়কে।

ভালুকা বাজার আর কলেজ রোড পার হবার সময় যদি সম্ভব হয় গাড়ীর কোল বালিশের উপর বসে আসতে পারেন! না হলে কোমরের হাড়ে হাড়ে ব্যথা শুরু হয়ে যেতে পারে!গত ১৫ই জুলাই অবসর প্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা নুরুর আমীন তার ছোট ভাইকে নিয়ে রাস্তার মাঝে গর্তে মটর সাইকেল নিয়ে পরেন, শরীরে ইট-সুরকীর গর্ত বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাঁরা। আপনার সামনে আবারো এমন ঘটনা ঘটতে পারে যা আপনাকে আনন্দ দেবে! সামনে দেখতে পাবেন পিচ ঢালা পথ নয়, গ্রামের কাঁদা মাখা মেঠো পথ। যাকে আপনারা ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়ক নামে সম্ভোধন করতে চান। আপনার গাড়ীর রঙীন কাচঁটা নামিয়ে দেখুন বাসের যাত্রীদের ক্লান্তি আর অবসাদে সংকুচিত হয়ে যাওয়া মলিন মুখগুলো। একেক বার ঝাঁকি দেয় বাস আর মানুষের মুখে ভেসে উঠে মহাসড়কের করুন মৃত্যুর উপাখ্যান।রাস্তার পাশেই দেখবেন অনেক বাস,টেম্পু ভেঙে পরে আছে এই রাস্তার কারণে। হঠাৎ হঠাৎ শুনতে পাবেন বিকট শব্দ-“বের হয়ে থাকা ইটের মাঝে পরে চাকা পাংচার হওয়ার”।

চার লেন করবেন বলে সেই কবে ঘোষনা দিয়ে হারিয়ে গেলেন আমাদের কে ফাদেঁ ফেলে! টেন্ডারে দুর্নীতি আর অপরিকল্পনার কারণে মহাসড়কটি ধুঁকে ধুঁকে ধ্বংস হয়ে পিচ সুরকী হারিয়ে গায়ের কাঁদা মাখা পথে পরিণত হচ্ছে, আর মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। নিজ চোখে দেখার জন্য আমন্ত্রণ আমাদের এই জেলায়। এই রাস্তা দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের অনেক জেলার রাজধানীর সাথে যোগাযোগ।পণ্য পরিবহনে বাড়ছে খরচ,আর অপচয় হচ্ছে মূল্যবান সময়,যানজট,ভাঙা রাস্তায় এম্ব্যোলেন্সের ভিতরে যাচ্ছে মানুষের প্রাণ।
সব পর্যবেক্ষণ করে যখন পা রাখবেন বাংলার এই সুপ্রাচীন রাজধানীতে আমরা স্বাগতম জানাবো আপনাকে যুদ্ধজয় করে ফেরা বীরের মত! রাখবো গরম পানির গোসলের ব্যবস্থা, আর কোমরে মালিশ করার মলম। আপ্যায়ন করবো ময়মনসিংহের বিখ্যাত মন্ডা দিয়ে।নিয়ে যাবো জয়নুল আবেদিনের স্মৃতি বিজড়িত “সাহেব পার্কে”, যেখানে আপনি পাবেন ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর তীরে শান্তির বাতাস।

কিন্তু, মন্ত্রী মহোদয় আসার পরে কিভাবে ফিরে যাবেন সেটা আপনিই ভেবে দেখুন! আমাদের কে কি রাস্তার চার লেনের ফাঁদে রেখে যাবেন নাকি একটি নতুন সকাল উপহার দেয়ার জন্য আশু ব্যবস্থা নিবেন?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন