শনিবার, ২৫ জুন, ২০১১

স্বরণ করছি একজন কিংবদনন্তিকে...


কিছু কিছু মানুষ আছে,বলা হয়ে থাকে তারা নিজেকেও ছাড়িয়ে যান। তেমনি একজন ছিলেন-মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন।পরবর্তিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে হয়ে যান মিকাঈল জ্যাকসন।
বাংলাদেশের মানুষের সাথে মাইকেলের অন্যরকম এক ভালবাসা ছিল! হে সত্যিই অন্যরকম ভালবাসা- দেশের যে কোন মানুষকে(কৃষক থেকে মন্ত্রী) যদি একজন ইংলিশ গায়কের নাম জিজ্ঞাসা করুন তাহলে একটাই জবাব পা্ওয়া যাবে। আর তা হল মাইকেল জ্যাকসন। তাই বলছি মাইকেল আমাদেরই একজন।
বাংলা গানে মাইকেল কে  নিয়ে বলা হয়েছে-
আউল বাউল লালনের দেশে
মাইকেল জ্যাকসন আইলো রে...
আট বছর বয়স থেকে ভাইদের সঙ্গে জ্যাকসন ফাইভনামে এক ব্যাণ্ডে গাইছেন এবং নাচছেন। স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, তবু সেই শিশুর গান দেখার জন্য সারা ডেট্রয়েট শহর উত্তাল। মাইকেল জ্যাকসন শৈশব থেকেই তারকা। এবং তার চেয়েও বড় সত্য অন্যত্র। মাইকেল জ্যাকসনের কোনও শৈশব ছিল না। রিহার্সালের সময় বাবা হাতে চাবুক নিয়ে বসে থাকতেন, সামান্য ভুলচুক হলেই বেধড়ক মার। শৈশবহীন মাইকেল জ্যাকসন শৈশবের ছবিই স্বপ্ন দেখেছেন আর ছোয়ে যেতে চেয়েছেন সারাজীবন।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১১

বন্ধ হোক শিশু নির্যাতন-রক্ষা করুন শিশুদের অধিকার

হৃদয়ের কথা মনে হচ্ছিল আজ!
 হে হৃদয়- মোড়ে যেখানে বন্ধুরা মিলে চা খাই আর আড্ডা দেয় সেখানেয় একটি চেপ স্টেশনে কাজ করে। বয়স ৮-৯ হবে। কথায় কথায় একদিন তার গ্রামের বাড়ী কোথায় জানতে চেয়েছিলাম, জানতে পারলাম আমার জেলাতেয় তার বাড়ী। ইট কাঠের এই ঢাকাতে দুই ভাই মিলে কাজ করে বাড়ীতে টাকা পাঠায়। সকাল ৯ থেকে রাত ১০ টা পযর্ন্ত কাজ করে উত্তরার এই চেপ স্টেশনটিতে। জানতে চেয়েছিলাম পড়াশুনা করে কিনা! তার সহজ সরল জবাব ছিল

 - করতাম! সাইরা দিসি, পড়ুনের সময় পাইনা,কাম করুন লাগে, ট্যাকা জমানো লাগে! এই লাইগ্যা পড়িনা।

 -আমি যদি তোমাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয় তাহলে পড়বে?
 তখন তার চোখে মনে হয় হালকা হাসির রেখা দেখেছিলাম, কিন্তু কোন জবাব না দিয়ে সে চলে গিয়েছিল।
 ওই দোকানের সামনে দিয়ে যাবার সময় তার সাথে দেখা হয়,শুধু মাত্র কেমন আছো এটাই জানতে চাই!
 আর কিছু করতে পারিনি!

গত রবিবার ঢাকার নিকুন্জে হাটছিলাম বন্ধুরা মিলে- দেখলাম এক বাবা তার বাচ্চা ছেলেকে মারছে! কারন সে নাকি বাবার দেয়া কাজে না গিয়ে মাঠে খেলছিল!
 হে আপনারা সচেতন মানুষ যারা, তারা যা ভাবছেন আমিও তখন তাই ভাবছিলাম।

 আসুন এক নজরে দেখে নেয় শিশু নির্যাতন সর্ম্পকিত কিছু আইন এবং পরিসংখ্যান--

Universal Declaration of Human Rights (UDHR) এর ২৫ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে- অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান,শিক্ষা,স্বাস্থ নিশ্চিত পূর্বক প্রতিটি শিশুর জন্মকাল,শিশুকালে ঠিক ভাবে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করতে হবে।
 গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে -
 অনুচ্ছেদ-৭- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভ করবে।
 অনুচ্ছেদ-২৮(৪)-নারী ও শিশুদের উন্নতির জন্য রাষ্ট্র বাদ্য থাকবে।
 অনুচ্ছেদ-৩৪-যেকোন ধরনের জবরদস্তী কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 শিশুদের অধিকার,শিশুদের নির্যাতন তথা খারাপ কাজ থেকে রক্ষা করা বা সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠার জন্য, অবহেলা রোধ করার জন্য, শিশু উন্নয়নের জন্য ৩৫ টির বেশি আইন রয়েছে। শুধু সমস্যা প্রয়োগে।জারী করা হয়েছে জাতীয় শিশু নীতি,২০১১

শিশু আইন,১৯৭৪.
 এই আইনটির মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা , বেড়ে উঠার স্বাধীনতা,নিশ্চিত করার কথা বলা আছে।
 সরকারকে শিশূদের অধিকার নিরাপত্তা প্রতিষ্টার জন্য বাধ্যকতা জারী করা হয়েছে।
 এই আইনে- জুবেনলি কোর্টের কথা বলা হয়েছে। পুলিশ স্টেশনে শিশুদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে তা বলা হয়েছে,শিশুদের নিরাপদে রাখতে যেকোন ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

 বাংলাদেশ লেবার আইন,২০০৬
 ১৮ বছরের কম বয়স্ক কোন শিশুকে ঝুকির্পূণ কাজে লাগানো যাবে না।
 ১৮ বছরের কম বয়স্ক কোন মেয়ে শিশুকে গনিকা বৃত্তির কাজে আনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 দন্ডবিধি,১৮৬০-
 ৯ বছরের কম বয়স্ক কোন শিশুকে অপরাধী হিসাবে দায়ী করা যাবে না।
 শিশু পাচার,ক্রয়-বিক্রয়,গনিকা বৃত্তি,শিশু অপহরণ,শিশু ধর্ষন,প্ররোচনায় অপরাধ করানো, ইভটিজিং আইনত দন্ডনিয় অপরাধ হিসাবে গন্য হবে। (ধারা-,৮২,৮৩,৩৭২,৩৭৩,৩৭৫,৩৬৬,৫০৯)
 এই সব অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড পযর্ন্ত শাস্তি হতে পারে।

 এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন রয়েছে।
 ------------------------------------------------------------------------
কেন হয় শিশু নির্যাতন?
 সবল দূর্বলের উপর আক্রমণ করবে এটা যেন আমাদের চিরায়ত রীতি হয়ে বার বার চোখের সামনে ধরা দেয়।
 আজকে যে শিশু কাল হবে সে বিশ্বের রাজা! এটা আমরা সবাই বলি- কিন্তু সেই রাজাকে রাজার মত বেড়ে উঠতে দেয় না! কারণ-আমাদের মূখ্যতা,নিচু মনের পরিচয়,মানুষের প্রতি ভালবাসার অভাব তাদের কে জেনে না জেনে অঙ্কুরেয় বিনাশ করতে ব্যস্ত ! শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য যে পরিবেশটা প্রয়োজন সেটা আমরা সরবরাহ করতে পারিনা। আমাদের আছে সাধারণ সেন্সের অভাব। নিজে বড় হ্ওয়া মানেয় পৃথিবিটা বড় হ্ওয়া নই তা আমরা বুঝতে চাইনা। তাই করি নির্যাতন।

 বাংলাদেশের শিশু সংখ্যা ২০০১ সালে প্রায় ২ কোটি যার মাঝে ১-১৪ বছর বয়সি ছিল দেড় কোটি।
 এই থেকে বলা যাবে না প্রতিটা শিশুই ঠিক ভাবে বেড়ে উঠেছে পরিপূর্ণ পুষ্টি আর অধিকার নিয়ে।
 কারন তাদের অর্ধ্যেক বসবাস করে দারিদ্র সীমার নিচে! তাহলে তারা কি তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে সমাজের কাছ থেকে ঠিক মত বেড়ে উঠার বা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়েছে! হয়তো পাইনি তাদের অধিকারের পরিবর্তে পেয়েছে নিযার্তন আর অবহেলা।

 যেখানে শিশু নির্যাতন আর শিশু অধিকার হরণের হার শুধু বেড়েয় চলছে।
 ----------------------------------------------------------
""মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে
 মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে ।
 তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে
 দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে,
 আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার ’পরে
 টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে ।
 রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
 রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে""

 হয়তো এই নির্যাতনের ফলে এমন কবিতার বাস্তবায়ন আর হবেনা.. হবেনা শুনা..
"" ইঁদুর দেখে মাম্‌দো কুকুর বল্‌লে তেড়ে হেঁকে-
 "বলব কি আর, বড়ই খুশি হলেম তোরে দেখে।"""
 এমন কথার মাধুরতা আর ভাললাগা...

 আমরা চাই প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক নিজের সবটুকু অধিকার নিয়ে.. কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের স্বপ্ন। তাই সেই স্বপ্ন দেখার রাস্তা বন্ধ করে নিজেকে অন্ধকারে ডুবাবেন না। নিজের সন্তানকে যেমন ভালবাসুন তেমনি রাস্তার বা আপনার বাড়ির পাশের ছোট ঘরের কোমল বাবুটিকেও ভালবাসায় কাছে টেনে আনুন।

 প্রিয় কবি সুকান্ত ভট্রাচার্যের কবিতাটি মনে পরছে শুধু...

 ::যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
 তার মুখে খবর পেলুমঃ
 সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
 নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
 জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।
 খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
 উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
 কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
 সে ভাষা বোঝে না কেউ,
 কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
 আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা।
 পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের
 পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
 অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
 এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
 জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
 চলে যেতে হবে আমাদের।
 চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
 প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
 এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
 নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
 অবশেষে সব কাজ সেরে
 আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
 করে যাব আশীর্বাদ,
 তারপর হব ইতিহাস।::

 সকল শিশুর জন্য পৃথিবী হোক স্বপ্ন পুরী..
 

মায়ের ভালবাসার কছে বারবার হেরে যায় আমরা

এমন একটি শব্দ যা বলার সাথে সাথে মন জুড়িয়ে যায়। দেহে ফিরে আসে এক অনাবিল ভাল লাগার আবেশ।
 যার কোন তুলনা নেই -
 যার কোন ভালবাসার কমতি নেই-
 যার কোলে মাথা রাখলে পাই বেহেস্তের আবেশ-
 যার জন্য দুনিয়াতে আসতে পেরেছি-
সে আমার মা।

 মা.মায়া,আম্মা,যে ভাবেই ডাকি না কেন! সে আমার সবচেয়ে আপন জন। দুরে থাকলে মনে হয় দেহ যেন কি এক অদ্ভুত অঙ্গহানী করে ঘুরছে। তোমাকে কিছু দিন না দেখলেয় মনে হয় চোখের কোণে আবেগের ঝর্ণা ধারা বয়ে যাবে।তোমায় কত ভালবাসি তা কখনো পরিমাপের নয়। তার পরেও কত কষ্ট দিয়ে ফেলি !
 সেই দিনটার কথা কখনো ভুলবো না! মনে পড়লেয় অনেক রাগ লাগে নিজের উপর,তোমার উপরেও কিন্তু! ছোট বেলায় যখন সবাই শহরে বাসায় চলে এলাম,আমাকে গ্রামের স্কুলের বন্ধু বান্ধব ছেড়ে শহরে বড় স্কুলে ভর্তি করা হল। কিন্তু আমি বোকা ছেলে! এই স্কুলে যেতে চাইছিলাম না পুরোনো বন্ধুদের, নিজের স্কুল ছেড়ে। সবাই আমাকে বুঝাতে চাইল কিন্তু আমি বুঝতে চাইছিলাম না। অনেক অভিমান লাগছিল। আব্বা শেষে তোমাকে বললো আমাকে বুঝাতে যেন আমি নতুন স্কুলে কাল থেকেয় যাওয়া শুরু করি। তুমি আমাকে বুঝালে! কিন্তু আমি তো আমিই! যাবো না যাবো নাই। তুমি তখন আস্তে করে একটা কথা বলেছিল-
-গাড়ির নিচে পরবো নাকি আমি!

 আমি তোমার কথা শুনে এতই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে মুখে কোন কথা বলতে পারিনি,সোজা ব্যাগ নিয়ে চলে গিয়েছিলাম স্কুলে ।
 রাগ হয় কেন তুমি এত বড় কথা বলেছিলে তা মনে করে! আর নিজের উপর রাগ লাগে কেন এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ছিলাম ।
 শুধু একটা কথায় বার বার জানতে ইচ্ছা করে,
 তুমি এত ভাল কেন?

 সব সংস্কৃতিতেই সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রে মার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।তাই মায়ের সাথেয় তাদের বন্ধনটা শক্তিশালী থাকে বেশি।
 আজ বিশ্ব মা দিবস। ভেবো না দিবস বলেয় লিখছি, তোমার আবেশ পেতে,ভালবাসা পেতে কি আমি দিবসের ধার ধারতে পারি? কখ্খনো না।
 তুমি সব কিছুর উর্দ্ধে। তোমার কাছে যাওয়ার জন্য যদি কোন জাতি,ধর্ম,বর্ণের দুরত্ব বাধা হয়ে দাড়ায় তবু থামবো না বলে রাখলাম!

যদি সমস্ত মানব জাতির জন্যে একটি বিষয় শুধু সত্য হয়, তা হল যে আমাদের সবারই মা আছে। এবং বিশ্বের অনেক দেশেই মাকে শ্রদ্ধা জানানো ও স্মরণ করার জন্যে “মা দিবস” পালিত হয়।
 বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে মা দিবস পালিত হয়। কারণ, দিবসটি উৎযাপনের সূত্রপাত বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। তবে বেশির ভাগ দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিনটি পালিত হয়।
 ওই দিন সবাই তাদের মা কে শুভেচ্ছা জানায়। দিন কাটায় মায়ের সান্নিধ্যে। তবে শহরে এই রীতি দেখা যায়।
 বিশ্বের বিভিন্ন দিবস উদ্যাপনের জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বড়দিন এবংভালোবাসা দিবসের পর মা দিবসের অবস্থান।

 ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং বলেছেন,
""মাতৃত্বেই সকল মায়া-মমতা ও ভালোবাসার শুরু এবং শেষ।""
সময়টা আজ থেকে দেড়শ’ বছর আগের। সপ্তাহের প্রতি রবিবারের সকালটা অ্যানা জারভিসের জন্য একদম অন্যরকম। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে বাচ্চাদের দিতেন বাইবেল পাঠ। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি হতো তার নিজের। এদের মুখাবয়বে খুঁজে পেতেন নিজ মায়ের মুখ। ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় বিনম্র হতে ইচ্ছে করত মায়ের প্রতি। এ বোধ থেকেই ১৯০৫ সালে মাকে ভালবাসা ও সম্মান জানাতে প্রবর্তন করেন মাদার্স ডে বা মা দিবসের। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্বীকৃতি ও প্রসার ঘটে ১৯১৪ সালে।

১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে 'মা' দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। আরও পরে ১৯৬২ সালে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। দেশে দেশে মা দিবস। মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আন্তর্জাতিক মা দিবস হলেও সব দেশ এই দিবসটি পালন করে না। আসলে অনেক দেশেরই আলাদা আলাদা মা দিবস আছে। আর সেই দিনেই তারা মা দিবস পালন করে।বিভিন্ন দেশে এদিন সরকারী ছুটি ঘোষনা করা হয়ে থাকে।

তবে এটা একটা দিবসের থেকেও বেশি কিছু যা কখনোয় একটা দিনের মাঝে আটকে থাকে না। সবাই চায় এই দিনে মাকে খুশি করতে। মায়ের সাথে সময় কাটাতে, মাকে সুন্দর সুন্দর জিনিস বানিয়ে উপহার দিতে আরও অনেক কিছু। মা দিবসে পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে বেরোয়। অবশ্য সবাই যে বাইরে ঘুরতে যায় এমন নয়।
 যারা বাড়িতে থাকে, তারা মাকে খুশি করতে নানান কাজ করে থাকে।

মা! যে শব্দ এক স্বর্গীয় পুণ্যতায় হৃদয়-মনকে অমিয় সুধায় প্লাবিত করে। ত্রিভুবনের সবচেয়ে মধুরতম অপার্থিব শব্দ। মা কথাটি ছোট্ট অতিঃ কিন্তু মধু মাখা। যা বললে মুখে কোন কষ্ট লাগে না,অন্তরে লাগে না ক্লান্তি।

 ইসলাম মাকেই দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, মহামর্যাদা। ইসলামের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন,
‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’মহান আল্লাহ পাক মা'দের অন্তরে সন্তানের প্রতি সৃষ্টি করেছেন এক পরম মমত্ববোধ। সন্তানের কাছ থেকে মা ডাক তাকে ভুলিয়ে দেয় সব দুখ।

সন্তানের প্রতি মায়ের এই তীব্র মমতার ব্যাখ্যায় বিজ্ঞান বলে, মায়ের দুধে এক প্রকার রাসায়নিক যৌগিক পদার্থ আছে-যা সন্তানের দেহে প্রবেশ করলে মা ও সন্তানের মধ্যে চুম্বক প্রীতি ও সৌহাদ্যেরে নিবিড় বন্ধন সৃষ্টি হয়। মায়ের দেহে নিউট্রোপেট্রিক রাসায়নিক পদার্থ থাকায় মায়ের মনের মাঝে সন্তানের জন্য মমতা জন্ম নেয়, মায়ের ভালোবাসার ক্ষমতা বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে আসার আগে সন্তান মায়ের গর্ভে তিলে তিলে বড় হয়। মায়ের দেহ থেকেই খাদ্য গ্রহণ করে। মাকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর নির্দিষ্ট কোন দিন নাই। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মহুর্তের। তারপরও বিশ্বের সকল মানুষ যাতে এক সাথে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে জন্য মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

আমাদের দেশের মায়েরা লুকিয়ে রাখে নিজের যত কষ্ট,সমস্যা নিজের সন্তানের ভালোর জন্য। তারা আগলিয়ে রাখে সন্তানকে, যেন শত্রুরা ক্ষতি করতে না পারে। অথচ আমরা! কত কষ্ট দেই তাদের।বুঝতে চাইনা তাদের মনটাকে। নিজের ভাললাগা ত্যাগ করে তারা আমাদের ভালবাসে,বার বার আমরা হেরে যায় তাদের ভালবাসার কাছে।
 তাই বলতে চাই_

"মা তুমি আমার স্বপ্ন তুমি
 আকুল পাথারের সাথি
 ভালবাসি তোমায় মাগো জানি
 সারা জীবন তোমার পাশে আছি।"

পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি জানাই সালাম।

আমি আর মুটো.

হঠাৎ একদিন লাগল এমন এক ধাক্কা 
 তবে রে! 
 ওমা এতো দেখি
 ওজনে কমচে কম ১৫০ কেজি পাক্কা ! 

 সরি ভাই:
 দেখি নাই মাফ চাই 
 আপনি এত ছোট
 আমাকে বলে মুটো। 


 অবাক হলাম মুটোর ব্যবহারে 
 হাতি তো নিয়মিত কত পিপড়া মারে
 পায়ের তলে পিষ্ট করে
 সিংহ মরে জিরাফের লাথির জোরে।  

 মুটো যদি একবার আমার উপর পরে 
 পরকালের দরজা যাবে এখ্খনি খোলে 
 কোন রকমে বললাম, ইটস ওকে! 
 দিলাম দৌড়, মুটোকে একা ফেলে!

আমি যে কাজ গুলো পারিনা! আপনি?

Impossible= I m possible. এটা সব সময় বিশ্বাস করি। একসময় মনে হত বা ইচ্ছা ছিল পড়াশুনা করে ডাক্তার হবো বা ইন্জিনিয়ার বা এই ধরনের কিছু কিন্তু না এখন আমি মানুষ হতে চাই !
 অবাক হ্ওয়ার কিছু নেই, হে আমি মানুষ হতে চাই আর সেটা নিয়েই পড়াশুনা থেকে শুরু করে সব কিছুতেয় ছড়িয়ে দিয়েছি নিজেকে।
কিন্তু  এমন কিছু কাজ বা অবস্থা বা ঘটনা যা আমি পারি না   ,তা চলুন দেখে নেয় -

২.আমি কোন ধরনের নেশা করি না!
 ৩.আমি ইভ/এডাম টিজিং করি না !
 ৪.নিজে কষ্টে থাকলেও অন্যকে কষ্ট দিতে পারি না!
 ৫.আমি রাস্তার মাঝখান দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হতে পারি না !
 ৬.অন্যের খারাপ কাজ কে প্রশয় দিতে পারি না !
 ৭.আমি বকা দিতে পারি না !
 ৮.আমি পরীক্ষায় নকল করতে পারি না !
 ৯.আমি বাসে ১/২ টাকা ভাড়া নিয়ে ঝগড়া করতে পারি না !
 ১০.দেশের কথা না ভেবে থাকতে পারি না !

 এমন আরো অনেক কাজ আমি পারি না,বা করিনা!:-s আপনি?
 কিন্তু অনেকেয় দেখি এই কাজ করে অনেক মজা পায়
 তাহলে আমি কি মানুষ হওয়ার রাস্তায় নেই? নাকি শুন্যে ঘোরপাক খাচ্ছি!

হাসির কথা-

বিজ্ঞানীরা বলেন হাসলে মন, শরীর ভাল থাকে! তবে প্রতিদিন কত লিটার বা কত কেজি হাসলে ভাল তা তারা বলে নাই! তাই চলুন হাসির রাজ্যে ঝাপিয়ে পরে হাসতে হাসতে নিজেকে ফতুর করে দিন এখানে।
তয় কমন পরলে কিছু করার নাই কারণ ঠোটঁ ঠিকই বেকে বা দাঁত বের হয়ে যাবে-

রাস্তা দিয়ে অলস ভঙ্গিতে এক খালি রিকশা চলে যাচ্ছে। তাই দেখে আমার ভাগ্নি তুরা দোতলার জানালা দিয়ে মাথা বের করে জিজ্ঞেস করলো,
 \"অ্যাই রিকশা যাবে?\"
 রিকশাচালক-হ, যামু। 
 তুরা-ঠিক আছে যাও। 
 -------------------------------------
 ঢাকা টু ময়মনসিংহের বাসে একবার ডাকাত পড়ল! ডাকাত দল পুরো বাস তাদের নিয়ন্ত্রণে নিল! এবার শুরু হবে লুটপাট! ডাকাতের সর্দার ইয়া লম্বা একটা ছোরা বের করে ঘোরাতে ঘোরাতে সবাইকে উচ্চ কণ্ঠে বলছে, ‘দিয়া হালাইন গো, যা আছে সব দিয়া হালাইন!!’
 সবাই যার যা আছে বের করে দিতে শুরু করল! আমার কাকা তাঁর টাকা-পয়সা সব দিতে দিতে ‘দিয়া হালাইন’ কথাটা শুনে আর হাসি ধরে রাখতে পারছিলেন না! হেসেই ফেললেন! তখন ডাকাতের সর্দার তাঁর হাসি দেখে চোখ গরম করে বলে উঠল, ‘দিয়া আবার হাসুইন? এক্কেরে কাইট্টা হালবাম!’ 
 -------------------------------------------
 এক গরু আর এক ছাগল মাঠে ঘাস খাচ্ছিল।
 কথা কাটাকাটি শুরুর পর এক পর্যায়ে গরু ছাগলকে বলছে:
 গরু: বেটা ছাগল, তুই আসলেই একটা গরু।
 তখন ছাগল উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলো:
 ছাগল: আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি একটা ছাগলের মতো কথা বলছেন। :l
 ----------------------------------------------
 সার্জেন্ট হাত দেখিয়ে একটি গাড়ি থামাল; তারপর ভিতরে উকি দিল
 : গাড়ি থামানোর জন্য দুঃখিত, রাউন্ড চেক আপ চলছে … একজন দাগি আসামি পালিয়েছে কি না।
 এমন সময় গাড়ির পেছনের ডালা থেকে টোকার আওয়াজ শোনা গেল, তারপর একটা মৃদু কন্ঠ-
 : আমরা কি বর্ডার পেরিয়ে গেছি?  
 ------------------------------------------
 পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে ৭/৮ জন খুনের আসামি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাহাড়ের পাশ দিয়ে বন্ধুর পথ ধরে ছুটে চলেছে গাড়ি … হঠাৎ করে রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে আক্রমণ করল এক দল সন্ত্রাসী। গার্ডকে হত্যা করে দরজা ভেঙে খুনিদের মুক্ত করে দিল। কিন্তু একজন খুনি পালাল না। প্রিজন ভ্যানে বসে রইল।
 পরে পুলিশের রেসকিউ টিম এসে তাকে প্রশ্ন করল “কী ব্যাপার সবাই পালাল তুমি রয়ে গেলে যে?”
 “মাথা খারাপ ! এই বনজঙ্গলে গাড়িঘোড়া পাব কোথায় যে পালাব? :
 ------------------------------------------
 গির্জায় কনফেশন চলছে—
 : ফাদার, আমি একটি মুরগি চুরি করেছিলাম। সেটা নিয়ে আপনি আমাকে পাপমুক্ত করবেন?
 : না, এভাবে হয়না, তুমি যার মুরগি তাকে ফেরত দিয়ে আসো।
 : ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু মুরগির মালিক ফেরত নিতে চায় না।
 : সে ক্ষেত্রে তুমি পাপমুক্ত। কারণ তুমি মুরগির মালিককে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেছিলে।
 মুরগিচোর খুশিমনে মুরগি নিয়ে বাড়ি চলে গেল। ওদিকে পাদ্রি বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁর মুরগিটি নেই।  
 ---------------------------------
 - হ্যারে, স্বর্গে কি ক্রিকেট খেলা হয়?
 - অবশ্যই হয়। আমি স্বপ্নে গতকালই তো দেখলাম, স্বর্গে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। আর আগামী পরশুতো তুই ব্যাট করছিস।:-C:-C
 -------------------------------------
 নিয়োগকর্তা - আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা

 আবেদনকারী- আজ্ঞে এফ, এস, সি স্যার

 নিয়োগকর্তা - বা ভাল তারপর বলুন এই যে আপনাকেই বলছি , আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি

 অপর আবেদনকারী (পুত্র) - আজ্ঞে বি এস, সি , স্যার

 নিয়োগকর্তা- বেশ খুশি হলাম । তা আপনার? হ্যা আমি এই ম্যাডামকে বলছি। আপনার কোয়ালিফিকেশন জানতে চাইছি । মহিলা আবেদনকারী (মা) - আজ্ঞে এম, এস,সি

 নিয়োগকর্তা- বা । আপনারা দেখছি সবচেয়ে ভাল শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখেন ।

 স্যার আপনি একটু বোধ হয় ভুল করছেন

 নিয়োগকর্তা - কেন? কেন ?

 মহিলা- আজ্ঞে এম, এস, সি মানে মাদার অব সেভেন চিলড্রেন

 পুরুষ- আজ্ঞে আমি ফাদার অব সেভেন চিলড্রেন ।

 ছেলে- আমি ব্রাদার অব সিক্স চিলড্রেন :-C
 --------------------------------------
 রাস্তায় হোঁচট খেয়ে স্ত্রীর ওপরের ঠোঁটে আঘাত লাগায় স্ত্রীকে নিয়ে বিটলু গেছেন চিকিৎসকের কাছে।
 চিকিৎসক ওষুধ দিয়ে বিটলুর স্ত্রীর ওপরের ঠোঁটে একটি পট্টি মেরে দিয়ে বললেন, ‘আর কোনো সমস্যা নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।’
 বিটলু চিকিৎসকের কানে কানে বললেন, ‘ওর দুটি ঠোঁটেই পট্টি মেরে দিতে ফি কত দিতে হবে, স্যার।’ 

বানর ও কুমিরের বন্ধুত্ব(বুদ্ধির জয়)

এক বনে ছিল এক বানর। বনের সবচেয়ে মিষ্টি আঙুর ফলের গাছটিতে সে থাকতো। সেই বনের পাশেই বয়ছিল নদী। নদীর ওপারে থাকতো্ এক কুমির তার বউকে নিয়ে। প্রতি দিন কুমির এপারে নদীর তীরে এসে রোদ পোহাতো আর বানরের সাথে গল্প করতো।
 এভাবে তারা অনেক ভাল বন্ধু হয়ে গিয়েছিল। একজন আর একজনকে এক দিন না দেখলে থাকতে পারতো না। তা্ই কুমির প্রতিদিন আসতো বুানরের কাছে। সুখ দুঃখের কথা বলতো। আর বানর তাকে মিষ্টি মিষ্টি আঙুর খা্ওয়াতো।
কুমির বাড়ি ফিরে বউয়ের সাথে বলতো-
-জানো নদীর ওপারে আমার এক বানর বন্ধু আছ। সে অনেক ভাল ।আমাকে প্রতিদিন মিষ্টি আঙুর খেতে দেয়,কি যে মজা সে আঙৃর।বন্ধুকে বলে মিষ্টি আঙুর নিয়ে আসবে।
 --তাই বুঝি? তো প্রতিদিন একা একাই খেয়ে আসো আর আমার কাছে গল্প করো বসে! আমার কি খেতে ইচ্ছা করে না! কাল আমার জন্য তোমার
 কুমির পরের দিন আসল বন্ধুর কাছে।
-বন্ধু ও বন্ধু তুমি একা একা সারাদিন বসে বসে মিষ্টি আঙুর খা্ও আর আমি আসলে আমাকে দা্ও,এই কথা আমি আমার বউকে বলেছি। সে তো তোমার গাছের আঙুর খেতে চাইছে।
 --বন্ধু আসলে আমারি ভুল হয়েছে। আমার উচিত ছিল ভাবির জন্য কিছু আঙুর দিয়ে দেয়ার।
 ঠিক আছে আজ ভাবির জন্য কিছু দিয়ে দিচ্ছি। দাঁড়াও মগ ডাল থেকে পাকা পাকা আঙুর এনে দিচ্ছি।
 আর ভাবিকে আমার কথা বলো কেমন।আজ তবে যা্ও।

 কুমির বাড়ি ফিরে বউকে আঙুর খেতে দিল। বউটি ছিল অনেক লোভী আর অহংকারী। সে আঙুর খেয়ে ভাবতে লাগল- আঙুর এত মিষ্টি সুস্বাদু তা বানর প্রতিদিন খাচ্ছে আর আমরা কিছুই না! তাহলে না জানি বানরের কলিজাটা কত মিষ্টি আর সুস্বাদ হবে!
 তাই সে বানরের কলিজা খা্ওয়ার বায়না ধরলো স্বামীর কাছে।
-হয় তুমি আমাকে বানরের কলিজা খা্ওয়াবে না হলে আমি তোমার সংসারে নেই। আমি চললাম।
 --আহা তুমি বুঝতে পারছো না কেন। বানর আমার ভাল বন্ধু আমি কেমন করে তার কলিজা এনে দেয়! এতে তো সে মরে যারে!
 -আমি এত কিছু বুঝিনা। হয় কলিজা দিবে না হলে আমি থাকবোনা বলে দিলাম!
 --ঠিক আছে দেখি কি করা যায়

 ভাবতে ভাবতে কুমির বানরের কাছে আসলো।

 -বন্ধু তোমার আঙুর খেয়ে বউ খুশি হয়েছে। তোমাকে আজ সে আমার বাড়িতে দা্ওয়াত দিয়েছে।
 বানর অনেক খুশি হল শুনে কিন্ত,
-বন্ধু আমি তো সাতার জানি না। এই নদী পার হবো কেমন করে।
 -সমস্যা নাই বন্ধু তুমি আমার পিঠে চড়ে বস। আমি তোমাকে ওপারে নিয়ে যাব আমার বাড়িতে।
 -ঠিক আছে তাহলে দাড়া্ও আমি আরো কিছু মিষ্টি আঙুর নিয়ে আসি ভাবির জন্য।
 কুমিরের পিঠে বসে নদী পার হচ্ছে বানর। আর গান গাইছে মনের সুখে .
মাঝ নদীতে এসে কুমির বানরকে বলে,
 -বন্ধু তোমাকে তো বলা হয়নি। আসলে আমার বউ বলছিলো যে,তুমি এত মিষ্টি আঙুর খা্ও না জানি তোমার কলিজাটা কত মিষ্টি! সে তোমার কলিজা খেতে চেয়েছে। তাই তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি!
 এই কথা শুনার পর বানরের বুঝতে আর বাকি রইলো না যে তার বন্ধু বেইমানি করছে।নিজের বউয়ের জন্য বন্ধুর জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাঝ নদীতে বানর বুঝতে পারছে না কি করবে।

-বন্ধু এটা তো ভাল কথা,ভাবি আমার কলিজা খেতে চেয়েছে। ঠিক আছে খাবে।
 কিন্তু বন্ধু সমস্যা হচ্ছে কলিজা তো আমি সাথে নিয়ে বের হয়নি! ভাবলাম নদীতে যাচ্ছি যদি কলিজা পরে যায়! তাই সেটা গাছের আগাই রেখে এসেছি।
 ভাবি যেহেতু খেতে চেয়েছে তাহলে চলো আবার গাছের কাছে, কলিজা নিয়ে আসি।

 কুমির ভাবলো ঠিকই তো! হতেই পারে। কলিজা ছাড়া গেলে বউ আবার চলে যাবে তার থেকে, গাছ থেকে পেরে নিয়ে যা্ওয়ায় ভাল।
 তারা তখন উল্টা সাতরে গাছের কাছে চললো।
পারের কাছাকাছি আসতেই বানর এক লাফে নেমে তিন লাফে গাছের মগ ডালে উঠে গেল!
-বন্ধু আমি তোমাকে বিশ্বাস করে তোমার সাথে গিয়েছিলাম আর তুমি বউকে খুশি করার জন্য আমাকে মারতে চেয়েছিলে! এই তোমার বন্ধুত্বের খেলা।
 আরে বোকা কুমির কলিজা কি কেউ গাছে রাখে! কলিজা থাকে দেহের ভিতরে।

 -সংগ্রহ করা গল্প-

আমার মনের গল্প

ও আমার দেশের মাটি……… রিং টোনটি বেজেয় যাচ্ছে! প্রতিদিনকার মত আজকেও বাজছে আর আমি প্রতিদিন যা করি! না দেখেই কেটে দিলাম! আরে ভাই ফোন কেটে দেয়ার মানে হল আমি ব্যস্ত আছি মানে ইউজার বিজি এটা বুঝো না! যত্তসব আবার ফোন! না আর শুয়ে থাকতে পারলাম না। ঘুমের আবেশেয় রিসিভ করলাম-

-হ্যালো
 -এই তুমি ফোন ধরছো না কেন? সেই কখন থেকে ফোন দিচ্ছি।
 –ও তুমি!
 সরি বললেও কাজ হবে না আজ কথার ঝাজ থেকেয় বুঝলাম।
 -না মানে তুমি তো কখনো ফোন দাওয়া আমাকে এত সকালে তাই।
 -হুম তাই তুমি আমার ফোন ধরবে না?
 –সরি বেবি অনেক অনেক সরি আর হবে না।
 তো এত সকালে কেন ফোন দিলে বলো?
 রেনেসা বললো আমাকে অনেক নরম গলায়,আজ সেই দিন।
 -কোন দিন বলো তো?
 -তুমি ভুলে গেলে? আজ আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল।
 -ও হে হে মনে পরেছে। তুমি পার্কের শেষ মোড়ে চলে আসো আমি আসছি এখনি।

 ও আপনাদের তো রেনেসার কথা বলায় হয়নি। আমার অনেক ভাল বন্ধু,সুখ দুখের সাথী সবচেয়ে বড় কথা হল আমার মন। কারন আমি আমার মনটাকে তার মাঝে খুজে পেয়েছি। মেয়েটার মন অনেক বড়,মানসিকতা বিশাল। মাঝে মাঝেয় আমি হেরে যায় শুধু তার মনটার কাছে।
 একটি ক্যম্পে গিয়েছিলাম সেবার সিলেটে। বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করার সুবাদে মাঝে মাঝেয় যায় আর কিভাবে দেশের দশের ভাল কিছু করা যায় তা নিয়ে কথা বলি আর পরিকল্পনা করি আমার মত অনেক তরুনদের নিয়ে। নিজের মনটাকে এখন এমন ভাবে গড়ে তুলেছি যেখানে মনটাকে কখনো দুখ আর রাগের বসবতি করা যায় না। চোখ খুজে ফেরে চারদিকে আমার মনের মত একটা মনের। প্রথম দিন পরিচয় পর্ব হল সবার সাথে। আর বুঝতে পারলাম দেশের তরুন প্রজন্ম অনেক সচেতন নিজের অধিকার নিয়ে। তারা এখন ভাবে দেশের ভাল নিজের না।
 প্রথম দিন ক্যাম্পে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ হয়েছিল। অনেক ইতিবাচক কিছু কথা শেয়ার করলাম সবার সাথে। আমার ধ্যান ধারনা সর্ম্পকেও কিছু কথা বললাম। যখন ক্যাম্প পুরোপুরি শুরু হল তখন একটা বিষয় খেয়াল করলাম,একটি মেয়ে এত সুন্দর সুন্দর প্রশ্ন করছে,মতামত দিচ্ছে আর ইতিবাচক ভাবে সবার মতামত নিচ্ছে। অনেক ভাল লাগল বিষয়টি।কারন আজকালকের মেয়েরা নাকি দেশ বা মানুষ নিয়ে ভাবে না এমনটা অনেকেয় বলতো! তাদের কথা যে ভুল সেটা বুঝতে পারলাম।
-হ্যালো ভাইয়া আপনার সাথে কি কথা বলতে পারি?
 –জি বলুন, আমার নাম রওনক।আপনি?
 -আমি রেনেসা। ১ম বর্ষে পড়ছি আইন বিষয় নিয়ে। ভাইয়া আপনার কাছ থেকে কিছু শিখতে আসলাম।
 –হুম আমি ৩য় বর্ষ একই বিষয়।
 আমি তো অবাক! বলে কি এই মেয়ে আমার কাছ থেকে কি শিখবে! আমি কি জানি সেটা তো আমি নিজেই জানিনা!
 প্রথম কথা হয়ে ছিল রেনেসার সাথে। কেমন যেন একটু ভাল লাগা বা শান্তি শান্তি বোধ করলাম! নিজেও জানি না কেন,আজো বুঝিনি!
 মানুষের মনটা যত বড় হবে সে মানুষ হিসাবে তত ভাল এটা সবাই জানি কিন্তু কয়জন হতে পারি! ঢাকায় চলে আসার ২ দিন পর হঠাৎ করে দেখি একটি মেয়ে রাস্তায় এক লোকের সাথে ঝগড়া করছে!
 কি বিষয়?
 একটা আহত পাখি রাস্তায় পরে ছিল সেটা একজন চাইছে হাসপাতালে নিতে আর এক ভদ্র লোক( অভদ্রই হবে মনে হয়) চাইছে বাসায় নিয়ে যেতে,তার ছেলের নাকি পাখি পালার শখ।
 কাছে গিয়ে চিনতে পারলাম। হে রেনেসাই তো!
 ওকে নিয়ে (সাথে পাখিটিও ছিল) গেলাম পশু হাসপাতালে।
-আপনি সামান্য পাখির জন্য রাস্তায় ঝগড়া করছিলেন কেন?
 – আমি কষ্ট দেখতে পারি না। জানেন ইচ্ছে করছিল ওই লোককে এক লাথি দিয়ে… না থাক!
 আর কোন কথায় বলতে পারি নি সেদিন দুইজনে।শুধু বলেছিলাম কাল লেকের ধারে আসবেন?
 একটি বছর চলে গেল! এই না সে দিন প্রথম তোমায় আমি তুমি করে বলা শুরু করলম,তোমার হাতটি ধরে চলতে শুরু করলাম। আর দুইজনে মিলে দেশ,রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত বিতর্ক, ঝগড়া শুরু করলাম!
 আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবছি না। যা হবার তা হবে সেটা সময় কথা বলবে। আমরা অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছি এখন,যেখানে কোন মানুষ কষ্টে থাকবে না।
 রেনেসাকে নিয়ে রাস্তায় হাটলে প্রতিদিন কোন না কোন সমস্যা হবেই! আর আমার পকেট খালি করে বাসায় ফিরি! আজ এই বাচ্চাটাকে টাকা দাও কাল ওই ছেলের জামাটা ছিড়া কিনে দাও। রিকসা ভাড়া দরকার হলে ৫ টাকার বেশি দাও!
 আমি টাকা কই পাই? আমি কি চাকুরি করি, নাকি টাকার গাছ লাগিয়েছি!
 যদিও চাকরি করার কোন ইচ্ছাই নেই আমার। কারন আমার কথা হচ্ছে আমি কেন অন্যের অফিসে চাকরি করবো! আমি অন্যকে আমার অফিসে চাকরি দিবো বলেয় মাঠে নেমেছি।
 তাই এখন বাবা,বড় ভাই আর আপু-দুলাভাইকেই নিজের ব্যংক মনে করে চলছি।তারাও কিছু বলে না! কারন আমার মন মানসিকতা ভিন্ন এটা তারা বুঝে গেছে। সে যায় হোক-
 লেকের ধারে বসে আছি ,রেনেসা নিশ্চয় আজ কাল শাড়ী পড়বে। কারন এটাই তার প্রিয় রং
 -সে বলে যে রংটা সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারি সেটাই তো প্রিয় হওয়া উচিত!
 আমি অবশ্য দিনের ৮০% সময় কালোর উপরে বাস করি।
 কিন্তু রেনেসার সাথে উনি কেন? ওর মা! অপমান নিশ্চয় আজকে মাথায় নিয়ে যেতে হবে!
 রেনেসা অনেক বড় মনের মানুষ কিন্তু তার মা! আল্লাহ জানে কি আছে কপালে.আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম গুন্ডা-বাহিনী ভাড়া করা আছে কিনা! বলার সাথে সাথে ঝাপিয়ে পরবে আমার উপর!
 কিন্তু আশেপাশে কেউ নেই দেখি!
-আসসালামু আলাইকুম সালাম আন্টি। কেমন আছেন?
 –তাহলে তুমিই সেই বড় মনের দিল দরিয়া যে আমার কচি মেয়েটাকে ভালবাসে!
 - জী,মানে জী আসলে আমি…জী
 –পড়াশুনা শেষ করে নাকি চাকরি করবে না শুনলাম? তাহলে ওই যে চাকরি দিবে, সেটাই বা শুরু করছো না কেন?
 যাক বাচলাম! মেয়ের মা তো দেখি মেয়ের চেয়েও ভাল মনের মানুষ। আর ভদ্র ও র্স্মাট।
 -পড়াশুনা শেষ করে কাজে নেমে পরো আর তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম দিবে।কারন আমার মেয়ের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে সে খারাপ কাওকে ভালবাসবে না।
 -জী আন্টি। ভাল থাকবেন। আর অবশ্যয় বলবো।
 হার্ট বিট বেড়ে গিয়েছিল! সব ছেলেদের মনে হয় এমন হয়।ভালবাসি যাকে তাকে পাওয়ার জন্য না জানি আর কত শত বার হার্ট বিট বাড়বে!
 -তুমি আমাকে বলবে না তোমার মা আসবেন সাথে? উহ যা ভয় পেয়েছিলাম!
 –মজা করবো ভেবেছিলাম তাই বলিনি।
 সত্যি রেনেসা তুমি পারও এমন ছেলেমানুষি করতে। এই কারনেয় তোমায় এত ভালবাসি আমি এত বেশি যা বলতে পারছি না।
 রেনেসা দেখতে বার্বি পুতুলের মত। অনেক বেশি চন্ঞল কিন্তু দেখে বুঝার উপাই নেই! এক মাত্র তার সাথে মিশলেই বলা যাবে।অনেক মুক্ত মনের সব কথায় আমার সাথে শেয়ার করে আর তার কারনও বণর্ণা করে কেন বলছে!
 তার যে গুনটা আকর্ষন করবে তা হল আবৃত্তী। এত সুন্দর আবৃত্তীর উচ্চারন আর কন্ঠ যা শুনলে মনে হবে… (বিশেষন দিতে পারছি না)
 আমি দেখতে যেমনি আছি তার কাছে এটা নাকি কোন ব্যাপারই না! আমি খাট,দেখতেও তেমন আকষর্ণীয় না এই সব কথা বা ভাবনা নাকি তার মাথাতেও আসে না। সে নাকি আমার মনটাকে ভালবাসে আর আমর কাজকে।
 রিকশা নিয়ে কখন যে আমরা হারিয়ে গেলাম কোলাহলের বাইরে টেরই পেলাম না।

 -তোমার কাছে থাকলে আমি স্বপ্ন দেখতে পাই নতুন করে বাঁচার!ভাল কাজ করতে উৎসাহ পাই এখন তোমার কাছ থেকে আর ভাবি তুমিই আমার শত জনমের সাথী।
 হতে পারে কথা গুলো কাব্যিক! কিন্তু এটাই এখন সত্য আমার কাছে
 বলে ছিলাম এক দিন তাকে-
আমি তোমার জন্য পারবোনা আকাশের চাদ এনে দিতে
 পারবোনা কবির কথার মত ছায়া হয়ে থাকতে
 জানাতে পারবোনা তোমার সব কথার মানে
 সত্যি বলছি পারবো না তোমার জন্য ছয় তলা থেকে এক লাফে নামতে
 পকেটে টাকা না থাকলে ভিক্ষা করতে পারবো ভিক্ষুকের জন্য
 কিন্তু তোমার জন্য নহে!
 কিন্তু আমার আছে একটা সুন্দর মন
 যা সব সময় তোমায় ভালবেসে
 তোমার ভাল চেয়ে যেতে পারবে।
 ভালবাসবে কি আমায়?
 তুমি বলেছিলে শুধু,
 হুম, ভালবাসি তোমায়
 চাইনা কোন কাব্যিকতা ভালবাসায়।

 হাতটি ধরে চললাম আমরা দিগন্তের দিকে...

সত্যি বলছি পারবো না

আমি তোমার জন্য পারবো
 না আকাশের চাঁদ এনে দিতে
 পারবো না কবির কথার মত
 ছায়া হয়ে থাকতে!
 জানাতে পারবো না তোমার
 সব কথার মানে।
 পারবো না হয়তো শুধু
 তোমার জন্য গল্প কবিতা লেখতে!
 সত্যি বলছি পারবো না তোমার জন্য
 ছয় তলা থেকে এক লাফে নামতে !
 পকেটে টাকা না থাকলে ভিক্ষা করতে পারবো ভিক্ষুকের জন্য
 কিন্তু তোমার জন্য নহে!
 পারবো না তোমায় নিয়মিত তেল মারতে
 হয়তো তোমার পিছনে পারবো না দিন রাত ঘুরতে!
 এ কথাও জেনো তোমায় নিয়ে গাথঁবো
 না মালা মিথ্যার মায়া জালে
 তোমায় আমার সব দিয়ে দিব পারবো না
 এ কথাও বলতো!
 পারবো না শুনাতে তোমার নিয়মিত তোমার
 প্রিয় গানটি,কারন আমারো আছে প্রিয় একটি!
 সব ভেঙে চুরমার করে তোমার জন্য পারবোনা
 হরতালের দিনে রমনার বটমূলে বসতে!
 পারবো না ১০১ টা নীল পদ্দ্য আনতে
 মহা সংসার তন্ন তন্ন করে খুজে।
 তোমার সুখের জন্য পারবো না তোমার
 বাবার দেয়া যৌতুক ঘরে তুলতে।
 হয়তো তোমার জন্য মার্সিডিজ আনবো কিন্তু
 পারবোনা নিয়মিত লং ড্রাইভে যেতে!
 স্বপ্ন সুন্দর আর সত্য নিয়ে বাঁচবো তাই
 পারবোনা তোমার জন্য মিথ্যার ঢালী ভরতে।
 কিন্তু আমার আছে একটা সুন্দর মন
 যা সব সময় তোমায় ভালবেসে
 তোমার ভাল চেয়ে যেতে পারবে সারাজীবন
 ভালবাসতে পারবে কি বল আমাকে?