কিছু কিছু মানুষ আছে,বলা হয়ে থাকে তারা নিজেকেও ছাড়িয়ে যান। তেমনি একজন ছিলেন-মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন।পরবর্তিতে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে হয়ে যান মিকাঈল জ্যাকসন।
বাংলাদেশের মানুষের সাথে মাইকেলের অন্যরকম এক ভালবাসা ছিল! হে সত্যিই অন্যরকম ভালবাসা- দেশের যে কোন মানুষকে(কৃষক থেকে মন্ত্রী) যদি একজন ইংলিশ গায়কের নাম জিজ্ঞাসা করুন তাহলে একটাই জবাব পা্ওয়া যাবে। আর তা হল মাইকেল জ্যাকসন। তাই বলছি মাইকেল আমাদেরই একজন।
বাংলা গানে মাইকেল কে নিয়ে বলা হয়েছে-
আউল বাউল লালনের দেশে
মাইকেল জ্যাকসন আইলো রে...
আট বছর বয়স থেকে ভাইদের সঙ্গে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ নামে এক ব্যাণ্ডে গাইছেন এবং নাচছেন। স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, তবু সেই শিশুর গান দেখার জন্য সারা ডেট্রয়েট শহর উত্তাল। মাইকেল জ্যাকসন শৈশব থেকেই তারকা। এবং তার চেয়েও বড় সত্য অন্যত্র। মাইকেল জ্যাকসনের কোনও শৈশব ছিল না। রিহার্সালের সময় বাবা হাতে চাবুক নিয়ে বসে থাকতেন, সামান্য ভুলচুক হলেই বেধড়ক মার। শৈশবহীন মাইকেল জ্যাকসন শৈশবের ছবিই স্বপ্ন দেখেছেন আর ছোয়ে যেতে চেয়েছেন সারাজীবন।
২৯ আগষ্ট,১৯৫৮ এক আ্ফ্রো-আমেরিকান পরিবারে জন্ম তার। জ্যাকসন পরিবারের ৭ম সন্তান মাইকেল মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭১ সাল থেকে মাইকেল একক শিল্পী হিসাবে গান গাইতে শুরু করেন।
১৯৮০র দশকে মাইকেল পপ সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছান। তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী যিনি এমটিভিতে এতো জনপ্রিয়তা পান। বলা হয়, তাঁর গাওয়া গানের ভিডিওর মাধ্যমেই এমটিভির প্রসার ঘটেছিলো। গানের তালে তালে মাইকেলের নাচের কৌশলগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাইকেলের জনপ্রিয় নাচের মধ্যে রবোট, ও মুনওয়াক (চাঁদে হাঁটা) রয়েছে। মাইকেল তার নাচের স্টাইলের জন্য + সুন্দর গায়কির জন্য বিখ্যাত হয়ে যান অনেক তাড়াতাড়ি।
ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে তার প্রযোজক বন্ধু ও গীতিকার ডেভিড ওয়ার্নসবি ও ফিলিপ বুবাল তাকে সহায়তা করেন। তারা তাকে বুঝাতে সক্ষম হন তারা ইসলাম গ্রহণ করে কিভাবে সুন্দর জীবন যাপন করছেন। তার প্রযোজক ও গীতিকার বন্ধু ডেভিড ওয়ার্নসবি এবং ফিলিপ বুবালের অনুপ্রেরণায় ‘দ্যা ওয়ে ইউ মেইক মি ফিল’ শীর্ষক গান রেকর্ড করার সময় তিনি নতুন ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। মিকাঈল বা মোস্তফা যে কোন একটি নাম তাকে গ্রহণ করতে বলা হয়। তিনি মিকাঈল নাম গ্রহণ করেন। মিকাঈল হল পবিত্র চার ফেরেশতাদের মধ্যে একজন। জ্যাকসনের ভাই জেরমেইন ১৯৮৯ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম হল শান্তির ও সুন্দরের ধর্ম। ২০০৮ সালের ২১ শে নভেম্বর তার ইসলাম গ্রহণের খবরটি প্রকাশ পাই।
আজ পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এর প্রাক্কালে পৃথিবীজুড়ে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, প্রয়াত পপসম্রাট সর্বকালের সেরা শিল্পীদের অন্যতম।
মাইকেল জ্যাকসন একজন পপ তারকা হিসেবে যত খ্যাতি অর্জন করেছেন তার চেয়ে অনেক বেশী সমালোচিত হয়েছেন তার কর্মকান্ডের দ্বারা। নিজের চেহারা বদল করে তিনি বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেন। সঠিক মূল্যবোধের অভাবে তিনি অনেক সময় বিতর্কিত কাজের সাথে জড়িত হয়েছেন। অবশেষে সব বিতর্ককে দুমড়ে-মুচড়ে জ্যাকসন ইসলামের ছায়াতলে নিজেকে বিলীন করে দিলেন। শান্তির সুশীতল ছায়ায় নতুন করে তার জীবন আবার শুরু করলেন। নিজেকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন মানুষের মাঝে। বিশ্ব জুরে আয়োজন করতে চেয়েছিলেন নিজের কনর্সাট এবং সেটার জন্যই অনুশীলন করছিলেন দিন রাত।
কিন্তু যেভাবে নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন সেভাবেই হারিয়ে গেলেন আমাদের মাঝ থেকে। রাত ১২.০৫ মিনিট ২৫ জুন মাইকেল চলে যান আমাদের ছেড়ে। রেখে যান তার সব র্কীতি মানুষের তরে।
নাম : মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন।
জন্ম : আগস্ট ২৯, ১৯৫৮ ইং
জন্ম স্থান : গেরি, ইন্ডয়ানা যুক্তরাস্ট্র।
মৃত্যু : জুন ২৫, ২০০৯ ইং
প্রিয় মাইকেল, আপনার আত্না শান্তিতে থাকুক!
মৃত্যুস্থান : লসএঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাস্ট্র।
পেশা : গায়ক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, লেখক, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, অভিনেতা ইত্যাদি।
কর্মজীবন : ১৯৬৭ - ২০০৯ ইং
প্রিয় মাইকেল,শ্রদ্ধাভরে স্বরন করছি তোমায়। তোমার এক ভক্ত, প্রার্থনা করছি তোমার আত্না শান্তিতে থাকুক।

মাইকেল জ্যাকসন এর মতো অদ্বিতীয় আর কেউ ই কখনোই হতে পারবে না ইনশাআল্লাহ্ ।
উত্তরমুছুনOne & only legend that's Michael Jackson.