সব দেশের কিছু না কিছু থাকে যা অমূল্য সম্পদ। যাকে ঘিরে গড়ে উঠে স্বপ্ন আর জীবন।
যার টানে বারবার ছুটে যেতে চায় মন। তেমনি এক সম্পদ, বঙ্গোপোসাগরের পূর্ব উপকূলেকক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
দিগন্ত যেখানে মাথা নুয়ে চলে। উত্তাল সমুদ্রের মাঝিদের গান হঠাৎ যেখানে কানে বাজে। নীল জলরাশির ফেনায় ভর করে মন যেথায় নাচে অজান্তে! বিশালতার মাঝে নিজেকে খুজে ফেরার তাড়নায় উৎকন্ঠিত আর সারি সারি ঝাউ বনের ফাকে তপ্ত রোদে গরম বালুর পরশ। সব মিলিয়ে এক অনাবিল,অন্যরকম মোহ কাজ করে নিজের মাঝে।
একসময় হলুদ ফুলে ছেয়ে ছিল গোটা কক্সবাজার। তাই নাম হয়ে ছিল এর প্যানোয়া যার অর্থ-হলুদ ফুল। হলুদ ফুলে ঝকমক করত তাই পরবর্তীতে নাম হয় পালংকী।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য সম্পর্কে ছিলেন উদাসীন। ব্রিটিশ শাসনামলে একজন ইংরেজ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স অষ্টাদশ শতকে পালতোলা কাঠের জাহাজে করে এখানে এসে নামেন।* ১৭৯৯ সালে তিনি এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন। পরবর্তীতে হিরাম কক্সের নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয় কক্সবাজার নামে।
বিট্রিশদের দেখানো সুন্দর্য্যে আস্তে আস্তে এটি হয়ে উঠে সুন্দরের লীলাভূমি।
মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারকে করেছে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়অ ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুটকিমাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার শীর্ষে।

এত দিন শুধু বইয়ে পড়েছি। দেখেছি ছবিতে বা টিভিতে। প্রথম বাবের মত সুযোগ পেয়ে চলে গেলাম বিশালতা উপভোগ করতে। বাস থেকে নেমে এক মূর্হুত দেরী করতে পারি নি সুন্দরের পূজারী আমি এই অপূর্ব রুপ আস্বাদন করতে। সামনে বিশাল সমুদ্র আর আমি কি ক্ষুদ্র! নিজেকে খুজে ফেরা ছাড়া আর কোন অনুভতি কাজ করছিলো না।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত এবং সূর্য্যদয় ও সূর্য্যাস্ত দেখার সেরা জায়গা এই সৈকত। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সব আয়োজন। আকাশে যদি একটি চাদঁ থাকে তাহলে তো কথায় নেই! সুন্দরে বিমোহিত হয়ে আপনি পাগল হয়ে গেলেও কিছু করার থাকবেনা।
সমুদ্র সৈকতের চারপাশেই রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর সব প্রাকৃতিক আয়োজন আপনার জন্য।
রয়েছে বিশাল সমুদ্রের সৈকত ভাগ করে বাহারি নামের অংশ।
যেমন- কলাতলী পয়েন্ট,সুগন্ধা পয়েন্ট,লাবণী পয়েন্ট,ইনানী বিচ,হিমছড়ি।
রয়েছে দ্বীপ, সমুদ্রের গভীরে- মহেশখালী দ্বীপ,ছেড়াদ্বীপ, সেন্টমার্টিণ দ্বীপ, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সহ ছোট অনেক দ্বীপ।
সেন্টমার্টিন আর মহেশ খালির কথা আলাদা ভাবেই বলতে হয়। কম্পিউটারে বা পর্দায় আমরা যে সব ওয়ালপেপার দেখি তা যদি বাস্তবে দেখতে চান তাহলে চলে আসুন সেন্টমার্টিন। নারকেল জিন্জিরা বলা হয়ে তাকে। কেই যদি আমাকে নির্বাসনে পাঠায় তাহলে আমার একটাই অনুরোধ থাকবে যেন সেটা সেন্টমার্টিন হয়।
গানে বলা হয়েছিল-
যদি সুন্দর একটা মন পাইতাম
মহেশখালির পান খিলি তারে বানাইয়ে খাওয়াইতাম।
কথা গুলো যে এমনি বলা হয় নি তা বুঝতে পেরেছি মহেশখালির মিষ্টি পান খেয়ে। জীবনের প্রথম পান খাওয়া শুরু করলাম আমি এই মহেশখালির পান দিয়ে। বিশাল সব মাঝ ধরার যান আর মানুষের অতিথি পরায়নায় মুগ্ধ হয়ে যাবেন। এই সুন্দর্য্য ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। একে ছবিতেও বুঝানো যায় না। একে মনরে ভিতর পুষে রাখতে হয় সযতনে।
যখন আপনি হিমছড়ি পাহাড় থেকে উত্তাল সমুদ্রের দিকে তাকাবেন মনে হবে যেন আকাশে উড়ে উড়ে জল রাশি খেলা করছে আর সামনে শুধু ছবির মত আঁকা কিছু নড়াচড়া শুরু করেছে।
এক সময় হিমছড়িতে অনেক বড় বড় ঝরনা ছিল কিন্তু এখন শুধু তার অস্তিত্ব আছে নেই সেই ঢাল।
সৈকতে আপনার বিনোদনের জন্য অনেক আয়োজন রয়েছে। পানিতে ঝাপাঝাপি করুন ইচ্ছে মত। তবে সাবধানে। ঘোড়ায় চড়ে সৈকতে ঘুরতে পারবেন। স্পিডর্বোডে গভীর সমুদ্রে যেতে পারবেন। তপ্ত রোদে বালুকাবেলায় আয়েশ করতে পারবেন। ডাবের পানি খেয়ে আপনার পেট ভরে যাবে কিন্তু পানি ফুরাবেনা! বিচ বাইকে করে ঘুরতে পারবেন।
প্রিয়জনকে পাশে নিয়ে কল্পনার সাগরে ডুব দিতে হবে না! এখানেই ডুব দিতে পারবেন।
এই সুন্দরে মুগ্ধ আমি করছি বয়ান এসে-
একবার হলেও যেও তুমি সুন্দরের এই দেশে।
কাটবে দিন কাটবে রাত চাদেঁর আলো আর সাগর পাড়
তপ্ত রোদে ডাবের পানি পান করে করবে তুমি সময় পার।
কিছু বিষয় মনে রাখবেন-
কতদিন, কোথায় কোথায় থাকবেন, বেড়াবেন তার পূর্ণাঙ্গ গাইড ও তথ্য জেনে নিন।
* টর্চ, ব্যাটারি মোমবাতি, ম্যাচ, পানির বোতল, পানি বিশুদ্ধ করা ট্যাবলেট, টুপি, হাফপ্যান্ট, ট্রাউজার, সানগ্লাস সঙ্গে রাখুন।
* আগেই পরিবহন ও যাতায়াতের ব্যবস্থাসহ বাসস্থানের পরিপূর্ণ ঠিকানা ফোন নম্বর ও মোবাইল নম্বর জেনে নিন।
* খাবার হোটেল, হাসপাতাল, পুলিশ, সেলুনের অবস্থান জেনে নিন।
* সঙ্গে রাখুন ফিল্ম, ব্যাটারি, ক্যামেরা ও বাইনোকুলার।
* নোটবুক, কলম ও ছোট হ্যান্ডব্যাগ, মানিব্যাগ, মোবাইল সযতনে রাখুন।
* জেনে নিন খাবার মেন্যু, থাকার ভাড়া সম্পর্কে। এছাড়া পরিবহন খরচের ব্যাপারে আগেই স্বচ্ছ ধারণা নিন।
* নিরাপত্তার জন্য হোটেলের ভিজিটিং কার্ড, মোবাইল নম্বর ছাড়াও স্থানীয় পুলিশ ও বিচ পুলিশ ফাঁড়ির ফোন ও ইয়াছির লাইফ গার্ডের নম্বরসমূহ সঙ্গে রাখুন। কোনো রকম বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলেই হোটেল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত পুলিশের সহায়তা নিন।
* কেনাকাটায় সতর্ক থাকুন। আগেই গাড়ির সিট বুক করে রাখুন।
* বিচের উঁচু নিচু এলাকা সম্পর্কে সতর্ক হোন। প্রয়োজনে ভাটার সময় গিয়ে বিচের উঁচু নিচু এলাকা দেখে আসুন। কেননা জোয়ারের সময় এসব এলাকা পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। ভাটার টানে নিচু এলাকায় পড়ে অনেকে তীরে আসতে বাধাপ্রাপ্ত হন। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ইয়াছির লাইফ গার্ডসহ স্থানীয়দের পরামর্শ মেনে চলুন।
* একাকী ভ্রমণের চেয়ে দলগতভাবে ভ্রমণ বেশ আনন্দদায়ক। এক্ষেত্রে দলের সঙ্গে থাকুন। বিচ্ছিন্ন হয়ে চলাচল না করাই উত্তম। এতে খরচও বেশি হয়।
* সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যেতে পারলে সব গুলো জায়গা ঠিক ভাবে দেখে আসতে পারবেন।
* স্থানীয় পরিচিত যদি কাউকে গাইড হিসাবে নিতে পারেন সবচেয়ে ভাল হয়।
* খাবার-ভাড়া-কিনাকাটায় পরিচিত দের রাখলে নিজের জন্য অনেক বেশি উপকার। না হয়ে আপনার গলা কেটে দাম রাখবে।
* নিরাপত্তায় প্রধান
ঢাকা থেকে ৪১৪ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজারের অবস্থান। ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যেতে হয়। পাশাপাশি ঢাকা থেকে প্লেনেও চট্টগ্রাম নেমে বাসে বা মাইক্রোতে কক্সবাজার পৌঁছানো যায়। আপনার সুবিধা মত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
রয়েছে বিভিন্ন রকমের গেস্ট হাউস,হোটেল,মোটল। আগে থেকে বুকিং দিলে ভাল হয়।
ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না! যদি ভুল হয়েই যায় কিন্তু চিন্তা নেই। আপনার জন্য রয়েছে ভাড়াটে ক্যামেরা ম্যান। বিভিন্ন সাইজের ছবির বিপরীতে তারা ১৫-২০০ টাকা পযর্ন্ত নিবে। টাকা তুলার জন্য রয়েছে অনেক ব্যন্কের এটিএম বুথ।
পরিপূর্ণ স্বাধীনতা আর বাধন হারা জীবন উপোভোগ করতে চাইলে এর থেকে আর কোন ভাল জায়গা হবে বলে আমার মনে হয় না! তৈরি হয়ে যান এখনি প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টি দেখার জন্য।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রেমে পরেছি আমি। কিন্তু তাকে জয় করতে পারলাম না!!
*** সরকারের সুদৃষ্টি আর পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের গর্ব কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটিকে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারে এক নতুন বার্তা। কিন্তু তেমন কোন পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা চোখে পরেনি। লাইফগার্ড স্বল্পতা,সৈকতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বসার জায়গা,পরিস্কার রাখা বিচ ইত্যাদি ছোট ছোট কাজ বাড়িয়ে দিতে পারে এর আকর্ষণ। সরকারের দৃষ্টি আর্কষন করছি।
সর্বোপরি আমরা নিজেরাও সচেতন থাকবো। সৈকতে কাগজ,ময়লা আর খাবার বস্তু ফেলে রাখবো না। অন্যকে বিরক্ত করবো না। ঠিক ভাবে সব করলে আমাদের এই সম্পদ বিশ্বের পর্যটন ইতিহাসে উজ্জল হয়ে ভাসবে।
*তথ্য সুত্র-http://en.wikipedia.org/wiki/Cox's_Bazar
যার টানে বারবার ছুটে যেতে চায় মন। তেমনি এক সম্পদ, বঙ্গোপোসাগরের পূর্ব উপকূলেকক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
একসময় হলুদ ফুলে ছেয়ে ছিল গোটা কক্সবাজার। তাই নাম হয়ে ছিল এর প্যানোয়া যার অর্থ-হলুদ ফুল। হলুদ ফুলে ঝকমক করত তাই পরবর্তীতে নাম হয় পালংকী।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য সম্পর্কে ছিলেন উদাসীন। ব্রিটিশ শাসনামলে একজন ইংরেজ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স অষ্টাদশ শতকে পালতোলা কাঠের জাহাজে করে এখানে এসে নামেন।* ১৭৯৯ সালে তিনি এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন। পরবর্তীতে হিরাম কক্সের নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয় কক্সবাজার নামে।
বিট্রিশদের দেখানো সুন্দর্য্যে আস্তে আস্তে এটি হয়ে উঠে সুন্দরের লীলাভূমি।
মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারকে করেছে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়অ ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুটকিমাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার শীর্ষে।
এত দিন শুধু বইয়ে পড়েছি। দেখেছি ছবিতে বা টিভিতে। প্রথম বাবের মত সুযোগ পেয়ে চলে গেলাম বিশালতা উপভোগ করতে। বাস থেকে নেমে এক মূর্হুত দেরী করতে পারি নি সুন্দরের পূজারী আমি এই অপূর্ব রুপ আস্বাদন করতে। সামনে বিশাল সমুদ্র আর আমি কি ক্ষুদ্র! নিজেকে খুজে ফেরা ছাড়া আর কোন অনুভতি কাজ করছিলো না।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত এবং সূর্য্যদয় ও সূর্য্যাস্ত দেখার সেরা জায়গা এই সৈকত। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সব আয়োজন। আকাশে যদি একটি চাদঁ থাকে তাহলে তো কথায় নেই! সুন্দরে বিমোহিত হয়ে আপনি পাগল হয়ে গেলেও কিছু করার থাকবেনা।
সমুদ্র সৈকতের চারপাশেই রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর সব প্রাকৃতিক আয়োজন আপনার জন্য।
রয়েছে বিশাল সমুদ্রের সৈকত ভাগ করে বাহারি নামের অংশ।
যেমন- কলাতলী পয়েন্ট,সুগন্ধা পয়েন্ট,লাবণী পয়েন্ট,ইনানী বিচ,হিমছড়ি।
রয়েছে দ্বীপ, সমুদ্রের গভীরে- মহেশখালী দ্বীপ,ছেড়াদ্বীপ, সেন্টমার্টিণ দ্বীপ, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সহ ছোট অনেক দ্বীপ।
সেন্টমার্টিন আর মহেশ খালির কথা আলাদা ভাবেই বলতে হয়। কম্পিউটারে বা পর্দায় আমরা যে সব ওয়ালপেপার দেখি তা যদি বাস্তবে দেখতে চান তাহলে চলে আসুন সেন্টমার্টিন। নারকেল জিন্জিরা বলা হয়ে তাকে। কেই যদি আমাকে নির্বাসনে পাঠায় তাহলে আমার একটাই অনুরোধ থাকবে যেন সেটা সেন্টমার্টিন হয়।
গানে বলা হয়েছিল-
যদি সুন্দর একটা মন পাইতাম
মহেশখালির পান খিলি তারে বানাইয়ে খাওয়াইতাম।
কথা গুলো যে এমনি বলা হয় নি তা বুঝতে পেরেছি মহেশখালির মিষ্টি পান খেয়ে। জীবনের প্রথম পান খাওয়া শুরু করলাম আমি এই মহেশখালির পান দিয়ে। বিশাল সব মাঝ ধরার যান আর মানুষের অতিথি পরায়নায় মুগ্ধ হয়ে যাবেন। এই সুন্দর্য্য ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। একে ছবিতেও বুঝানো যায় না। একে মনরে ভিতর পুষে রাখতে হয় সযতনে।
যখন আপনি হিমছড়ি পাহাড় থেকে উত্তাল সমুদ্রের দিকে তাকাবেন মনে হবে যেন আকাশে উড়ে উড়ে জল রাশি খেলা করছে আর সামনে শুধু ছবির মত আঁকা কিছু নড়াচড়া শুরু করেছে।
এক সময় হিমছড়িতে অনেক বড় বড় ঝরনা ছিল কিন্তু এখন শুধু তার অস্তিত্ব আছে নেই সেই ঢাল।
সৈকতে আপনার বিনোদনের জন্য অনেক আয়োজন রয়েছে। পানিতে ঝাপাঝাপি করুন ইচ্ছে মত। তবে সাবধানে। ঘোড়ায় চড়ে সৈকতে ঘুরতে পারবেন। স্পিডর্বোডে গভীর সমুদ্রে যেতে পারবেন। তপ্ত রোদে বালুকাবেলায় আয়েশ করতে পারবেন। ডাবের পানি খেয়ে আপনার পেট ভরে যাবে কিন্তু পানি ফুরাবেনা! বিচ বাইকে করে ঘুরতে পারবেন।
প্রিয়জনকে পাশে নিয়ে কল্পনার সাগরে ডুব দিতে হবে না! এখানেই ডুব দিতে পারবেন।
এই সুন্দরে মুগ্ধ আমি করছি বয়ান এসে-
একবার হলেও যেও তুমি সুন্দরের এই দেশে।
কাটবে দিন কাটবে রাত চাদেঁর আলো আর সাগর পাড়
তপ্ত রোদে ডাবের পানি পান করে করবে তুমি সময় পার।
কিছু বিষয় মনে রাখবেন-
কতদিন, কোথায় কোথায় থাকবেন, বেড়াবেন তার পূর্ণাঙ্গ গাইড ও তথ্য জেনে নিন।
* টর্চ, ব্যাটারি মোমবাতি, ম্যাচ, পানির বোতল, পানি বিশুদ্ধ করা ট্যাবলেট, টুপি, হাফপ্যান্ট, ট্রাউজার, সানগ্লাস সঙ্গে রাখুন।
* আগেই পরিবহন ও যাতায়াতের ব্যবস্থাসহ বাসস্থানের পরিপূর্ণ ঠিকানা ফোন নম্বর ও মোবাইল নম্বর জেনে নিন।
* খাবার হোটেল, হাসপাতাল, পুলিশ, সেলুনের অবস্থান জেনে নিন।
* সঙ্গে রাখুন ফিল্ম, ব্যাটারি, ক্যামেরা ও বাইনোকুলার।
* নোটবুক, কলম ও ছোট হ্যান্ডব্যাগ, মানিব্যাগ, মোবাইল সযতনে রাখুন।
* জেনে নিন খাবার মেন্যু, থাকার ভাড়া সম্পর্কে। এছাড়া পরিবহন খরচের ব্যাপারে আগেই স্বচ্ছ ধারণা নিন।
* নিরাপত্তার জন্য হোটেলের ভিজিটিং কার্ড, মোবাইল নম্বর ছাড়াও স্থানীয় পুলিশ ও বিচ পুলিশ ফাঁড়ির ফোন ও ইয়াছির লাইফ গার্ডের নম্বরসমূহ সঙ্গে রাখুন। কোনো রকম বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলেই হোটেল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত পুলিশের সহায়তা নিন।
* কেনাকাটায় সতর্ক থাকুন। আগেই গাড়ির সিট বুক করে রাখুন।
* বিচের উঁচু নিচু এলাকা সম্পর্কে সতর্ক হোন। প্রয়োজনে ভাটার সময় গিয়ে বিচের উঁচু নিচু এলাকা দেখে আসুন। কেননা জোয়ারের সময় এসব এলাকা পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। ভাটার টানে নিচু এলাকায় পড়ে অনেকে তীরে আসতে বাধাপ্রাপ্ত হন। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ইয়াছির লাইফ গার্ডসহ স্থানীয়দের পরামর্শ মেনে চলুন।
* একাকী ভ্রমণের চেয়ে দলগতভাবে ভ্রমণ বেশ আনন্দদায়ক। এক্ষেত্রে দলের সঙ্গে থাকুন। বিচ্ছিন্ন হয়ে চলাচল না করাই উত্তম। এতে খরচও বেশি হয়।
* সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যেতে পারলে সব গুলো জায়গা ঠিক ভাবে দেখে আসতে পারবেন।
* স্থানীয় পরিচিত যদি কাউকে গাইড হিসাবে নিতে পারেন সবচেয়ে ভাল হয়।
* খাবার-ভাড়া-কিনাকাটায় পরিচিত দের রাখলে নিজের জন্য অনেক বেশি উপকার। না হয়ে আপনার গলা কেটে দাম রাখবে।
* নিরাপত্তায় প্রধান
ঢাকা থেকে ৪১৪ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজারের অবস্থান। ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যেতে হয়। পাশাপাশি ঢাকা থেকে প্লেনেও চট্টগ্রাম নেমে বাসে বা মাইক্রোতে কক্সবাজার পৌঁছানো যায়। আপনার সুবিধা মত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
রয়েছে বিভিন্ন রকমের গেস্ট হাউস,হোটেল,মোটল। আগে থেকে বুকিং দিলে ভাল হয়।
ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না! যদি ভুল হয়েই যায় কিন্তু চিন্তা নেই। আপনার জন্য রয়েছে ভাড়াটে ক্যামেরা ম্যান। বিভিন্ন সাইজের ছবির বিপরীতে তারা ১৫-২০০ টাকা পযর্ন্ত নিবে। টাকা তুলার জন্য রয়েছে অনেক ব্যন্কের এটিএম বুথ।
পরিপূর্ণ স্বাধীনতা আর বাধন হারা জীবন উপোভোগ করতে চাইলে এর থেকে আর কোন ভাল জায়গা হবে বলে আমার মনে হয় না! তৈরি হয়ে যান এখনি প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টি দেখার জন্য।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রেমে পরেছি আমি। কিন্তু তাকে জয় করতে পারলাম না!!
*** সরকারের সুদৃষ্টি আর পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের গর্ব কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটিকে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারে এক নতুন বার্তা। কিন্তু তেমন কোন পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা চোখে পরেনি। লাইফগার্ড স্বল্পতা,সৈকতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বসার জায়গা,পরিস্কার রাখা বিচ ইত্যাদি ছোট ছোট কাজ বাড়িয়ে দিতে পারে এর আকর্ষণ। সরকারের দৃষ্টি আর্কষন করছি।
সর্বোপরি আমরা নিজেরাও সচেতন থাকবো। সৈকতে কাগজ,ময়লা আর খাবার বস্তু ফেলে রাখবো না। অন্যকে বিরক্ত করবো না। ঠিক ভাবে সব করলে আমাদের এই সম্পদ বিশ্বের পর্যটন ইতিহাসে উজ্জল হয়ে ভাসবে।
*তথ্য সুত্র-http://en.wikipedia.org/wiki/Cox's_Bazar
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন