গত ২ জুন, অনুষ্ঠিত হল 'ইয়ুথ ইনগেজমেন্ট এন্ড সার্পোট'(YES) জাতীয় সম্মেলন ২০১১--১২ বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। ২০০০+ জন ইয়েস সদস্য ও দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব সহ অনেক অতিথী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্ট্যারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) এর অনুপ্রেরণায় দেশের তরুন স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গঠিত ইয়েস গ্রুপ। সারা বাংলাদেশে মোট ৬০ টি ইয়েস দল আছে। ৪৫টি দল ঢাকার বাইরে যারা সেইসব অঞ্চলের সচেতন নাগরিক কমিটির(সনাক) তত্বাবধানে দুর্নীতি বিরোধী ক্যাম্পিং করে থাকে নিজেদের মেধা ও ধ্যান ধারনা বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন আয়োজনে।
অনুষ্ঠানে ‘দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আমরা তরুণ: অর্জন, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মহাসচিব কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ দ্যা ডেইলি স্টার এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্ট্যারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) এর অনুপ্রেরণায় দেশের তরুন স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গঠিত ইয়েস গ্রুপ। সারা বাংলাদেশে মোট ৬০ টি ইয়েস দল আছে। ৪৫টি দল ঢাকার বাইরে যারা সেইসব অঞ্চলের সচেতন নাগরিক কমিটির(সনাক) তত্বাবধানে দুর্নীতি বিরোধী ক্যাম্পিং করে থাকে নিজেদের মেধা ও ধ্যান ধারনা বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন আয়োজনে।
অনুষ্ঠানে ‘দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে আমরা তরুণ: অর্জন, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মহাসচিব কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ দ্যা ডেইলি স্টার এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
সম্মেলনের এই অংশটি তরুনদের জন্য অনুপ্রেরণাময়। অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্ব স্ব অবস্থান থেকে সাহসের সাথে দুর্নীতির মোকাবেলায় সকল তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেলিনা হোসেন তরুণদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পুলিশ বাহিনীর সাম্প্রতিক মানবাধিকার বিরোধী ভূমিকার সমালোচনা করে আইনশৃঙখলা বাহিনীর অপরাধের শাস্তি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাহফুজ আনাম দুর্নীতিকে ক্যান্সারের সাথে তুলনা করে তরুণদের আরো সংগঠিত হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে দেশকে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানান।
৫২,৭১,৯০ শুধু একেকটি সংখ্যা নয়, একেকটি বাংলার তরুন সমাজের অর্জন। রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ ছাড়া গনতন্ত্রের কথা চিন্তা করা যায় না। কিন্তু যখন দেশের সেই মানুষ গুলো বা প্রতিষ্ঠান গুলো কাযর্ত বোকা ও অবুঝ ও ক্ষমতার লোভে সামনের দিকে চলে যেথায় দেশ পিছিয়ে পড়ে সেখানে গনতন্ত্র গুমড়ে মরা ছাড়া উপায় থাকে না। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দেশে দুর্নীতি বাড়ছে কিন্তু এখনো রাজনীতিবীদরা সচেতন বা সজাগ হচ্ছেন না।
সম্মেলনে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাঈদ স্যার এর বক্তব্যের কিছু অংশ ছিল অনুপ্রেরণা ও দেশ নিয়ে তরুনদের ভাবনার বর্হিপ্রকাশ-
''
গতকাল ইয়েস কনভেনশনে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার বলেছিলেন 'মন্ত্রীরা চোর ডাকাতের মতো আচরন করে'। আমরা এটাও আলোচনা করেছিলাম যে বর্তমান সরকার নতুন নতুন আইন করে আমাদের বাক-স্বাধীনতা সীমিত করে দিচ্ছে।
আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে সম্মেলন শেষ হয়েছে ২৪ ঘন্টাও হয় নাই,স্যারকেও পড়তে হলো সেই আইনের ফাকে। খবরে দেখলাম,স্যারকে বলা হয়েছে সংসদে যেয়ে ক্ষমা চেয়ে আসতে!
কেন ? কথাটাতো তিনি মিথ্যা বলেননি।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার যখন কথা গুলো বলছিলেন, আমরা প্রায় ২০০০ জন তরুন মুর্হমুহ করতালি দিয়ে তার কথাকে সমর্থন দিচ্ছিলাম-
বক্তব্যের শুরুতে দুর্নীতি কি তা বোঝাতে গিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘চোর যে চুরি করে, ডাকাত যে ডাকাতি করে সেটি কি দুর্নীতি? আমার ধারণা এটা দুর্নীতি নয়। কারণ দুর্নীতি শব্দের মধ্যে আরেকটি শব্দ লুকিয়ে আছে। শব্দটি হলো ‘নীতি’। চোর বা ডাকাতের কাজ ঠিক দুর্নীতি নয় কারণ তাদের কোন নীতিই নেই। সুতরাং দুর্নীতি সেই মানুষটি করে যার নীতি আছে। একটা উদাহরণ দেই। যেমন, যদি একজন মন্ত্রী এই বলে শপথ নেন যে তিনি শত্রু মিত্র ভেদাভেদ না করে সবার প্রতি সমান বিচার করবেন কিন্তু পরে তিনি সেটি না করেন সেটা হবে দুর্নীতি।’
প্রতিটি কথা চরম সত্য । কিন্তু দুর্ভাগ্য, দেশে সত্যবাদী ও সত্য কথা প্রকাশ করাটা সবচেয়ে ঝুকির কাজ । নিজেদের গায়ে যখন গরম পানির ফোঁটা পড়লো তখন তারা বিক্ষোভ করলেন । কিন্তু জনতা যে সব সময়ে বিক্ষোব্ধ মনে আছে তা টের পান না । আমরা ২০০০ সমর্থক আছি ওই কথার সাথে তাহলে কি আমাদের কেউ মাফ চাইতে বলবেন ? মনে হয় না আপনাদের সেই সাহস আছে !
স্যার বলছিলেন পুলিশ বাহিনীর বর্তমান বিরুপ আচরণের কথা। তিনি মনে করিয়ে দিলেন যে, ''সব সরকার পারে অনেক কিছু কিন্তু পুলিশ কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যেমন পারেনি ততকালীন ব্রিটিশ সরকার। পুলিশ জনগণের বন্ধু, আইন রক্ষা কারী। যখন আইন রক্ষাকারী আইন ভাঙে তখন তার শাস্তি কি বেশি হওয়া উচিত না? আমার জন্য যদি ১ বছর থাকে পুলিশের জন্য তা ৫ বছর করা উচিত''।
এখানে কোন কথাটা অযুক্তিক?
জাতীয় সম্মেলনে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছিলেন, “দেশের মন্ত্রী-এমপিরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন না, তারা নীতি মানেন না। শপথ নেওয়ার সময় বলেন অন্যায় করবেন না, কিন্ত প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে তারা অন্যায় করেন। এসব মন্ত্রী-এমপির কোনো নীতি নেই।”
তিনি আরো বলেন, “একটা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্ত দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে জনগণের সম্পদ ও জীবন লুণ্ঠন করা হচ্ছে। মানুষ তার অধিকার হারাচ্ছে।”
আমার মনে হয়েছে আপনে যে কথাগুলো বলেছেন, এটা কোটি মানুষের কথা আমাদের অর্থ্যাৎ তরুণদের মনের কথা। স্যার আপনি তো তাদের কর্মের চেয়ে কিছুই বলেননি। আপনার কথার জাদু এরা বুঝবে না তাইতো ষড়যন্ত্র খুঁজে উনারা। উনারা এতই কম বুঝেন যে, আপনে বলছেন এক আর উনারা তালগোল পাকিয়ে নষ্টের শেষ সীমায় নিয়েছেন
আপনি চোর না বললেও এদেশের কোটি মানুষ তাদেরকে এই নামেই বেশি চেনে!
আপনারা বলছেন, ১৬ কোটি মানুষের সামনে এসে ক্ষমা চাইতে। কিন্তু জনাব আপনার সরকারই তো জনগণের সংখ্যা দেখিয়েছে মাত্র ১৪ কোটি ৮০ লক্ষ। তাহলে বাকি ১ কোটি ২০লক্ষ জনতার সংখ্যা কিসের মানদন্ডে আপনারা প্রকাশ করেন। এটি কি আপনাদের নিজেদের কাজের প্রতি নিজেদের অজ্ঞতা বা অসত্য প্রকাশ নয়?
সাংসদ হিসেবে শপথ নেয়ার সময় আপনারা ঘোষনা করেছিলেন, সংসদ সদস্য রুপে ''আমার কর্তব্য পালনকে ব্যাক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।''( অনুচ্ছেদ ১৪৮(৫)-গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে)।
কিন্তু বাস্তবে আমরা কি দেখছি তা কি জন সমক্ষে প্রকাশের প্রয়োজন আছে?
যেখানে দেশের এক জন শীর্ষ স্থানীয় নাগরিকের চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে সেখানে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা মানে হচ্ছে গরুর মুখে খাঁচা বেধে তাকে কচি ঘাস দেখানোর মত বিষয়।
যেখানে সংবিধান: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে(অনুচ্ছেদ-৩৯) কিছু যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেদ সাপেক্ষে।
তাহলে সংবিধান অবমাননাটা কে করছে?
মানুষের মুখ বন্ধ করে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা অন্যায় বরং তা স্বৈরাচারদের উৎসাহিত করার সমান।
আপনারা বলছেন, ''সংসদ সদস্যদের অবমাননা করা মানে জাতিকে অবমাননা করা। মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা।”
জাতি কে? বা কারা?
জনগণ। চলুন তাহলে জাতি বা জনগণ আসলেই এতে অবনমন বা অপমানীত হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখি আগে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তাদের জনগণের মতের সাথে মিশে থাকার কথা কিন্তু এখানে তো হচ্ছে উল্টোটা!
ন্যায্য, সুশাসিত এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংলাপের মাধ্যমে সকল বিরোধপূর্ণ বিষয়ের সমাধানে রাজনৈতিক ঐক্যমতের ওপর সবিশেষ জোর দেই সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে। একই সাথে সকল আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানাই আমরা। তা কি আপনাদের কানে পৌছায় নি? এই কথা গুলো তো দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে। আর ওই কথা গুলো আপনাদের স্বার্থে আঘাত করেছে বলেই দোষ!
গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে আমরা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অরাজনৈতিক, প্রতিশোধ প্রবন রাজনীতির উর্দ্ধে থেকে দেশ পরিচালনার কথা বলি। দুর্নীতি মুক্ত হওয়া অসাধ্য সাধনের মত কিন্তু সরকারি ভাবে নীতি নির্ধারনী সংস্থা গুলোর অকার্যতা দেশের জন্য হুমকি স্বরুপ, যা দেশের জন্য হুমকি তা জাতি স্বত্বাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। তার দায় ভার কে নিবে?
সত্য তো এটিই“একটা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্ত দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে জনগণের সম্পদ ও জীবন লুণ্ঠন করা হচ্ছে। মানুষ তার অধিকার হারাচ্ছে।”
তারপরেও হইতো আপনারা বাধ্য করতে পারেন এই অধ্যাপককে ক্ষমা চাইতে আপনাদের ক্ষমতার বলে, কিন্তু
ক্ষমা চাইতে যাওয়ার সময় যদি ২০০০+ তরুন দল এক সাথে হাতে হাত রেখে চলে আর স্লোগান দেয়, সাংসদরা সব চোর !
তখন দেশের জনগণের প্রতিনিধি কারা বলে বিবেচিত হবে?
আমরা নাকি আপনারা?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন