মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১২

জাতির ভবিষ্যৎ দের জন্য আইন-রক্ষা করুন শিশুদের অধিকার-নিয়ন্ত্রন করুন শিশু শ্রম।


 
কেন হয় শিশু নির্যাতন?
সবল দূর্বলের উপর আক্রমণ করবে এটা যেন আমাদের চিরায়ত রীতি হয়ে বার বার চোখের সামনে ধরা দেয়। আজকে যে শিশু কাল হবে সে বিশ্বের রাজা! এটা আমরা সবাই বলি- কিন্তু সেই রাজাকে রাজার মত বেড়ে উঠতে দেয় না! কারণ-আমাদের মূখ্যতা,নিচু মনের পরিচয়,মানুষের প্রতি ভালবাসার অভাব তাদের কে জেনে না জেনে অঙ্কুরেয় বিনাশ করতে ব্যস্ত ! শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য যে পরিবেশটা প্রয়োজন সেটা আমরা সরবরাহ করতে পারিনা। আমাদের আছে সাধারণ সেন্সের অভাব। নিজে বড় হ্ওয়া মানেয় পৃথিবিটা বড় হ্ওয়া নই তা আমরা বুঝতে চাইনা। তাই করি নির্যাতন।

আসুন এক নজরে দেখে নেয় শিশুদের নিয়ে কিছু আইন



Universal Declaration of Human Rights (UDHR) এর ২৫ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে- অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান,শিক্ষা,স্বাস্থ নিশ্চিত পূর্বক প্রতিটি শিশুর জন্মকাল,শিশুকালে ঠিক ভাবে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করতে হবে।


গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে -
অনুচ্ছেদ-৭- সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভ করবে।
অনুচ্ছেদ-২৮(৪)-নারী ও শিশুদের উন্নতির জন্য রাষ্ট্র বাদ্য থাকবে।
অনুচ্ছেদ-৩৪-যেকোন ধরনের জবরদস্তী কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


শিশুদের অধিকার,শিশুদের নির্যাতন তথা খারাপ কাজ থেকে রক্ষা করা বা সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠার জন্য, অবহেলা রোধ করার জন্য, শিশু উন্নয়নের জন্য ৩৫ টির বেশি আইন রয়েছে। শুধু সমস্যা প্রয়োগে।


শিশু আইন,১৯৭৪- এই আইনটির মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা , বেড়ে উঠার স্বাধীনতা,নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। সরকারকে শিশূদের অধিকার নিরাপত্তা প্রতিষ্টার জন্য বাধ্যকতা জারী করা হয়েছে। এই আইনে- জুবেনলি কোর্টের কথা বলা হয়েছে। পুলিশ স্টেশনে শিশুদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে তা বলা হয়েছে,শিশুদের নিরাপদে রাখতে যেকোন ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।


দন্ডবিধি,১৮৬০- ৯ বছরের কম বয়স্ক কোন শিশুকে অপরাধী হিসাবে দায়ী করা যাবে না। শিশু পাচার,ক্রয়-বিক্রয়,গনিকা বৃত্তি,শিশু অপহরণ,শিশু ধর্ষন,প্ররোচনায় অপরাধ করানো, ইভটিজিং আইনত দন্ডনিয় অপরাধ হিসাবে গন্য হবে। (ধারা-,৮২,৮৩,৩৭২,৩৭৩,৩৭৫,৩৬৬,৫০৯) এই সব অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড পযর্ন্ত শাস্তি হতে পারে।


এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন রয়েছে।


বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী শিশু শ্রমের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।


দেখুন শ্রম আইন কি বলে-
ধারা ৮. কিশোর: চৌদ্দ বৎসর পূর্ন করিয়াছেন কিন্তু আঠারো বৎসর বয়স পূর্ণ করেন নাই এমন কোন ব্যক্তি।
ধারা ৩৬. প্রাপ্ত বয়স্ক: : আঠারো বৎসর বয়স পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোন ব্যক্তি
ধারা ৬৩. শিশু: চোদ্দ বৎসর বয়স পূর্ণ করেন নাই এমন কোন ব্যক্তি


ধারা ৩৪: শিশু ও কিশোর নিয়োগে বাধা নিষেধ:১. কোন পেশায় ও প্রতিষ্ঠানে কোন শিশুকে নিয়োগ করা যাইবে না বা কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না।২. কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরকে নিয়োগ করা যাইবে না বা কাজ করিতে দেয়া হইবে না , যদি না- (ক) বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে একজন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক তাহাকে প্রদত্ত সক্ষমতা প্রত্যয়নপত্র মালিকের হেফাজতে থাকে এবং(খ) কাজে নিয়োজিত থাকাকালে তিনি উক্ত প্রত্যয়নপত্রের উল্লেখ সম্বলিত একটি টোকেন বহন করেন।৩. কোন পেশা বা প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরের শিক্ষাধীন হিসাবে অথবা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে উপধারা(২) এর কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।৪. সরকাল যদি মনে করে যে , কো জরুরী অবস্থা বিরাজমান এবং জনস্বার্থে ইহা প্রয়োজন , তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা , উহাতে উল্লেখিত সময়ের জন্য উপ ধারা (২) এর প্রয়োগ স্থগিত ঘোষনা করিতে পারিবে।
ধারা ৩৫: শিশু সংক্রান্ত কতিপয় চুক্তি নিষেধকোন শিশুর মাতা পিতা বা অবিভাবক শিশুকে কোন কাজে নিয়োগের অনুমতি প্রদান করিয়া কাহারও সহিত কোন চুক্তি করিতে পারিবেন না।
ধারা ৩৯: কতিপয় কাজে কিশোর নিয়োগে বাধা:কোন প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি চালু অবস্থায় উহা পরিস্কারের জন্য , উহাতে তেল প্রদানের বা উহাকে সুবিনস্ত করার জন্য বা উক্ত চালু যন্ত্রপাতির ঘূর্নিয়ামন অংশগুলির মাঝখানে অথবা স্থির এবং ঘূর্ণায়মান অংশগুলির মাঝখানে কোন কিশোরকে কাজ করিতে অনুমতি দেওয়া যাইবে না।
ধারা ৪১: কিশোরের কর্মঘন্টা:১. কোন কিশোরকে কোন কারখানা বা খনিতে দৈনিক ৫ ঘন্টার অধিক এবং সপ্তাহে ত্রিশ ঘন্টার অধিক সময় কাজ করিতে দেওয়া হইবে না।২. কোন কিশোরকে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে দৈনিক সাত ঘন্টার অধিক এবং সপ্তাহে ৪২ ঘন্টার অধিক সময় কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না।৩. কোন কিশোরকে কোন প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকা হইতে সকাল ৭.০০ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে কোন কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না।৪. যদি কোন কিশোর অধিকাল কাজ করেন, তাহা হইলে অধিকালসহ তাহার কাজের মোট সময় -(ক) কারখানা বা খনির ক্ষেত্রে , সপ্তাহে ছত্রিশ ঘন্টা(খ) অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে , সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘন্টা: এর অধিক হইবে না।৫. কোন প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরের কাজের সময় দুইটি পালায় সীমাবদ্ধ রাখিত হইবে এবং ইহার কোন পালায় সময়সীমা সাড়ে সাত ঘন্টার বেশী হইবে না।৬. কোন কিশোরকে কেবলমাত্র একটি রীলেতে নিযোগ করা যাইবে এবং পরিদর্শকের নিকট হইতে লিখিত পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত ত্রিশ দিনের মধ্যে ইহা একবারের বেশী পরিবর্তন করা যাইবে না।৭. এই আইনের অধীন সাপ্তাহিক ছুটি সংক্রান্ত বিধান কিশোর শ্রমিকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে এবং এই বিধানের প্রযোগ কিশোর শ্রমিকের ক্ষেত্রে স্থগিত করা যাইবে না।৮. একই দিনে কোন কিশোর একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করিতে পারিবেন না।ধারা ৪২: কোন কিশোরকে ভূগর্ভে বা পানিরে নীচে কোন কাজে নিয়োগ করা যাইবে না।


শিশু নীতি ১৯৯৪ কে সংশোধন করে ২০১০ সালে জাতীয় শিশু নীতি খসড়া তৈরি করা করা।
যদিও বাস্তবিক পক্ষে এই সব আইন কোন কাজে আসছে না সঠিক প্রয়োগের না করতে পেরে।
আইনের শাসন একটি দেশকে পরিবর্তনের জন্য প্রধান নেয়ামক। জাতির ভবিষ্যৎ শুধু মুখে মুখে না বলে একে বাস্তব রুপ দিতে হবে।
তাহলে প্রিয় কবি সুকান্ত ভট্রাচার্যের কবিতাটি সত্য হয়ে রুপ নেবে-


::যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুমঃ
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা।
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের-
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস।


শেষ দিন পযর্ন্ত ইতিহাসের অংশ হওয়ার জন্য লড়াই করে যাবো সকল শিশুর জন্য পৃথিবী কবরো স্বপ্ন পুরী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন