ছেলেটি দেখতে অনেক সুদর্শন, শিক্ষিত। পরিবারের সবার আদরের সন্তান। কত স্বপ্ন তাকে ঘিরে। বিয়ের বয়স হওয়ায় ছেলের পরিবার পাত্রী খুজছে। অনেক মেয়ে দেখা হয় কিন্তু মেয়ে পছন্দ হয় না বা পরিবার পছন্দ হয় না। হঠাৎ করেই একটি মেয়েকে ছেলেটির ভালো লেগে যায়।
দেখতে সুন্দর, আধুনিক, সুন্দরী, শিক্ষিত মেয়ে। কিন্তু পরিবার বেঁকে বসে! কারণ মেয়েটি পার্ট টাইম সেলস গার্লের জব করে একটি নামী বিপণী বিতানে। এমন মেয়ে বউ হিসেবে পরিবারে বেমানান। ফলাফল
পরিবারের দিকে তাকিয়ে ছেলেটিকে জলাঞ্জলী দিতে হয় নিজের পছন্দ। এভাবেই দেখতে দেখতে যেতে থাকে সময়। পরিবারের পছন্দই তো বড় বিষয়! পরিবার নিশ্চয় তার খারাপ চায় না।
বছর খানিক পর ছেলেটির জন্য আরেকটি প্রস্তাব আসে। এবারের মেয়েটি অনেক ভাল, নম্র ভদ্র শিক্ষিত পরিবারও পছন্দসহ। কিন্তু সমস্যা একটাই, মেয়েটি দেখতে কালো!
কেন যেন এই চমৎকার কৃঞ্চকালো মায়াবী চাহনীর মেয়েটির জন্য ছেলেটি অপার ভালোবাসা বোধ করে। যেন এ হাজার বছরের পরিচিত কেও, যেন নিজের একটি অংশ এতকাল যা বিচ্ছিন্ন ছিল। যেভাবেই হোক মেয়েটিকে নিয়ে নিজেকে সম্পুর্ণ করার স্বপ্ন দেখে ছেলেটি। তাকেই বিয়ে করবে যত বাঁধা আসুক। পরিবারের কুটিল ভাবির শত বাঁধা উপেক্ষা করে কালো মেয়েটির সাথে ছেলেটির এক সময় বিয়ে হয়। মেয়েটিও অপার ভালোবাসা পেয়ে সুখের প্রত্যাশায় ছেলেটিকে আপন করে নেয়।
তার স্বামী তাকে এত ভালোবাসে সে নিজেকে স্বামী সংসারের জন্য উজার করে দেই। কিন্তু কি যেন এক বাঁধা মাঝখানে, এত কিছুর পরেও শ্বশুর বাড়ীর মানুষজন মেয়েটিকে সহজ ভাবে নিতে পারেনি। দেখতে কালো এটাই কি অপরাধ! কিন্তু মনটা তো কালো নয়! সময়ের আবর্তে এটি আরও পরিষ্কার হয়ে আসে নিজ চোখে, সে কালো। দেখতে ভালো নয় এটাই তার অপরাধ। তাই নিয়মিত জোটে পরিবারের অন্য সদস্যদের চোখ রাঙানী আর কথার মার।
মন খারাপের দিনগুলোতে খানিকটা আশ্রয় স্বামীর অপার ভালোবাসা। দিনগুলো কাটতো স্বামীর অফিস থেকে ফেরার পথে চেয়ে আর শ্বশুর বাড়ীর লোকদের বিদ্রুপ বাক্য শুনে। যদিও স্বামীকে কিছুই বলতো না। কিন্তু মেয়েটি জানতো না তার জন্য অপেক্ষা করছিলো একটি সত্য ও তার কঠিন স্বীকারোক্তি!
অপমান সইতে যখন মেয়েটি ক্লান্ত, শেয়ার করার আশ্রয় ভালোবাসার স্বামীর সাথে কথার কোন এক ছলে স্বামী কিছু সত্য স্বীকার করে। মেয়েটি কালো বলে তার পরিবার বিয়ের গুরুতর বিরোধী ছিল, সে জোর করে পরিবারের অমতেই তাকে বিয়ে করেছে। পরিবারের নিম্ন মানসিকতার বলি আজ মেয়েটির এই কষ্টে সে নিজেকে মাফ করতে পারছে না। নিজের আপনজনদের কাছে জিম্মি হয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ে করেও শান্তি দিতে পারছে না। পারছে না পরিবার ছেড়ে দুরে চলে যেতে। মেয়েটি বুঝতে পারে তার স্বামীর অসাহয়ত্ব ও ভালোবাসার গৌরবের কথা। গর্ব বোধ করে স্বামীকে নিয়ে।
সে কালো বলে পরিবার তাদের আদরের ছেলেটিকে দূরে ফেলে দিচ্ছে ভেবে মেয়েটি নিজেকে ঘৃণীত মনে করে, নিজেকে ফেলনা মনে করে নিশ্চিন্ন করে দিতে চায়। নিজের হাত কেটে ক্ষত-বিক্ষত করে! স্বামীর ভালোবাসা মেয়েটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনে। পাশে থাকার প্রত্যয়ে মেয়েটি আবারও স্বপ্ন দেখে সুখি হওয়ার। কিন্তু সুখ কি এতই সহজ! বাবার বাড়িতে থেকে ভাবে নিজ সংসারের কথা, স্বপ্ন দেখে হইত মেনে নিবে সবাই তাকে, কালো মেয়েটিকেই কোন একদিন আপন করে নিবে।
এর মধ্যেই সংসারে নতুন অতিথী আসার সুবাতাস। স্বামী খুশিতে আত্মাহারা, পরিবারের কাছে শেয়ার করেও পায় না কালো মেয়েটির প্রতি কোন সহানুভূতি!
যতই দিন যাচ্ছে ততই সময় ঘনিয়ে আসছে। নতুন অতিথীর আগমনী বার্তার সাথে কালো মেয়েটির মনে দু:চিন্তার রেখা স্পষ্ট হতে থাকে। যদি সন্তান ছেলে হয় তবে কি সেও তার জন্য সুন্দরী মেয়ে খুজবে? কালো মনের মানুষ হবে? নাকি এমন মেয়ে খুজবে যে তাদের মায়া মমতায় ভরিয়ে রাখব দিবানিশি! আর যদি মেয়ে হয়, কালো মেয়ে, তবে কি তার পরিবার কালো মেয়েটিকে মায়ের মতই ফেলনা ভাববে? নাকি কালো মেয়েটির ভালো মনটিকে আকড়ে রাখবে?
-------মেয়ে তুমি কালো হলেও অপরাধ, সুন্দর হলেও অপরাধ। অতি শিক্ষিত হলেও নিন্দা, অল্প শিক্ষিত হলেও ফেলনা। নাকি মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়াটাই তোমার অপরাধ! কালো মনের কালো ছায়ার মাঝেও ভালো থেকো মেয়ে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন