শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি হলো দ্য ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ড (সিআরসি), যার ৩৪ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে সদস্য দেশগুলো সব প্রকার যৌন নিপীড়ন হতে শিশুদের রক্ষা করার জন্য নীতিগতভাবে বাধ্য। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে সিআরসিতে স্বাক্ষর করে শিশু অধিকার রক্ষার এই চুক্তির সদস্য দেশ হয়।
আন্তর্জাতিক আইনে ১৮ কম বয়সী যে কেউ শিশু। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ অনুযায়ী আমাদের দেশীয় আইনে ১৬ বছরের কম বয়স্ক যে কেউ শিশু বলে বিবেচিত হবে।
আর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ এর ১০ ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "যদি কোনও ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌনকামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোনও অঙ্গ বা কোনও বস্তু দ্বারা কোনও শিশুর যৌনাঙ্গ বা অন্য কোনও অঙ্গ স্পর্শ করেন তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন।" আর যৌন নিপীড়নের শাস্তি সবোর্চ্চ ১০ বছর আর সবর্নিম্ন তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এর সঙ্গে দোষী ব্যক্তি আথির্ক দণ্ডে ও দণ্ডনীয় হবেন।
একই আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও শিশুকে ধর্ষণ করলে তার জন্য শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড আর ধর্ষণের কারণে শিশুর মৃত্যু হলে দোষী ব্যক্তি সবোর্চ্চ মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
প্রশ্ন জাগতে পারে, শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন কোথায় হয়? কোথায় শিশুরা অনিরাপদ? বড়দের ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের ঘটনা সাধারণত ঘটে বাইরে এবং অপরিচিত ব্যক্তি দ্বারা। অপরপক্ষে, শিশু যৌন নিপীড়ন হতে পারে সেই সব স্থানে যেখানে আমরা মনে করি শিশু সবচাইতে নিরাপদ, যেমন, ঘরে, স্কুলে কিংবা শিশু শ্রমের স্থানে। বাল্যবিবাহকে কন্যা শিশুর উপর করা সবচাইতে প্রচলিত শিশু যৌননিপীড়ন ও শোষণ বলে অভিহিত করেছে ইউনিসেফ।
বন্ধ হোক শিশুদের প্রতি নিপীড়ন, বন্ধ হোক চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
২। #প্রধান_বিচারপতির_উক্তিঃ
♥দেশে হাজার হাজার আইনজীবী থাকলেও ভালো আইনজীবীর সংখ্যা হাতে গোনা।
♥বর্তমানে আইন পড়ে সহজেই বাড়ি-গাড়ি করার প্রবণতা আইন পেশার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।
♥ভাল আইনজীবী হবেন নাকি বাড়ি-গাড়ির মালিক হবেন সে সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই নিতে হবে।
♥আইন পেশায় টাকা আয়ের অনেক পথ আছে, সেক্ষেত্রে সততার পথটি বেছে নিতে হবে।
♥যে শিক্ষার্থী বিচার বিক্রি করবে, তাদের বিচারকের আসনে বসানো যাবে না।
♥ যারা গ্রাম থেকে বিচার চাইতে আসেন এবং বাবা-মার বয়সী তাদের দিকে দরদ দিয়ে তাকাবে।
♥ আইন সততার পেশা। ভালো আইনজীবী হতে হলে ঘোড়ার মত পরিশ্রম করতে হবে এবং সন্যাসীর মত সাধনা করতে হবে।
★ গতকাল ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ল ক্লিনিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, ০৯ এপ্রিল ২০২৩।
৩। >>> দেনমোহর কি? আইনের মাধ্যমে আপনি কিভাবে দেনমোহর পরিশোধ করবেন?
এবং আপনি যদি দেনমোহর থেকে বঞ্চিত হন আইনের মাধ্যমে কিভাবে আপনি দেনমোহর ফিরে পাবেন এবং দেনমোহর পরিশোধ না করলে আইনগত সর্বোচ্চ শাস্তি কি হবে?
মুসলিম বিয়েতে দেনমোহর হচ্ছে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীর একটি বিশেষ অধিকার। দেনমোহর সাধারণত বর ও কনের সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। দেনমোহর হিসেবে যেকোনো পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করা যায়। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই স্বামী ন্যূনতম ১০ দিরহাম বা সমপরিমাণ অর্থ অপেক্ষা কম নির্ধারণ করতে পারবেন না। বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা না হলে বিয়ের পরও তা নির্ধারণ করা যায়। তবে সে ক্ষেত্রে ন্যায্য দেনমোহর নির্ধারণের সময় সামাজিক মর্যাদা ও বাবার পরিবারের অন্যান্য নারী সদস্যের—যেমন, স্ত্রীর আপন বোন, ফুপু ও ভাইয়ের মেয়ের—দেনমোহরের পরিমাণ বিবেচনা করাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তা ছাড়া প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে দেনমোহর নির্ধারণ করা যায় কিংবা স্বামী কর্তৃক যেকোনো সময় দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়। তবে দেনমোহর প্রদান ছাড়া বিয়ে অবৈধ হয়ে যায় না। শর্ত হচ্ছে, বিয়ের পর স্ত্রীকে অবশ্যই উপযুক্ত দেনমোহর প্রদান করতে হবে। অনেক সময় দেনমোহর নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। অনেক ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের সময় বলা হয়, স্ত্রী নিজ ইচ্ছা থেকে, নিজে উদ্যোগী হয়ে তালাক দিচ্ছেন। এতে যুক্তি তুলে ধরা হয় যে স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে না। এটি ভুল ধারণা। স্বামী বা স্ত্রী যে-ই তালাক দিন না কেন, দেনমোহরের টাকা অবশ্যই প্রদান করতে হবে। দেনমোহরের টাকা মাফ করা যায়, তবে সে জন্য কিছু শর্ত আছে। স্ত্রীর পূর্ণ সমর্থন থাকতে হবে এবং কোনো প্রকার প্ররোচিত না হয়ে মাফ করতে হবে। কারও দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না।
দেনমোহরের প্রকারভেদ
দেনমোহর দুই প্রকার। যেমন—
১. তাৎক্ষণিক দেনমোহর: তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রীর চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী তাৎক্ষণিক দেনমোহর না পাওয়া পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে বসবাস (দাম্পত্য মিলন) করতে অস্বীকার করতে পারেন।
২. বিলম্বিত দেনমোহর: যে দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর পরিশোধ করতে হয়, তাকেই বিলম্বিত দেনমোহর বলে। এ ছাড়া স্বামী সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্ত্রী বা স্ত্রীদের দাবিক্রমে বিলম্বিত দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে।
দেনমোহরের একটা অংশ থাকে যা তাৎক্ষনিক, অর্থাৎ স্ত্রী দাবী করা মাত্র দিয়ে দিতে হয় ।
সাধারণত কাবিননামার নির্দিষ্ট কলামে তাৎক্ষনিক দেনমোহরের অংশ উল্লেখ থাকে । অংশ দেওয়া হয়ে গেলে উসুল বলা হয় । মনে করি মোট দেনমোহর চার লক্ষ টাকা । পঞ্চাশ হাজার টাকা তাৎক্ষনিক দেনমোহর হিসেবে ধার্য হলো । এই ধার্যকৃত টাকা দিয়ে দিলে লেখা থাকবে উসুল পঞ্চাশ হাজার টাকা । সাধারণত অলঙ্কার বা অন্যকোন মূল্যবান সামগ্রী প্রদান সাপেক্ষে উসুল দেওয়া হয় ।
অপরদিকে বিলম্বিত দেনমোহর বলতে বুঝায় যা বিলম্বে প্রদান করা হবে ,অর্থাৎ স্ত্রীর চাওয়া মাত্র আদায়যোগ্য নয় ।
বিলম্বিত দেনমোহর আদায়যোগ্য হয় ৩ টি ঘটনা সাপেক্ষে -
১) স্বামী মৃত্যুবরণ করলে
২) বিবাহ বিচ্ছেদ হলে
৩) অনুমতি ছাড়া একাধিক বিয়ে করলে
দেনমোহরের ক্ষেত্রে একটা বিষয় পরিস্কার যে, দেনমোহর মাফ হয় না । অনেক কেইস স্টাডিতে দেখা গেছে, বাসর রাতে স্বামী প্রবর বেশ আবেগে গদ গদ হয়ে ধর্মীয় দোহাই দিয়ে স্ত্রীকে দেনমোহর মাফ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে । সরলা স্ত্রী ইমোশনালী ব্ল্যাক মেইল্ড হয়ে অবগুণ্ঠনে মুখ লুকিয়ে মাফ করে দিয়েছে বটে । কিন্তু তাতে দেনমোহর মাফ হয় না । নারী অথবা পুরুষ তালাক যে - ই দিক না কেন স্ত্রীকে তার প্রাপ্য দেনমোহর বুঝিয়ে দিতে হবে । দেনমোহর আদায়ের জন্য মোহরানা দাবী এবং তা প্রত্যাখ্যান হবার ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে । অন্যথায় দাবী তামাদি হয়ে যাবে । তবে স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় কোন চাপ প্রয়োগ ছাড়া স্ব ইচ্ছায় মাফ করতে পারেন।
দেনমোহর কতো হবে এটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু ক্রাইটেরিয়া মেইন টেইন করা হয় । যেমন -
• কনের শিক্ষাগত যোগ্যতা , পারিবারিক স্ট্যাটাস
• কনের ফুফু, খালাদের দেনমোহরের পরিমাণ
যদিও এগুলো আইনত বাধ্যতামূলক নয় । তথাপি প্রচলিত সামাজিক নিয়ম হিসেবে এগুলো মেইন টেইন করা হয় ।
দেনমোহর আদায় করার পদ্ধতি:
আইন অনুযায়ী দেনমোহর স্বামীকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। কারণ, দেনমোহর স্ত্রীর আইনগত, একচ্ছত্র অধিকার এবং সব সময়ই স্বামীর ঋণ। স্ত্রী পারিবারিক আদালতে মামলা করে দেনমোহর আদায় করতে পারবেন। দেনমোহর দাবি করার পর স্বামী তা পরিশোধ না করলে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে পৃথক থাকতে পারবেন এবং ওই অবস্থায় স্বামী অবশ্যই তাঁর ভরণপোষণ করতে বাধ্য থাকবেন। সাধারণত বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। দেনমোহরের কিছু পরিমাণ বিয়ের সময় তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবে দেওয়া হয় এবং তা কাবিননামায় লিখিত থাকে। বাকিটা বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে ধরা হয়।
কখন দেনমোহরের অর্ধেক দিতে হবে
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য মিলন অর্থাৎ সহবাসের আগে বিবাহবিচ্ছেদ হলে কিংবা স্বামীর মৃত্যু হলে সম্পূর্ণ দেনমোহরের অর্ধেক পরিশোধ করতে হবে।
দেনমোহর আদায়ের অধিকার
বিবাহবিচ্ছেদ হলে বা বিলম্বিত তালাক হলে অথবা স্বামীর মৃত্যু হলে কোনো স্ত্রী তাঁর বিলম্বিত দেনমোহর আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করে তা আদায় করতে পারেন। তবে তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে। স্বামীর মৃত্যু হলে বকেয়া দেনমোহর ঋণের মতো হয়। এটি অবশ্যই শোধ করতে হয়। স্বামীর উত্তরাধিকারীরা এটি প্রদানে বাধ্য। অন্যথায় মৃত স্বামীর উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তা আদায় করা যায়। স্ত্রী আগে মারা গেলেও দেনমোহর মাফ হয় না। স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা এই দেনমোহরের হকদার। তারাও মামলা করার অধিকার রাখে।
দেনমোহর হলো স্ত্রীর প্রতি সম্মানসূচক স্বামীর একটি আবশ্যিক দেনা। মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর হলো কিছু টাকা বা অন্য কোনো সম্পত্তি যা স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে বিয়ের মূল্যস্বরূপ পাওয়ার অধিকারী হয়। একজন নারীর অধিকারপ্রাপ্তিতে প্রথমেই দেনমোহরপ্রাপ্তির বিষয়টি চলে আসে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে প্রদান করবে, সন্তুষ্ট চিত্তে তারা মোহরের কিয়দংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা স্বচ্ছন্দে ভোগ করবে।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত-৪)। এ ছাড়া কুরআনের আরো এক আয়াতে দেনমোহরের অধিকার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘হে নবী! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীদেরকে, যাদের মোহর তুমি প্রদান করেছো।’ (সুরা আল-আহজাব, আয়াত-৫০) দেনমোহর ইসলামে এমন একটি বিষয়, যার মাধ্যমে স্ত্রীর অধিকার পাকাপোক্ত করা হয়। পরিশোধের ভিত্তিতে দেনমোহর দুই ধরনের হয়। যথা- মুয়াজ্জল (আশু) দেনমোহর এবং মু-অজ্জল (বিলম্বিত) দেনমোহর। আশু দেনমোহর চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হয়। আর বিলম্বিত দেনমোহর হচ্ছে, দেনমোহরের যে অংশটুকু স্বামীর মৃত্যুর পর, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিয়ে বিচ্ছেদ বা তালাকের পর স্ত্রী পেয়ে থাকেন। প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, তালাকের কারণে দেনমোহর দিতে হয়। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। দেনমোহর বিয়ের শর্ত। তালাকের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
বিয়ে বিচ্ছেদ হোক বা না হোক দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর দায়িত্ব।
দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য এবং স্ত্রী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দেয়া হয়। এটি মূলত স্বামীর ওপর আইনগত আরোপিত একটি দায়। মানুষের মাঝে একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, বিয়ের রাতে স্বামী চাইলে স্ত্রীর কাছ থেকে দেনমোহর মাফ করিয়ে নিতে পারেন, তবে তা মাফ হয়ে যায়। কিন্তু আইন ও আদালতে এ ধরনের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের দেশে ১৯৬১ সালে প্রণীত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন (কাবিননামা) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেখানে বিবাহিত নারীদের দেনমোহরের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। স্বামী সেই দেনমোহর দিতে বাধ্য। এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো প্রথমত: যাতে বিবাহের একটি লিখিত দলিল থাকে, দ্বিতীয়ত: যাতে দেনমোহরানার বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে। দেনমোহরের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নেই।
দেনমোহর বিয়ের সময় বা বিয়ের পরও নির্ধারণ করা যায়। উপযুক্ত দেনমোহর নির্ধারিত হয় বর-কনের পারস্পরিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। এতে উভয়পক্ষের অভিভাবকদের সম্মতি থাকে। দেনমোহর নির্ধারণ কম বা বেশিতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে টাকার অংশ স্বামীর আর্থিক সামর্থ্যরে মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়। দেনমোহরের পরিমাণ এতো বেশি নির্ধারণ করা উচিত নয় যা স্বামীর পক্ষে দেয়া অসম্ভব। স্বামী বা স্বামীর পরিবার উপহার হিসেবে স্ত্রীকে যা দেবে তা অবশ্যই দেনমোহর নয়। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীকে অনেক কিছুই দিতে পারেন। স্বামী যদি দেনমোহর হিসেবে স্ত্রীকে দেন, তবেই তা দেনমোহর বলে বিবেচিত হবে।
সাধারণত, বরপক্ষ উপহার সামগ্রী দিয়ে দেনমোহর পরিশোধ করার পর যখন তারা বিভিন্ন জনের কাছে বলে বেড়ায় মেয়েকে আমরা এতো ভরি স্বর্ণ দিয়েছি কিংবা ফ্ল্যাটবাড়ি বা জমি দিলাম সেক্ষেত্রে এর যথাযথ উত্তর কি হতে পারে? প্রশ্ন জাগে বিয়ের সময়কার গহনা, শাড়ি ইত্যাদি কি দেনমোহরের অংশ হিসেবে ধরা হবে কিনা? বিয়ের সময় গহনা, শাড়ি ইত্যাদির মূল্য দেনমোহরের একটি অংশ ধরে উসুল লিখে নেয়া হয়। সেক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, গহনা, শাড়ির মূল্য ধরে নিকাহনামার সংশ্লিষ্ট ধারায় উসুল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলেই তা দেনমোহরের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে যেভাবেই, যতোটুকু পরিমাণে দেয়া হোক না কেন প্রত্যেক মেয়ের উচিত তার দেনমোহর নামক অধিকার বিষয়ে সচেতন হওয়া।
*** ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনঃ
এই আইনের ধারা ১০ এ মোহরানা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বিবাহের কাবিননামায় কি ধরণের দেনমোহর স্ত্রীর পাওনা হবে, তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা না থাকলে দেনমোহরের সমুদয় অর্থ স্ত্রী চাহিবামাত্রই পরিশোধযোগ্য। যদি সালিশী পরিষদের আদেশ বলে ইহা কার্যকরী হলে স্ত্রীর তা পাওনা হয়ে যায়। উহা পরিশোধ না করলে ১ মাস কারাদন্ড বা ২০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হতে পারে।
৪। আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়াতে ২ লক্ষ টাকা দামের একটি ল্যাপটপ পেয়েছেন।
পরের দিন মিতু, সজিব, ছন্দা উক্ত ল্যাপটপটিকে নিজেদের দাবি করে। এ অবস্থায় আপনার পক্ষে প্রকৃত মালিক নির্ণয় করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়, কি করবেন?
-এর সমাধান আপনি আদালত হতে পাবেন। দেওয়ানি আদালতে ইন্টার প্লিডার মামলা দায়ের করুন মিতু, সজিব ও ছন্দাকে বিবাদী করে, তারা সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিক ল্যাপটপটি পেয়ে যাবেন। আপনি পাবেন মামলার সব খরচ, যদিও মামলায় আপনার কোন স্বার্থ নেই।
একে স্বার্থবিহীন মামলা বা Inter Pleader Suit বলে।
৫। তালাকের পর পুনরায় বিবাহ -
পুণ: বিবাহের পদ্ধতি:১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশে ৭(৬) ধারা অনুযায়ী তালাকের মাধ্যমে কোন বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে, তালাক হওয়া দম্পতি পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে তাদের নতুন করে বিয়ে করতে হবে।
অর্থাৎ, পুণরায় কাবিন রেজিস্ট্রেশন করে বিয়ে করতে হবে।
উদাহরণঃ জলিল তার স্ত্রীকে তালাক দিল। তিন মাস পর সে বুঝতে পারল যে, তালাক দেয়াটা তার ভুল হয়েছে এবং সে এখনো আশাকে ভালবাসে খবর নিয়ে দেখা গেল আশাও জলিলের কাছে ফিরে আসতে চায়। এখন তারা যদি পুনরায় একসাথে বসবাস করতে চায় তাদের পুনরায় বিয়ে করতে হবে।
এখানে বলে রাখা উচিৎ যে, এ ক্ষেত্রে হিল্লা বিয়ের কোন প্রয়োজন নেই।
৬। প্রশ্নঃ বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি?
উত্তরঃ নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি, সন্তান থাকলে তাদের জন্মসনদের কপি সংযুক্ত করে অনলাইনে আবেদন দাখিল করতে হবে।
প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন ID Card থেকে স্বামীর নাম বিভাবে বাদ দিতে হবে?
উত্তরঃ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে অনলাইনে আবেদন দাখিল করতে হবে।
প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কিভাবে সংযুক্ত করতে পারি?
উত্তরঃ প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ের কাবিননামা, বর্তমান স্বামীর জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি, সন্তান থাকলে তাদের জন্মসনদের কপি/ শিক্ষাসনদ সহ অনলাইনে আবেদন দাখিল করতে হবে।
প্রশ্নঃ আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি?
উত্তরঃ পেশা সংক্রান্ত প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। উলেখ্য, আইডি কার্ডে এ তথ্য মুদ্রণ করা হয় না।
প্রশ্নঃ আমার ID Card এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?
উত্তরঃ এক্ষেত্রে সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।
প্রশ্নঃ নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?
উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ,অনলাইন জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সনদ, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।
প্রশ্নঃ নিজের ডাক নাম বা অন্য নামে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?
উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/ স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি,ওয়ারিশ সনদ,ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র,সন্তানদের শিক্ষা সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র।
প্রশ্নঃ আমি পাশ না করেও অজ্ঞতাবশতঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যাদি সংশোধনের উপায় কি?
উত্তরঃ আপনি ম্যাজিট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে কোর্ট এফিডেভিট করে এর কপিসহ বাংলাদেশের যেকোন জায়গা থেকে অনলাইনে আবেদন দাখিল করতে হবে।
প্রশ্নঃ ID Card এ অন্য ব্যক্তির তথ্য চলে এসেছে। এ ভুল কিভাবে সংশোধন করা যাবে?
উত্তরঃ ভুল তথ্যের সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল উপস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে নিবন্ধন ফরম ২, বায়োমেট্রিক যাচাই করার পর সঠিক পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রক্রিয়া করা হবে।
প্রশ্নঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা সংশোধনের জন্য কি করতে হয়?
উত্তরঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনোসটিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।
প্রশ্নঃ স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চাই, কিভাবে করতে পারি?
উত্তরঃ নতুন স্বাক্ষর এর নমুনাসহ গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে সরাসরি নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।
সৈয়দা শারমিন সুলতানা,
উপজেলা নির্বাচন অফিসার, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।।
৭। পুলিশের এক ধমকেই দমে যাবেন?
বুকে সাহস রাখতে চেষ্টা করুন, পুলিশকেও বুঝিয়ে দিন আপনি সচেতন আইন জানা পাবলিক।
সাদা পোষাকে নিজেকে কেও পুলিশ সদস্য দাবি করে আপনাকে আটক করতে আসলেই সে আপনাকে ধরতে পারবে না, যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হচ্ছেন যে তিনি পুলিশ। পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি), ১৯৪৩ অনুযায়ী, 'সাদা পোষাকের পুলিশ অফিসারগণের পরিচয় পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।' তাই আপনাকে ধরতে আসলে অবশ্যই আপনার উচিত হবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া। সচেতন হওন, আপনি আইন সচেতন হলে পুলিশও তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও ধমক-জোরের উপর কাজ করে আপনাকে হয়রানি করতে পারবে না। একই আইন অনুযায়ী, পুলিশকে জনগণকে হয়রানি করা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। তাই নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাদা পোষাকে আপনাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হতে সচেতন হওন।
বাস্তবতা কঠিন আমরা জানি, কিন্তু আইন সচেতনতা পারবে আমাদের নতুন সভ্য সমাজ গড়ে তুলতে।
তাই #আইনজানুনসচেতনহওন সাথে থাকুন আইন শিক্ষা কেন্দ্র
৮। ★★#আইনের_চোখে_টাউট_চিটার_বাটপার_ও_ফ্রডঃ
পর্ব-০১
.
আমরা হরহামেশাই নেতিবাচক শব্দ হিসাবে টাউট, চিটার, বাটপার, ফ্রড ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমাদের অধিকাংশের এই শব্দ গুলো দ্বারা কাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় বা শব্দগুলোর আইনি প্রয়োগ অজানা । আমি আমার এই লেখনিতে শব্দ গুলোর অর্থ উল্লেখপূর্বক আইনগত প্রয়োগ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি;
★★টাউট (𝗧𝗼𝘂𝘁):
.
টাউট (Tout) শব্দটি আমাদের আইন অঙ্গনে ও বাস্তব জীবনে একটি বহুল পরিচিত ইংরেজি শব্দ। অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে এ শব্দটিকে প্রথম চিহ্নিত করা হয় । Cambridge English Dictionary তে টাউট (Tout) শব্দের অর্থ করা হয়েছে “to advertise, talk about, or praise something or someone repeatedly, especially as a way of encouraging people to like, accept, or buy something”
কিন্তু ভারতীয় উপ-মহাদেশ এবং কালের পরিক্রমায় স্বাধীন বাংলাদেশে টাউটের উৎপত্তি হল কবে থেকে সেদিকে লক্ষ্য করলে আমরা ১৮৭৯ সনের টাউট আইনের (The Touts Act, 1879) ৩ নং ধারায় টাউটের সংজ্ঞা ও ৩৬ ধারায় টাউটের তালিকা প্রণয়নের বিধান খুঁজে পাই। পরবর্তীতে ১৯২৬ সনের বার কাউন্সিল এ্যাক্ট, ১৯৬৫ সনের দি লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল এ্যাক্ট এই সকল আইনের সব গুলোতেই টাউট সম্পর্কিত ধারা যুক্ত করা হয়। কিন্তু ১৯৭২ সনের বার কাউন্সিল অর্ডারে টাউট সম্পর্কিত সরাসরি কোন ধারা না থাকলেও টাউটিং এর পর্যায়ে পড়ে এমন কর্মকাণ্ড করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে রেজিশট্রেশন এ্যাক্ট, ১৯০৮-এ টাউট এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এবং টাউট তালিকা প্রস্তুত করার কথা বলা হয়েছে।
# The Touts Act, 1879 এর ৩ ধারা অনুযায়ী টাউট (Tout) বলতে এইরূপ ব্যক্তিকে বুঝাবে-
• যারা আইন পেশাধারীর নিকট হতে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আইন পেশাধারীর কর্ম সংগ্রহ করার প্রস্তাব দেয়; অথবা
• যে এইরূপ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দেওয়ানী, ফৌজদারী অথবা রাজস্ব আদালতের পরিপার্শ্বে জনসাধারণের আশ্রয়ের অন্যান্য স্থানে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করে; অথবা
• এই আইনের ৩৬-ক ধারার বিধানের অধীনে হাইকোর্ট ডিভিশন কতৃর্ক প্রণীত বিধিমালা অনুসারে টাউট (Tout) হিসাবে গণ্য মর্মে ঘোষিত কোন ব্যক্তি।
টাউট আইনের ৩৬ ধারা অনুসারে, সুপ্রিম কোর্ট, জেলা জজ, দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং কালেক্টরের নিচে নন এ রকম রাজস্ব কর্মকর্তা প্রত্যেকেই তাঁদের বা নিজ নিজ আদালতের এবং তাঁর অধস্তন আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে টাউটদের তালিকা তৈরি করতে পারে এবং কোনো ব্যক্তি টাউট হিসাবে কাজ করলে তাকে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হতে পারেন। এছাড়াও অত্র আইনে আরো বলা হয়েছে, যেক্ষেত্রে টাউট তার অপরাধ স্বীকার করে সেক্ষেত্রে তার আটক, বিচার ও শাস্তির বেলায় ১৮৯৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধি ৪৮০ ও ৪৮১ ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে । যদি উক্ত টাউট তার অপরাধ স্বীকার না করে উক্ত কার্যবিধির ৪৮২ ধারার বিধান একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
# The Registration Act,1908 এর ২(১১) ধারা অনুযায়ী টাউট (Tout) বলতে বুঝায়-"যিনি বিনা লাইসেন্স-এ দলিল লেখকের কাজ করে বা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজের দালালি করে থাকেন"।
অত্র আইন অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রার তার অফিসে টাউটের একটি তালিকা তৈরি করতে পারেন তবে টাউট ঘোষণার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শো-কজ নোটিশ দিয়ে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনে সুযোগ দিবেন। সাব-রেজিস্ট্রার টাউট কে ২০০ টাকা জরিমানা দন্ডে দন্ডিত করতে পারেন এবং জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ৪৮০ ধারার বিধান অনুসারে তাকে ৩০ দিনের কারাদন্ডে দন্ডিত করতে পারেন।
মোটকথা, টাউট হলো এমন ব্যক্তি যার কোন বিশেষ করার আইনগত অধিকার বা বৈধতা না থাকলেও সে যদি সেই কাজ করে তাহলে সে টাউট।
___________
মোঃ আরিফ হুসাইন
এলএল.বি.(অনার্স)
লেকচারার- গাজীপুর সেন্ট্রাল ল কলেজ, টংগী
শিক্ষানবিশ আইনজীবী- জেলা ও দায়রা জজ আদালাত, ঢাকা
ইমেইলঃ mdarifhossain327@gmail.com
৮। এক ছেলে ও এক মেয়ে আচমকা চেম্বারে উপস্থিত। বিনয়ী ও মার্জিত পোশাকের অধিকারী ছেলেটি বলল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে আমার ঠিকানা পেয়েছে। জানতে চাইলাম আমি কি করতে পারি? আমার এ প্রশ্নে তারা দু’জনেই বেশ বিব্রত অবস্থার মধ্যে লাজুক ভঙ্গিতে বলল, আমরা দু’জনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কিন্তু আমরা পরস্পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই। প্রথমে তাদের নিরুৎসাহিত করি। পরিবার, সমাজ, ধর্ম বিশ্বাস সবকিছু নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। তারা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, বিয়ে হতেই হবে। চেম্বারের আলমারী থেকে ম্যারেজ রেজিষ্টার বইটি বের করে করে খুঁজতে থাকি বিশেষ বিবাহ আইন অধ্যায়টি। পেয়ে যাই ১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইন অংশটি। পুরোটা আয়ত্ত্ব করে ফেলি। ৫০ টাকা ষ্ট্যাম্পের উপর প্রস্তুত করি একটি হলফনামা। প্রস্তুতকৃত হলফনামায় পাত্র-পাত্রী স্বাক্ষর ও ছবি সংযুক্তের পর ওই হলফনামা নোটারি পাবলিক কর্তৃক নোটরাইজড করি। হলফনামায় অবশ্যই ‘বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে’ শব্দগুচ্ছ লিখতে ভুল করলাম না। অতঃপর সরকার অনুমোদিত বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নির্ধারিত ফরম পূরণপূর্বক ৩ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দিলাম।
উল্লেখ্য, বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক প্রথা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার বাহুল্যতা নেই।
১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ অনুষ্ঠানের শর্তাবলীঃ
১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইনের ২ ধারা মোতাবেক বিয়ে অনুষ্ঠানের শর্তাবলী নিম্নরূপ
(ক) বিয়ের সময় বিয়ের পক্ষগণের মধ্যে কারোই কোনও জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবে না,
(খ) গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুসারে পুরুষ ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর এবং মহিলার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হতে হবে,
(গ) পক্ষগণ রক্ত সম্পর্কে বা বৈবাহিক সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারবেন না, যাতে তাদের একজনের ওপর প্রযোজ্য আইন দ্বারা ওই বিবাহ অবৈধ হতে পারে।
আরও জানতে ভিজিট করুন নিয়মিত। জানুন, জানান, শেয়ার করুন, সচেতন হোন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৯। টেলিফোন ও মোবাইল ব্যবহারে অনেকেই অনেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। ফোনে আড়ি পাতা, বার বার ফোন করে বিরক্ত করা, অশ্লীল বা মানহানি কর বার্তা প্রেরণ, ভয়ভীতি দেখানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ অনুযায়ী-
টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি বা বেতার যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কেউ মিথ্যা, প্রতারণামূলক বিপদ সংকেত বা বার্তা পাঠালে তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। আবার দুটি দণ্ডই কার্যকর করা যেতে পারে। কোন ব্যক্তি যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত যদি অন্য কোন ব্যক্তির নিকট এইরূপে বারবার টেলিফোন করেন যে, উহা উক্ত অন্য ব্যক্তির জন্য বিরক্তিকর হয় বা অসুবিধার সৃষ্টি করে, তাহা হইলে এইরূপে টেলিফোন করা একটি অপরাধ হইবে এবং উহার জন্য দোষী ব্যক্তি অনধিক (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে এবং উহা অনাদায়ে অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদন্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
অভিযোগ দায়ের করা যাবে থানায়, বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি পাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।
১০. প্রশ্ন: ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচেছদ আইন অনুযায়ী একজন স্ত্রী কি কি কারণে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে?
উত্তর:
-চার বৎসর যাবৎ স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে বা কোন খোঁজ খবর না রাখলে।
-দুই বৎসর ধরে স্ত্রীর খোরপোষ প্রদানে স্বামী অবহেলা করলে বা ব্যর্থ হলে।
-স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে।
-স্বামী ৭ বছর বা তার চেয়ে বেশী সময়ের জন্য কারাদন্ডে দন্ডিত হলে।
-স্বামী কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর ধরে তার দাম্পত্য দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলে।
-বিয়ের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করার সময় পর্যন্ত বজায় থাকলে।
-স্বামী দুই বৎসর ধরে অপ্রকৃতিস্থ থাকলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্থ বা মারাত্মক যৌনরোগে আক্রান্ত থাকলে।
-আঠারো বৎসর পূর্ণ হওয়ার আগে অর্থাৎ নাবালিকা অবস্থায় স্ত্রীর বিয়ে হয়ে থাকলে এবং উনিশ বৎসর হওয়ার আগেই স্ত্রী বিয়ে অস্বীকার করলে। তবে এক্ষেত্রে স্বামীর সাথে দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলে এরকম মামলা দায়ের করা যাবে না।
-নিম্নলিখিত যে কোন অর্থে স্বামী স্ত্রীর সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করলে-
ক. স্বামী যদি স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে থাকেন;
খ. স্বামী খারাপ চরিত্রের মেয়েদের সাথে মেলামেশা করলে কিংবা নৈতিকতা বর্জিত জীবন যাপন করলে;
গ. স্ত্রীকে জোর পূর্বক নৈতিকতাবিহীন জীবন-যাপনের জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করলে;
ঘ. স্ত্রীর অমতে তার সম্পত্তি হস্তান্তর করলে কিংবা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির ওপর বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা দিলে;
ঙ. স্ত্রীকে তার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা প্রদান করলে।
চ. যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থেকে থাকে এবং পবিত্র কুরআনের নির্দেশ অনুসারে স্বামী তাদের সাথে সমান ব্যবহার না করলে।
-মুসলিম আইনে স্বীকৃত অন্য যে কোন যুক্তিসংগত কারণের উপরও স্ত্রী আদালতে তালাকের অনুমতির জন্য মামলা করতে পারেন।
আদালত বিয়ে বিচ্ছেদের ডিক্রি দিলে ডিক্রির একটা সত্যায়িত কপি আদালতের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাতে হবে। চেয়ারম্যান নোটিশটিকে তালাকের নোটিশ হিসেবে গণ্য করে উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করবেন। চেয়ারম্যান যেদিন নোটিশ পাবেন তার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে।
১১। ১.আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে একটা অদ্ভুত আইন প্রচলিত আছে যে ""পুরুষ নারীর সাথে ভালোবাসার অভিনয় করলে জরিমানা হবে ২৫ ডলার। এ আইনে আরো আছে যে, পুরুষদের শহরের এদিক-সেদিক অযথা ঘোরা ও নারীদের সঙ্গে ভালোবাসার ভান করা যাবে না!!
২.হংকংযে একটা আইন আছে যদি কারো স্ত্রী পরকীয়া করে তবে স্বামী তাকে খুন করতে পারে।তবে শর্ত একটাই খুন করতে হবে খালি হাতে।তবে যে লোকের সাথে পরকীয়া করেছে তাকে অস্ত্র দিয়ে খুন করতে পারবে।
৩.জাপানে কারো বড় ভাই তার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করে ছোট ভাইকে সম্মানীত করতে চাইলে আইন অনুসারে গার্লফ্রেন্ড অসম্মতি জানাতে পারবে না।
১২। ইংল্যান্ডে একটি আজব আইন আছে- "কেউ সুইসাইড মানে আত্নহত্যা করলে সেটাকে অপরাধ হিসেবে ধরা হবে এবং সুইসাইড করার শাস্তি মৃত্যুদন্ড"
এখন যে ব্যক্তি সুইসাইড করে মারা গেছে তাকে আবার কিভাবে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে সেই ব্যাপারে কোন কিছুই লেখা নাই আইনটিতে , হাহাহাহহাহাহা মজার আইন ।
১৩। আইন যেমন নিশ্চিত করেছে মা-বাবার কাছে সন্তানের বেড়ে উঠা, তেমনই নিশ্চিত করেছে বৃদ্ধকালে সন্তানের কাছে মা-বাবার যত্নে থাকা।
দন্ডবিধি অনুযায়ী, পিতা বা মাতা অথবা তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক বার বছরের কম বয়স্ক শিশুর পরিত্যাগ ও বর্জনকরন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যার জন্য আপনার সাজা হতে পারে ৭ বছরের কারাদন্ড বা অর্থদন্ড অথবা উভয়।
একই রুপ সেই পিতা-মাতাকে যদি তাদের বয়স্ককালে যত্ন না নেন, দেখাশুনা না করেন বা ভরণপোষণ না দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য করেন তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর জন্য আপনার ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা তিন মাসের জেল অথবা উভয় দন্ড হতে পারে। পিতা মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী।
ভাল থাকুন, ভাল রাখুন পিতা-মাতাকে। জানুন, জানান, শেয়ার করুন।
#আইনজানুনসচেতনহোন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
১৪।
Abortion is Illegal. গর্ভপাত হত্যার সমতূল্য।
অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যমে বা বিবাহ সম্পর্কের ফলে গর্ভে আসা ভ্রূণ বা শিশুটির জীবন ধ্বংস করা গুরুতর শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
১। নারীর গর্ভপাত করনের শাস্তি তিন হতে সাত বছরের জেলজরিমানা বা উভয়।
২। সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করনের শাস্তি যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের দন্ড।
৩। গর্ভপাতের ফলে নারীর মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ১০ বছর দন্ড বা অর্থ দন্ড অথবা উভয় শাস্তি।
নতুন জীবনটিকে অংকুরেই বিনষ্ট করে দিবেন না, পরিকল্পনা করুন, জীবন ভালোবাসুন জীবন বাঁচান।
#আইনজানুনসচেতনহোন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
১৫. দন্ডবিধি,১৮৬০ অনুযায়ী যে সব অপরাধের জন্য আপনার মৃত্যুদন্ড দেয়া হতে পারে-
১.বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা বা এমন উদ্যাোগ করা বা সহায়তা করা।
২.বিদোহে সহায়তা করা বা সামরিক বাহিনীতে বিদ্রোহ সংগঠিত করা।
৩.মৃত্যুদন্ড যোগ্য অপরাধের দন্ডবিধান করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ দেয়া বা উদ্ভাবন করা।
৪.খুন।
৫.শিশু ও উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তাকরণ।
৬.খুনের উদ্দ্যোগ বা খুনের চেষ্টা করা।
৭.খুন সহ ডাকাতি।
১৬। দেশ -বিদেশের অদ্ভুত আর আজব কিছু আইন
আইন মানুষের উপকারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে বা হয়েছে। মানুষের খারাপ ব্যবহার-কাজ বা উদ্যোগকে ধ্বংস করার জন্য আইন। কিন্তু এমন কিছু আইন রয়েছে যা হাসির উপকরণ হিসেবে আত্বপ্রকাশ করেছে।
ইংল্যান্ড,আমেরিকা বা এমন উন্নত দেশ সমূহে ”টর্ট আইনের” প্রয়োগ রয়েছে। আপনার শরীরে কেউ ছাদ থেকে পানি ফেলে দিল! বা আপনার সামনে এমন একটি কাজ করলো যা আপনার কাছে বিরক্তিকর বা আপনার চুল পরিমান ক্ষতি করলো! তারা এই জন্য আদালতে যেতে পারে। ক্ষতি পূরণের মামলা করে দিতে পারে। কারণ তাদের দেশে বড় বড় অপরাধ যেমন-জমি বিষয়ক বা খুন, মারামারির মত ঘটনার ফলে মামলার সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু আমাদের দেশে এই সব ছোট বিষয় নিয়ে মামলা করার সময় কই? খুন, মারামারি, ভূমি নিয়ে মামলা করতে করতেই কোর্ট ভরে আছে মামলায়।
তবে সে যায় হোক, চলুন আজ কিছু অদ্ভুত আইন জেনে নিই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের-
আমেরিকার অ্যারিজোনায় আইন রয়েছে, কোন ছেলেমেয়ে কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে স্কুলে যেতে পারবে না। আইন ভঙ্গ করলে জরিমানা । ১৮৮০ সালে স্কুলগামী বাচ্চাদের জন্য কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া নিষিদ্ধকরণ আইন পাস হয়। এক সময় স্কুলে যাওয়ার পথে প্রচুর ছেলেমেয়ে রাস্তার পাশের খেত থেকে স্ক্যালিয়ন নামে এক ধরনের কাঁচা পেঁয়াজ কুড়িয়ে খেত। ফলে পেঁয়াজের ভুরভুর গন্ধে ভয়ানক অস্বস্তিতে পড়ে যেতেন শিক্ষকরা। এজন্য শেষমেশ এই কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া নিষিদ্ধকরণ আইন প্রবর্তন করা হয় স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের জন্য। আমেরিকায় আরেকটি প্রাচীন আইন রয়েছে, রসুন খাওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে কেউ গির্জা, স্ট্রিট কিংবা থিয়েটার হলে যেতে পারবে না।
জর্জিয়ায় একটা আইন আছে, ক্লাসরুমে বাচ্চারা পড়াশোনার সময় ভুলেও তাদের মুখোমুখি হওয়া যাবে না। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে একই বাথটাবে এক সঙ্গে দুই শিশুকে গোসল করাতে গেলে সেটা হবে ঘোর অন্যায়।
ম্যাসাচুসেটসে অনেক পুরনো আরেকটা আইন রয়েছে, গির্জায় গিয়ে কেউ চীনা বাদাম খেতে পারবে না। চীনা বাদাম খেতে গেলে খোসা ভাঙতে শব্দ হয় বলেই হইত এই আইনের প্রবর্তন করা হয়েছিল। আমেরিকার কিানেকটিকাট রাজ্যে কড়া আইন রয়েছে, কোনো বাচ্চা পা ওপরে তুলে হাতে হেঁটে রাস্তা পেরোতে পারবে না। এক সময় ছোটদের এ ধরনের প্রবণতা বেশি ছিল বলে কর্তৃপক্ষ এই আইন প্রবর্তনে বাধ্য হয়েছে।
মিশিগানে কঠোর আইন রয়েছে, যদি দোতলার চেয়ে উঁচু কোনো দালান তোলা হয়, তাহলে সেই দালানের প্রতিটা জানালায় একটা করে দড়ি ঝুলিয়ে রাখতে হবে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গুলোর জানালায় দড়ি টানানো আইন করলে মন্দ হত না! মেরিল্যান্ডে হোটেল রুমে মুরগি রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ইলিনয়িসের জিওনে কুকুর বা বেড়ালের দিকে কেউ জ্বলন্ত সিগারেট ছুঁড়ে দিতে পারবে না। মিশিগানের ডেট্রয়েটে কেউ কোনো কুমিরকে জোর করে আগুনের দিকে ঠেলে দিতে পারবে না। হাওয়াই দ্বীপে কানের ভেতর কয়েন গুঁজে রাখা গুরুতর অপরাধ। ক্যালিফোর্নিয়ার সুসানভিলে সুড়–ৎ সুড়–ৎ করে সুপ খাওয়া স্থানীয়দের জন্য অমার্জনীয় অপরাধ সান দিয়েগোতে একটা আইন রয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে গান গেয়ে পেট চালায়, তাদের অবশ্যই কাপড় পরতে হবে। কোন সমস্যা থেকে এই আইনের উদ্ভব হয়েছে, তা বোধ হয় ব্যাখ্যা না করলেও চলবে।
আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে একটা অদ্ভুত আইন প্রচলিত আছে যে, পুরুষ নারীর সাথে ভালোবাসার অভিনয় করলে জরিমানা হবে ২৫ ডলার। এ আইনে আরো আছে যে, পুরুষদের শহরের এদিক-সেদিক অযথা ঘোরা ও নারীদের সঙ্গে ভালোবাসার ভান করা যাবে না! আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আইন আছে, প্রকাশ্যে কোনো ছেলেকে কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখা গেলে ২৫ পয়সা জরিমানা, এই ২৫ পয়সা জরিমানা গুনেই ১৯২১/১৯৫০ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা প্রেম করতো । আইনটি এখনো আছে তবে কার্যকারিতা নাই।
এখানে দেয়া বেশির ভাগ আইন অনেক পুরোনো। যার এখন কার্যকারিতা নেই। তাই আইন প্রয়োগ কারী সংস্থা এই সব নিয়ে আর ভাবে না। এখন এই সব আইন অদ্ভুত আর মজার বলেই মানুষ মনে রাখছে।
অ্যারিজোনায় সাবান চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে শাস্তি হলো, সেই সাবান দিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত চোরকে গোসল করানো, যতক্ষণ পর্যন্ত না সাবানটা পুরোপুরি শেষ হয়। নিউইয়র্কে কোনো উঁচু বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে পড়ার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড! শিকাগো শহরে ১৭ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত সিটি হলের সামনে দিগম্বর বা উলঙ্গ হয়ে প্রতিবাদ করা যায়। ফ্লোরিডায় দিগম্বর বা উলঙ্গ হয়ে øান/গোসল করা অপরাধ বলে গণ্য হবে। ওহিও অঙ্গরাজ্যের অক্সেফার্ডে কোনো পুরুষের পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে পোশাক খোলা মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ।
ইংল্যান্ডে পার্লামেন্টে মৃত্যুবরণ করার শাস্তি মৃত্যুদন্ড আর যদি রাণীর ছবি উল্টো করে লাগানো হয় তে অবশ্যই শাস্তি পাবে। কানাডাতে পাবলিক প্লেসে প্রস্রাব করা ও থুথু ফেলার জন্যে ১০০ কানাডিয়ান ডলার জরিমানা দিতে হয়। সৌদি আরবে দরিদ্র হওয়া আইনত নিষিদ্ধ। যদি কোন সৌদি নাগরিক যথাযথ আইনসম্মত আয়-রোজগার না করেন তাহলে তাকে কারাগারে বন্দি রাখার বিধান রয়েছে। পর্তুগালে সমুদ্রে মূত্রত্যাগ করা কে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এমনসব আজব ও অদ্ভুত আইন প্রয়োজনের তাগিদে হয়েছিল বা হচ্ছে। তবে এখানকার বেশির ভাগ আইন বর্তমানে অকার্যকর, সভ্যতার বিবর্তন ও সময়ের তাগিতে বিলুপ্ত।
- মতিউর রহমান ফয়সাল
১৭। আরো কিছু আজবসসস আইন-
১. আমেরিকার কলারাডো রাজ্যে, ঘুমন্ত মহিলাকে চুমু খাওয়া বে আইনি। চুপি চুপি চুমো খাওয়া যাবে না।
২. আমেরিকার নিওইয়ার্কে ছাদ থেকে লাফানোর শাস্তি মৃত্যুদন্ড।
৩. নেভাদা' তে কোন ব্যাক্তি যদি বউ পেটানো তে ধরা খায় তাহলে আইন অনুসারে তাকে আট ঘন্টা বেধে রাখা হবে। তার বুকের মধ্যে একটা পোস্টার সেটে দেয়া হবে, “ওয়াইফ বিটার বা বাংলায় বিশিষ্ট বউ মারা বিশেষজ্ঞ।
৪. সামোয়া' তে নিজের বউয়ের জন্মদিন ভূলে যাওয়া বে আইনি। ভুলমনা দের জন্য শনির অবস্থা হত আমাদের এখানে !
৫. ওহিও অঙ্গরাজ্যে কোনো পুরুষের পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে পোশাক খোলা মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ।
*বেশির ভাগ আইন এখন রহিত করা হয়েছে।
১৮। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে একটা অদ্ভুত আইন প্রচলিত আছে-
পুরুষ নারীর সাথে ভালোবাসার অভিনয় করলে জরিমানা হবে ২৫ ডলার। এ আইনে আরো আছে যে, পুরুষদের শহরের এদিক-সেদিক অযথা ঘোরা ও নারীদের সঙ্গে ভালোবাসার ভান করা যাবে না! যদিও হাস্যকর আইন বর্তমানে প্রচলিত নয় বলেই মনে হয়।
আমরাও পিছিয়ে নই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আইন আছে, প্রকাশ্যে কোনো ছেলেকে কোনও মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখা গেলে ২৫ পয়সা জরিমানা করা হবে, এই ২৫ পয়সা জরিমানা গুনেই ১৯২১/১৯৫০ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা প্রেম করতো। আইনটি এখনো আছে তবে কার্যকারিতা নাই ।
১৯। রিমান্ড’-এ থাকাবস্থায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশি আচরণ সম্পর্কে ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট নিম্নবর্ণিত চারটি দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন
(ক) কাঁচের দেয়াল সম্পন্ন একটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
(খ) জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে অভিযুক্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
(গ) প্রতিবার রিমান্ডের মেয়াদ তিন দিনের বেশি হবে না।
(ঘ) কাঁচের দেয়াল নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আসামির আইনজীবি ও আত্মীয়স্বজনদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড ট্রাস্টসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা রিমান্ড প্রশ্নে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। এটি করা হয় সন্দেহজনক গ্রেফতার সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারার অপব্যবহার চ্যালেঞ্জ করে। ২০০৩ সালের ২৭শে এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ঐ দু’টি ইস্যুতে প্রচলিত আইন সংশোধনের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনা আপিল বিভাগ স্থগিত করেনি। হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়,
১। আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে না।
২। কাউকে গ্রেফতার দেখানোর সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে।
৩। গ্রেফতারের কারণ একটি পৃথক নথিতে পুলিশকে লিখতে হবে।
৪। গ্রেফতারকৃতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারি সনদ আনবে পুলিশ।
৫। গ্রেফতারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে পুলিশকে।
৬। বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যদি কাউকে আটক করা হয় তাহলে আটক ব্যক্তির নিকট আত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।
৭। আটক ব্যক্তিকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে।
৮। জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের কাঁচনির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন।
৯। কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিনদিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে।
১০। জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ঐ ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে।
১১। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন। বোর্ড যদি বলে, ঐ ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাকে দ-বিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।
১২। পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে।
১৩। পুলিশ বা কারা হেফাজতে কেউ মারা গেলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে তা তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তে বা তদন্তে যদি মনে হয়, ঐ ব্যক্তি কারা বা পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তা তদন্তের নির্দেশ দিবেন।
এই ১৩ দফাই হলো রিমান্ডের ব্যাপারে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা। এসব নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ হয়নি, অথবা আপিল বিভাগ এসব নির্দেশনা বাতিল বা সংশোধন করেনি।
কোন আইনে নেই, কেউ কাউকে নির্যাতন করতে পারে । অপমান করতে পারে না । প্রমান করতে পারলে এসব শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
★★ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড.আই. খান পান্না ভাইয়ের ওয়াল থেকে কপি পেস্ট।
২০। আপনার পরিচিতজন বা কোন নারী ধর্ষণের শিকার হলে সাথে সাথে যেসব কাজ অবশ্যই করবেন:
১. যতদ্রুত সম্ভব উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে অথবা থানার মাধ্যমে পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে
২. ‘মেডিক্যাল টেস্ট পরে করলেও হবে’ এই ধারণা নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। যতদ্রুত সম্ভব মেডিকেল টেস্ট করতে হবে। না হলে আলামত নষ্ট হতে পারে বা পরবর্তীতে মামলার ক্ষেত্রে আসামীর অনুকুলে প্রতিবেদন যেতে পারে।
৩. ধর্ষণের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি বা আদেশের কোনও প্রয়োজন নেই
৪. লোক জানাজানি হবে এই ভয়ে ঘরে বসিয়ে রাখা একদম চলবে না, নিজের অত্যাচারের শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণে সচেতন হয়ে এগিয়ে যেতে হবে সাহসের সাথে। পুলিশ থানার মতোই, হাসপাতালও রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করতে দায়বদ্ধ।
৫. ‘আগে এফ আই আর করে আসুন’ এটা বলার অধিকার হাসপাতালের নেই। আক্রান্ত মেয়েটি হাসপাতালে আগে এলে পুলিশে খবর দেওয়ার দায়িত্ব হাসপাতালের।
৬. ‘মেডিক্যাল টেস্টে যদি ধর্ষণ প্রমাণ না হয়?’ এই ভেবে ঘাবড়াবেন না। ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট এ বিষয়ে চরম প্রমাণ নয়। মেয়েটির নিজের বক্তব্য এবং সাক্ষীদের বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় আদালতে।
৭. যে কোনও কারণে শারীরিক, মানসিক ধকল গেলে গোসল করলে অনেকটাই শান্তি পাওয়া যায়, তবে এই ক্ষেত্রে অবশ্যই নয়। মেডিক্যাল টেস্ট না-হওয়া পর্যন্ত গোসল করতে নিষেধ করেন ডাক্তাররা, কারণ তাতে বহু প্রয়োজনীয় প্রমাণ লোপ পেয়ে যায়। নিজেকে শান্ত করতে মাথায়, ঘাড়ে পানি দিয়ে মুছে নিন।
৮. ‘নোংরা কাপড় ধুয়ে ফেলি’: এতেও অনেক প্রমাণ লোপ পেয়ে যায়। জামায় মাটির বা ময়লার দাগ আছে কি না, তা কোথাও ছিঁড়েছে কি না, তাতে দেহরস, রক্ত বা অন্য কিছুর দাগ আছে কি না, তা সবই আইনের চোখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জামা-কাপড়, অন্তর্বাস, কোনও কিছুই কাচবেন না, ভাঁজ করে ঢুকিয়ে রাখুন প্লাস্টিকের প্যাকেটে। পুলিশকে দিন এবং খোঁজ রাখুন, তা ফরেন্সিক পরীক্ষা করতে পাঠানো হল কি না।
৯. এফআইআর করার সময় পুলিশের কাছে সব কিছু বণর্ণা করুন। পুলিশকে নিজের ইচ্ছেমত লিখতে দিবেন না, এতে অনেক তথ্য বাদ যেতে পারে। এটা মামলাকে দুর্বল করে। ঘটনার সময়, ঠিক কোথায় ঘটেছে, কী কী ঘটেছে, যেখানে যেখানে আঘাত-চোট লেগেছে, যে সব ধরনের নির্যাতন করেছে, সব কথাই নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বলতে হবে। অভিযুক্তের নাম জানা থাকলে অবশ্যই লিখুন, নইলে দিতে হবে তার বিবরণ, যতটা সম্ভব। লজ্জা, ভয় ঝেড়ে ফেলে নির্ভেজাল সত্যি কথা লিখুন।
১০. ‘বাইরে মিটমাট করে নেওয়াই ভাল’: এই পরামর্শ পুলিশ, পাড়াপড়শি কখনও কখনও দিয়ে থাকে। নানা যুক্তি দেওয়া হয়, যেমন ‘রোজ কোর্টে যেতে হবে, কোনও দিন প্রমাণ হবে না, জানাজানি হয়ে যাবে, মেয়ের বিয়ে হবে না, বরং ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে নিন।’ মনে রাখবেন, কোর্টে রোজ যেতে হয় না, সবার সামনে বিচার হয় না, আক্রান্ত মেয়েটি যদি কাউকে সঙ্গে চায় তবে সে-ই থাকে বিচার কক্ষে, নইলে দু-পক্ষের উকিল এবং বিচারক কেবল থাকেন। বিচার হয় বন্ধ ঘরে (‘ইন ক্যামেরা’)। বিপক্ষের উকিল যাতে অশালীন, অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতে না পারেন তার জন্য বিচারক রয়েছেন আপনার পাশে।
১১.‘মেয়েটারও দোষ আছে’: অভিযুক্ত অনেক সময়েই দাবি করে, মেয়েটির সম্মতি ছিল। মেয়ের বয়স ১৬-র নীচে হলে তার সম্মতির প্রশ্নই ওঠে না। বালিকার সঙ্গে যে কোনও যৌন সংসর্গই ‘ধর্ষণ’। ভুল বুঝিয়ে, ভয় দেখিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে (যেমন বিয়ের প্রতিশ্রুতি) সম্মতি আদায়ও ধর্ষণ। প্রাপ্তবয়স্ক হলেও, অভিযোগ জানাতে মেয়েটির কথাই শেষ কথা। সম্মতি ছিল কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্যই গণ্য করবে পুলিশ।
-চলুন ধর্ষণ প্রতিরোধে এগিয়ে যাই, সম্মান করি নারীদের, কঠিন শাস্তির বিধান করি ধর্ষণকারীর। শেয়ার করুন।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র #StopRapeCulture
২১। কিছু বিচিত্র আইন-
১. দক্ষিণ কোরিয়াতে,ট্রাফিক পুলিশকে রিপোর্ট করতে হয় মটর চালকদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহন করলে। ( আমাদের দেশে এই আইন করলে কাজ হত :P)
২. ক্যালিফোরনিয়াতে ইদুর ধরার কল দিয়ে ইদুর মারার জন্য আপনাকে শিকারের লাইসেন্স লাগবে। ( আর আমার দেশে বন্যপ্রাণী হত্যার জন্য কঠিন শাস্তি আছে তার পরেও হত্যা করা মামুলী ব্যপার! :/ )
৩. চীনে, ডুবে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করার অনুমতি নেই,কারন কারো ভাগ্যের/fate বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যায় না। (রাখেন মিয়া ভাগ্যের বিষয়, আগে বাচাঁবো আমরা, পরে আইন ^_^ )
৪. আর্কনেস শহরে, বউকে মাসে একবারের বেশি মারধোর করতে পারবেন না। তা অপরাধ। (একদিন=২৪ ঘন্টা :O )
৫. ফ্রান্সে গেলে সাবধান- ট্রেনে আপনার প্রিয়সীকে Kiss করাতে যাবেন না। এটা নিষিদ্ধ। (আমরার দেশে এই বিষয়ে কোন আইন নাই।
২২। আসুন কিছু ইংরেজি শব্দের অর্থ জেনে নেই যেগুলো নিয়ে আইনজীবী সমাজে ও সমাজের বাহিরেও ব্যাপক বিতর্ক আছে। আমি আজকে আপনাদের এই বিষয়টা ক্লিয়ার করার চেস্টা করবো।
Advocate- উকিল, যিনি আইনপেশা পরিচালনা করার জন্য সনদ প্রদানকারী সংস্থা বা কতৃপক্ষের নিকট হতে সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন। মনে রাখবেন " সকল উকিল ই আইনজীবী কিন্ত সকল আইনজীবী উকিল নয়"
Lawyer- আইনজীবী, যার আইন বিষয়ে ডিগ্রি আছে এবং আইন পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
Apprentice- শিক্ষানবিশ, যে কোন স্বাধীন কলা কৌশলের বা পেশায় প্রবেশের লাইসেন্স পাবার জন্য স্বশরীরে বাস্তব কাজের শিক্ষা গ্রহণকালীন সময়কে বলা হয় শিক্ষানবিশ। যেমনঃ শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স।
Pupil- শিক্ষাধীন ছাত্র, এই শব্দটির অর্থ হলো ছাত্র থাকাকালীন উক্ত বিষয়ে পারদর্শী কারো শিষ্যত্ব গ্রহনের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করা। Apprentice এবং Pupil মুল পার্থক্য হচ্ছে Apprentice শুরু হয় ডিগ্রি শেষ হওয়ার পরে আর Pupil শুরু হয় ডিগ্রি শেষ হওয়ার আগে। যদিও আমাদের ইন্টিমেশন এ নিয়মটা ব্যাতিক্রম! এখানে আইনের ডিগ্রী শেষ করার পর Pupil শুরু হয় যে কারনে শিক্ষানবিশেরা Pupil আর Apprentice এর শব্দার্থ নিয়ে গোলক ধাধায় পড়ে যায়।
Prosecutor- কৌশলী/ দাবি উত্থাপনকারী। (ক্রিমিনাল মামলায়)
Pleader- প্রতিনিধি/ পক্ষসমর্থনকারী (সিভিল মামলায়)
Barrister- যুক্তরাজ্য ও স্কটল্যান্ড এর নিয়মানুযায়ী ব্যারিস্টার হচ্ছেন আইন ডিগ্রিধারী ব্যাক্তি যিনি আইনের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে বিশেষ বিষয়ে পারদর্শী হয়ে থাকেন এবং সলিসেটরকে এবং অনেকসময় ক্লাইন্টকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন।
Solicitor- যুক্তরাজ্য ও স্কটল্যান্ড এর নিয়মানুযায়ী, সলিসিটর হচ্ছেন মামলা গ্রহনকারী ও কোর্টে পেশকারি। মামলা ফাইলিং, ইনভেস্টিগেশন, প্রয়োজনে কোর্টে উত্থাপন করে থাকেন সলিসিটর। মামলার নির্দিষ্ট স্টেজে তারা প্রয়োজনে ব্যারিস্টার এর পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন। তবে নতুন আইন অনুযায়ী বর্তমানে ব্যারিস্টারগনও ক্লাইন্ট থেকে মামলা গ্রহণ করতে পারেন।।
Attorney- মোক্তার/ আইনগত প্রতিনিধি। আমেরিকাতে এটর্নি বলতে সেখানকার উকিল বুঝায়। ইংল্যান্ডে বিদেশি উকিল হচ্ছে এটর্নি।
অনেক এডভোকেট স্যারদের দেখেছি শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের শুধু শিক্ষানবিশ পরিচয় প্রদান করতে বেশী সাচ্ছন্দ্য করেন। আইনজীবী ট্যাগটা তারা প্রদান করতে চান না। অনেকের ধারণা আইনজীবী মানেই সনদধারী হতে হবে। এই কারনে নব্য কোর্টে প্রবেশকরা নবীন আইনজীবীরা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগেন।
এক্ষেত্রে কোন শিক্ষানবিশ আইনজীবী চাইলে নিজেকে পরিচয় দেয়ার ক্ষেত্রে "শিক্ষানবিশ আইনজীবী" বা "শিক্ষানবিশ" বা শুধু "আইনজীবী" শব্দও ব্যাবহার করতে পারেন। আমার মতে এতে তাদের কোন ভুল হবে না।
উপরোক্ত তথ্যগুলোর সোর্সঃ ব্লাক'স ল ডিকশনারি, উইকিপিডিয়া, গুগল, অক্সফোর্ড ডিকশনারি, লন্ডন ল ফোরাম।
লেখক: সিফাত
২৩। পরিবারের প্রবীণ নাগরিক তথা পিতা-মাতার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে আইন। যা পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন একটি জনকল্যাণকর আইন। বাংলায় প্রণীত এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় সেহেতু আইনটি প্রণয়ন করা হলো। অর্থাৎ কোনো সন্তান যদি কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করে তাহলে তারা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের অধীনে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবেন।
কে কাকে ভরণপোষণ করবে? আইনে ভরণপোষণ প্রদানে সন্তান বলতে শুধু পুত্রকেই বোঝায়নি বরং কন্যাকেও বুঝিয়েছে। অর্থাৎ পিতা- মাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব শুধু ছেলের একার নয় বরং মেয়েকেও নিতে হবে। এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আনা হয়েছে। আর ভরণপোষণ শুধু কোনো বিশেষ সন্তান নেবে তা নয় বরং সবাইকে নিতে হবে। তবে একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ- আলোচনা করে তাদের পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করবে। কোনো সন্তান পিতা-মাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। প্রত্যেক সন্তানকেই তাদের পিতা- মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে। পিতা-মাতা একত্রে বা আলাদা বসবাস করলে প্রত্যেক সন্তানকে সাধ্যমতো তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে।
👉কী পরিমাণ ভরণপোষণ দিতে হবে?
পিতা-মাতা যদি সন্তানের সঙ্গে বসবাস না করেন তবে তাদের প্রত্যেক সন্তান নিজ নিজ উপার্জন থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। পিতা-মাতা ছাড়া আর কাকে ভরণপোষণ দিতে হবে? আইনটি শুধু পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পিতা- মাতার অবর্তমানে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণপোষণ বিষয়েও জোর দিয়েছে। পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদিকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানিকে পিতা- মাতার মতো ভরণপোষণ দিতে হবে।
👉অপরাধের শাস্তি কী?
আইনটি সন্তানদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি অপরাধ, দ- ও বিচারব্যবস্থা কেমন হবে সে বিষয়েও বিধান দিয়েছে। যেমন_ কেউ যদি এই বিধানাবলি লঙ্ঘন করে তবে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদ- হতে পারে। অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদ- প্রদান করতে পারে আদালত।
Adv.Motiur Rahman Foisal
২৪। মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচার কিছু টিপসঃ
১. আপনি যদি প্রবাসী হোন তাহলে পুরাতন নতুন কোন ডকুমেন্ট হারাবেন না। যেমন, পার্সপোর্ট, টিকেট, ফ্লাইট শিডিউল ইত্যাদি। কখন কাজে আসবে ভাবতেও পারবেন না!
২. যদি মিথ্যা মামলা হয়ে থাকে, প্রায়সই নিজের স্থান পরিবর্তন করুন, এরেস্ট এড়াতে।
৩. গ্রেপ্তার হওয়ার চেয়ে স্যারেন্ডার করে বেইল চাওয়া উত্তম। (পুলিশী হয়রানী এড়াতে)
৪. মিথ্যা সাজানো ঘটনার সময়কাল, সেই সময় আপনার অবস্থান ইত্যাদি ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে বের করুন। অন্যত্র ছিলেন (Alibi) প্রমাণ করার চেস্টা করুন।
৫. এন্টি পার্টির কনভার্সেশন রেকড় করার চেস্টা করুন, দলিল হিসাবে গণ্য না হলেও মামলা দুর্বল করবে।
৬. উপরোক্ত তথ্যাবলী আপনার আইনজীবীকে প্রদান করে আপনার পক্ষে রেমেডি সহজ করুন।
ধন্যবাদ,৷
(এডভোকেট এন ইউ মিয়াজী)
২৫। পুলিশের এক ধমকেই দমে যাবেন?
বুকে সাহস রাখতে চেষ্টা করুন, পুলিশকেও বুঝিয়ে দিন আপনি সচেতন আইন জানা পাবলিক।
সাদা পোষাকে নিজেকে কেও পুলিশ সদস্য দাবি করে আপনাকে আটক করতে আসলেই সে আপনাকে ধরতে পারবে না, যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হচ্ছেন যে তিনি পুলিশ। পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি), ১৯৪৩ অনুযায়ী, 'সাদা পোষাকের পুলিশ অফিসারগণের পরিচয় পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।' তাই আপনাকে ধরতে আসলে অবশ্যই আপনার উচিত হবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া। সচেতন হওন, আপনি আইন সচেতন হলে পুলিশও তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও ধমক-জোরের উপর কাজ করে আপনাকে হয়রানি করতে পারবে না। একই আইন অনুযায়ী, পুলিশকে জনগণকে হয়রানি করা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। তাই নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাদা পোষাকে আপনাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হতে সচেতন হওন।
বাস্তবতা কঠিন আমরা জানি, কিন্তু আইন সচেতনতা পারবে আমাদের নতুন সভ্য সমাজ গড়ে তুলতে।
তাই #আইনজানুনসচেতনহওন সাথে থাকুন আইন শিক্ষা কেন্দ্র
২৬। বাংলার বিলুপ্তপ্রায় অপ্রয়োগিক আইনঃ
১. ৯৫ বছর আগে করা 'কিশোর ধূমপান আইন ১৯১৯' অনুযায়ী ১৬ বছরের কম বয়স্ক ব্যক্তির কাছে ধূমপানের উপকরণ বিক্রয় ও সরবরাহ নিষিদ্ধ ছিল। এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের প্রথমবারের অপরাধের জন্য ১০/- টাকা, ২য় বারের অপরাধে ২০/-টাকা এবং পরবর্তী অপরাধে ৫০/- টাকা জরিমানা ছাড়াও ১৬ বছরের নীচের বয়সী ব্যক্তির কাছে তামাক ও ধূমপান এর উপকরণ পাওয়া গেলে তা আটক ও ধক্ষংসের বিধান ছিল।
২. তারও আগে 'রেলওয়ে আইন, ১৮৯০' এর ১১০ ধারায় নির্ধারিত কামরা ব্যাতীত এবং সহযাত্রীদের সম্মতি ব্যাতীত রেলগাড়িতে ধূমপানের শাস্তি ২০/- টাকা ধার্য হয়।
৩. ১৯২০ সালের 'পশুর প্রতি নিমর্মতা আইন' অনুযায়ী, পশুকে অত্যাচার, কষ্ট দেওয়া, ভার বহনে বাধ্য করার শাস্তি ১০০ টাকা ধার্য্য করা হয়।
খাতা কলমে এসব আইন এখনও বিদ্যমান।
সত্যি কথা বলতে আমরা নতুন আইন করতেই পছন্দ করি, পুরোনো গুলোকে যুগোপযোগি করে প্রয়োগে উৎসাহিত কখনই নই।
২৬। বিদেশ ভ্রমণে সতর্কতা: অস্বাভাবিক কিছু আইন যা বিদেশে আপনাকে হাতকড়া পরাতে পারে
যারা বিদেশে বেড়াতে যায়, বলা হচ্ছে তাদের জন্য স্থানীয় আইন কানুন এবং আচার সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর এ বছরের গোড়ার দিকে ব্রিটেন থেকে যারা বিদেশ বিদেশে গিয়ে ঝামেলায় যাতে না পড়েন, নিরাপদে থাকতে পারেন, তার জন্য বিবিসি তৈরি করেছে এই পরামর্শগুলো।
#থাইল্যাণ্ডে গিয়ে টাকার ওপর পাড়া দেবেন না
থাইল্যাণ্ডে রাজার ছবি খুবই গুরুত্বপূর্ণ
থাইল্যাণ্ডে রাজতন্ত্রকে অপমান করার বিরুদ্ধে যে আইন রয়েছে তা খুবই পুরোন এবং বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে কঠোর আইন।
এই আইন অনুযায়ী থাই রাজপরিবারের কারো ছবিকে অপমান করা গুরুতর অপরাধ।
যেহেতু ব্যাঙ্কনোটের ওপর রাজার ছবি রয়েছে, তাই থাই নোট পা দিয়ে মাড়ালে বা কারো পায়ের তলায় পড়লে আপনাকে সোজা হাজতে পাঠানো হবে।
#চুয়িং গাম নিষিদ্ধ
চুয়িং গামের কারণে জেল খাটতে পানে
থাইল্যাণ্ডে মেঝেতে চুয়িং গাম ছুঁড়ে ফেলা অপরাধ।
এ অপরাধের সাজা ৪০০ পাউণ্ড সমমূল্যের জরিমানা এবং অনাদায়ে সম্ভবত কারাবাস।
চুয়িং গাম নিয়ে সিঙ্গাপুরেও রয়েছে কড়া আইন। সেখানে ব্যতিক্রম শুধু মাড়ির চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত গাম অথবা ধূমপান বন্ধ করার জন্য চিবানোর গাম। এই দুই ধরনের গাম ছাড়া সিঙ্গাপুরে কোনধরনের চুয়িং গাম কেনাবেচা নিষিদ্ধ।
#শহরে সাঁতারের পোশাক নিষিদ্ধ
স্পেনের বার্সেলোনা শহরে সমুদ্র সৈকতের বাইরে জনসমক্ষে সাঁতারের স্বল্পবাস পরে ঘুরে বেড়ানো আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২০১১ সালে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি পর্যটকরা সাঁতার কাটার স্বল্প বাস পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এ নিয়ে স্থানীয় মানুষ প্রচারাভিযান চালানোর পর এই আইন চালু করা হয়েছিল।
কাজেই অর্ধ-নগ্ন হয়ে কেউ ঘুরে বেড়ালে তাকে প্রায় ১০০ পাউণ্ড সমমূল্যের জরিমানা দিতে হবে।
#সমুদ্রে প্রস্রাব করবেন না
পর্তুগালে সাগরে প্রস্রাব করবেন না। এটা আইন বিরুদ্ধ।
যদিও সমুদ্রের পানিতে থাকা অবস্থায় কেউ প্রস্রাব করলে তা কীভাবে ধরা যাবে এবং কীভাবে তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা যাবে তা স্পষ্ট নয়।
তবে প্রস্রাবের জন্য টয়লেট ব্যবহার করাই আইনের ফাঁদে না পড়ার শ্রেষ্ঠ উপায়।
#কীধরনের ওষুধ আপনার সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন?
উত্তেজক ওষুধের বিরুদ্ধে জাপানে আইন অত্যন্ত কঠোর। ফলে ঠাণ্ডা লাগার কারণে যেসব ওষুধ নাক বা মুখ দিয়ে টেনে ভেতরে নিতে হয় অর্থাৎ ''ইনহেল'' করতে হয়, সেধরনের ওষুধ নিয়ে জাপানে খুব সতর্ক থাকা দরকার।
জাপানে ঢোকার সময় এধরনের ওষুধ সঙ্গে থাকলে সাবধান। এর ব্যবহার নিয়ে কোনরকম সন্দেহ হলে আপনাকে আটকানো হতে পারে এবং ওষুধ জব্দ করা হতে পারে।
সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে স্পেন, সংযুক্ত আরব আমীরাত, ফ্রান্স, থাইল্যাণ্ড এবং আমেরিকা - এই পাঁচটি দেশ সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকার সম্প্রতি পরামর্শ জারি করেছে। কারণ ২০১৬ থেকে ২০১৭র এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে আইনের জাঁতাকলে পড়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ব্রিটেনের ৮২৯জন।
লেখা ও ছবি কৃতজ্ঞতা: বিবিসি বাংলা
২৭। উকিলের বুদ্ধিঃ
ভিড় রাস্তায় এক উকিলের সাইকেলের মাডগার্ডে লেগে ভবেশবাবুর ধুতি ছিঁড়ে গেলো!
ভবেশবাবু সাথে সাথে উকিলকে হাত ধরে সাইকেল থেকে নামিয়ে বললেন- যাচ্ছেন কোথায়? আমার ধুতির দাম দিয়ে যান!
উকিল জিজ্ঞেস করলেন- ধুতির দাম কত? ভবেশবাবু বললেন ২০০ টাকা।
উকিল ভালো মানুষের মতো পকেট থেকে দুশো টাকা বের করে দিয়ে দিলেন!
এবার ভবেশবাবু খুশিমনে দুশো টাকা পকেটে পুরে যেই রওয়ানা হবেন, উকিল মহাশয় তার হাত চেপে ধরে বললেন- যাচ্ছেন কোথায়? আগে আমার ধুতি খুলে দিয়ে যান! ধুতির দাম দিয়ে দিয়েছি, এখন এই ধুতি আমার। ভবেশ বাবুর চোখ কপালে! উকিলের ‘আব্দারে’ তিনি ক্ষেপে উঠলেন।
কিন্তু আইনওয়ালা নাছোড় বান্দা। ধুতিটি না নিয়ে যাবেন-ই না।
হৈ চৈ শুনে তখন সেখানে বেশ কিছু লোক জমে গেছে, তারাও ন্যায় বিচারে ব্যস্ত হলেন এবং বিস্তর বুদ্ধি খাটিয়ে ভবেশ বাবুকে বললো- উনি যখন আপনাকে ধুতির মূল্য দিয়ে দিয়েছেন, তাহলে তো উনি এখন ধুতির মালিক; আপনি ধুতি খুলে উকিলবাবুকে দিয়ে দিন!
ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে ভবেশবাবু বললেন- উনাকে ধুতি দিয়ে দিলে আমি কি এই লোকভরা রাস্তায় উলঙ্গ হয়ে ঘরে যাবো?
জাবাবটা দিলেন উকিল- অতশত জানি না, বুঝিও না। শুধু জানি ধুতিটি আমার কেনা এখন। আপনি আমার ধুতি আমাকে দিয়ে যান।
এমন গ্যাড়াকলে জড়িয়ে ভবেশবাবুর ভবলীলা সাঙ্গ হওয়ার মতো অবস্থা হলো ক্রোধে। কিন্ত শেষে বাধ্য হয়ে বললেন- আপনি আপনার দুশো টাকা ফেরত নিয়ে নিন, আমি ছেঁড়া ধুতিতেই কোনমতে বাড়ি ফিরতে পারবো।
কিন্তু উকিল বললেন- আমার ধুতি আমি দুই হাজার টাকার কমে বেচবো না, লাগলে বলুন!
কি আর করা! ভবেশবাবু উল্টো নিজের গাঁটের দুই হাজার টাকা দিয়ে ছেঁড়া ধুতিতেই ঘরে ফিরলেন।
ফেরার পথে শুধু ঠোঁট কামড়ালেন একথা মনে করে- লোকটা যে উকিল ছিল আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি...কেন!?
[সংগৃহীত]
২৮। ডাইনি পুরিয়ে মারার আইন-
ডাইনি মানে অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য ১৬০৪ সালে ইংল্যান্ডের রাজা কিং জেমস witch craft act নামে একটা আইন প্রনয়ন করেন। এই আইনে যারা কালোশক্তি মানে ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যবহার করবে তাদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়।সাধারনত যারা কৃষ্ণশক্তি বা এই ব্ল্যাকম্যাজিক ব্যবহার করত তাদের বলা হত ডাইনি। ডাইনিদের পুড়িয়ে মারা হত,যদিও বিধান ছিল ফাসিতে ঝুলিয়ে মারা। এই আইনের আওতায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে মারা হয়। ।১৯৫১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এই আইন বাতিল করে দেয়।
২৯। আজ জাতীয় সংবিধান দিবস।১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়, যা ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে কার্যকর হয়। নিচের ছবিটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের একটি পৃষ্ঠা।
চলুন জেনে নিই সংবিধান সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ
১. বাংলাদেশের সংবিধানের প্রনয়ণের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২৩ মার্চ, ১৯৭২।
২. বাংলাদেশের সংবিধান উত্থাপিত হয় ১২ অক্টোবর, ১৯৭২।৩. গনপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
৪. বাংলাদেশের সংবিধান বলবৎ হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
৫. সংবিধান প্রনয়ণ কমিটির সদস্য ছিলেন ৩৪ জন।
৬. সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান কে ছিলেন ডঃ কামাল হোসেন।
৭. সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বেগম।
৮. বাংলাদেশ সংবিধানের ২টি পাঠ রয়েছে, বাংলা ও ইংরেজি।
৯. প্রস্তাবনা দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান শুরু ও ৪টি তফসিল দিয়ে শেষ হয়েছে।
১০. ২০১৩ সাল পযর্ন্ত সংবিধানের ১৫টি সংশোধন হয়েছে।প্রথম হস্তলেখা সংবিধান বিষয়ক তথ্যঃ
১১. বাংলাদশের প্রথম হস্তলেখা সংবিধানের মূল লেখক আবদুর রাউফ।
১২. অঙ্গসজ্জা করেছেন শিল্পি হাশেম খান।
১৩. তত্ত্ববধানকারী শিল্পচার্য জয়নুল আবেদীন।
১৪. চামড়ার কাজ করেছিলেন সৈয়দ শাহ্ আবু শফি।
১৫. মুদ্রণঃ বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রাণালয়।
১৬. পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১০৯১৭. অঙ্কনঃ - জুনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আবুল বারক আলভী।
-সমোন্নত থাকুক সংবিধানের মযার্দা। চলুক দেশ সংবিধান মত। শক্তিশালী করা হওক সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি, প্রয়োগ হওক সবর্ত্র, বন্ধ হওক রাজনৈতিক প্রয়োজনে সংশোধনী।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৩০. মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের মধ্যে পার্থক্য সমূহ :
১।সকল মৌলিক অধিকারই মানবাধিকার কিন্তু সকল মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়।কেবলমাত্র ঐ সকল মানবাধিকার মৌলিক অধিকার যেগুলো কোন দেশের সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয়।সুতরাং মানবাধিকারের ক্ষেত্র ব্যাপক কিন্তু মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্র সংকীর্ণ।
২। ১৯৪৮ সালে ১০ ডিসে জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা অনুযায়ী মানবাধিকার হল ২৫ টি।
অপরদিকে মৌলিক অধিকারের এরকম কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই।মৌলিক অধিকার একেক রাষ্ট্রে একেক সংখ্যা। যেমন -বাংলাদেশ সংবিধানে মৌলিক অধিকার ১৮ টি।
৩। মানবাধিকার
জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-নারী-পুরুষনির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। একজন মানুষ জন্মগ্রহণ করার পরই কিছু মানবাধিকার লাভের হকদার যেমন-তার বাঁচার অধিকার,খাওয়ার অধিকার ইত্যাদি।
কিন্তু মৌলিক অধিকার প্রধানত একটি দেশের নাগরিকের জন্যই প্রযোজ্য।
৪। মানবাধিকার এবং তার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়।
৫। মানবাধিকার কোন দেশের আইন দ্বারা বলবৎ করা যায় না।
কিন্তু মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট দেশের আইন দ্বারা বলবৎ করা যায়। অর্থাৎ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে দেশীয় আদালতে মামলা দায়ের করা যায় না।কিন্তু যেসকল মানবাধিকার গুলি কোন দেশের মৌলিক অধিকার সেগুলো লঙ্ঘিত হলে ঐ দেশের আদালতে মামলা করা যাবে।
২৯. হঠাৎ মিথ্যা মামলা হলে কি করবেন ?
কেউ আপনার বিরুদ্ধে শত্রুতা করে মিথ্যা মামলা ঠুকে দিলেন। আপনি মামলার খবর শুনে যতটা হতবাক, তার চেয়েও দুশ্চিন্তায় পড়লেন, কীভাবে মিথ্যা মামলার অভিযোগ থেকে রেহাই পাবেন। মনে রাখতে হবে, আপনি অপরাধী, না নিরপরাধ, সেটি মামলায় অভিযুক্ত হলেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আইনের চোখে আপনার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আপনি নিরপরাধ।
ধরুন, আপনার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা হলো। আপনি দোষী বা নির্দোষ, সেটি পরে প্রমাণিত হবে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে আপনি যেন এ মামলা সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে। যদি আপনার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়, তাহলে এজাহারের কপিটি সংগ্রহের চেষ্টা করুন। আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন। মামলার এজাহারে দেখতে হবে, অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য বা অযোগ্য কি না।অভিযোগ তেমন গুরুতর না হলে এবং জামিনযোগ্য হলে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। অনেক সময় অভিযোগ জামিন-অযোগ্য হলে অনেককে হাইকোর্ট বিভাগে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে আগাম জামিন চাইতে দেখা যায়। হাইকোর্ট বিভাগ আগাম জামিন সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। এ মেয়াদের মধ্যেই নিম্ন আদালতে গিয়ে জামিননামা সম্পাদনের জন্য আবেদন করতে হবে। আদালতে প্রতি তারিখে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে আপনার জামিন বাতিল করে দিতে পারেন আদালত। জামিন সাধারণত পুলিশ প্রতিবেদন হওয়ার আগেই চাইতে হয়। তবে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করার আগে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে, তা প্রমাণের চেষ্টা করুন।তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন। চার্জশিট বা অভিযোগপত্র হয়ে গেলে আপনার মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলি হবে। অভিযোগ গঠনের দিন আপনাকে হাজির হয়ে নতুন করে পূর্বশর্তে জামিন চাইতে হবে এবং জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। তখন আপনি মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।
যদি এমন হয় যে আপনি জানতে পারলেন না, আপনার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার হয়েছে। পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেপ্তার করল। আপনাকে থানায় নিয়ে গেল। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। তখন আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে। যদি রিমান্ড চায় পুলিশ, তাহলে আপনার আইনজীবীর উচিত হবে রিমান্ড বাতিলের জন্য আবেদন করা। যদি জামিন দেন আদালত, তাহলে একজন পরিচিত জামিনদারের জিম্মায় আপনার জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। যদি জামিন না হয়, তাহলে পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে।যদি থানায় মামলা না হয়ে আদালতে মামলা (সিআর মামলা) হয়, তাহলে আদালত সমন দিতে পারেন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাইতে পারেন। মনে রাখতে হবে, সিআর মামলায় অভিযুক্ত সব আসামি হাজির হলেই বিচারের জন্য মামলাটি বদলি করা হয়। আপনি কোনো কারণে হাজির না হলে আপনার জামিন বাতিল হতে পারে। পর্যায়ক্রমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হতে পারে। এতে হাজির না হলে আপনার মালামাল ক্রোকের আদেশ হতে পারে এবং আপনার অনুপস্থিতিতেই বিচার হতে পারে। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণে আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি প্রচলিত আইনেই মামলা দায়ের করতে পারেন।
যদি আপনার বিরুদ্ধে দেওয়ানি মোকদ্দমা হয়, তাহলে জবাব দাখিলের জন্য আদালত আপনাকে সমন পাঠাবেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দাখিল করতে হবে। পরবর্তী সময়ে মোকদ্দমা ধারাবাহিকভাবে এগোবে।মনে রাখতে হবে আইনের চোখ আমরা সবাই সমান.এটাও মনে রাখতে হবে অপরাধী হলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে, আর নির-অপরাধ হলে আপনি মুক্তি পাবেন।
#আইনজানুনসচেতনহোন
রকিব আহমেদ চোধুরী
এল.এল.বি(শেষ বষ)
বউ রেখে শালী বিয়া করবেন?
মুসলিম আইন অনুসারে প্রথম বিয়ে বলবত থাকা অবস্থায় সহোদর বোনকে বিয়ে করলে দ্বিতীয় বিয়েটি অনিয়মিত বিয়ে হবে। অনিয়মিত বিয়ের আইনগত ফলাফল স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সম্পত্তিতে কেউ উত্তরাধীকারী হবেন না। স্বামী যদি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন বা বড় বোন যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহলে দ্বিতীয় বিয়েটি নিয়মিত বিয়েতে পরিগণিত হবে।
#আইনজানুনসচেতনহোন।
৩১। মোহরানা কি?
বিয়ে একটি সামাজিক চুক্তি। এই চুক্তি সম্পাদনের একটি অন্যতম শর্ত হচ্ছে দেন-মোহর। এই শর্তটি পূরণ না করলে কোনো বিয়ে বৈধ হতে পারে না। দেনমোহর বা মোহরানা হলো কিছু টাকা বা অন্য কিছু সম্পত্তি যা বিয়ের প্রতিদান হিসেবে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে পেয়ে থাকে। মোহরানা স্ত্রীর সম্মানের প্রতীক। সুতরাং বিয়ের আসরে বা অনুষ্ঠানে স্বামী তার স্ত্রীকে মর্যাদা স্বরূপ যে অর্থ বা সম্পদ দেয় বা দেওয়ার অঙ্গীকার করে তাকেই দেনমোহর বলে। দেনমোহর স্ত্রীর একচ্ছত্র অধিকার এবং এটা স্বামীর কাছে স্ত্রীর প্রাপ্য। বিয়েতে যদি দেনমোহর নির্ধারণ করা না হয়, তবে স্ত্রী তার মর্যাদা ও যোগ্যতার বিচারে দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী।
মোহরানা প্রদানে আইনি বাধ্যবাধকতা:
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ সালের আইনের সেকশন ১০ মতে নিকাহনামা বা বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহর পরিশোধের পদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত থাকুক বা না থাকুক, দেনমোহরের পুরো অর্থ স্ত্রী চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য (দেয়) বলে ধরে নিতে হবে। দেনমোহরের সাথে স্বামীর পক্ষ থেকে প্রদানকৃত অন্য কোন উপহারের সম্পর্ক নেই। স্ত্রীর দেন মোহর দেওয়া বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য যে স্বামী কিংবা স্ত্রী যে কারো পক্ষ থেকে তালাক প্রদান করা হোক না কেন মোহরানা পাওয়া স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার এবং বিবাহের অন্যতম পূর্ব শর্ত। তাই মোহরানা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। দেনমোহর ঠিক সময়ে পরিশোধ না করলে ১ মাস কারাদণ্ড বা ২০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
ইসলামিক দৃষ্টি কোণ থেকে স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান করা ফরজ। যদি কোন ব্যক্তি মোহরানা উল্লেখ না করে অথবা মোহরানা না দেওয়ার শর্তে বিয়ে করে; তবুও স্ত্রীকে মোহরানা দিতে হবে। দেন-মোহর বা মোহরানা বিবাহ অনুষ্ঠানের পূর্বে ও পরে নির্ধারণ করা যায়।
৩২। আধুনিক যুগতো, তাই বিচারে এমন হতেই পারে-
স্বামী-স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলছে আদালতে। তাদের শিশু বালককে প্রশ্ন করা হলোঃ
- তুমি কার সঙ্গে থাকতে চাও, বাবার সঙ্গে নাকি মায়ের সঙ্গে?
- যার ভাগে কম্পিউটার পড়বে, তার সঙ্গে।
৩৩। ২০০৬ সালের জুন মাসে আমেরিকার বেটি জেন নামে এক মহিলাকে আদালত ২৭ মাসের কারাদন্ড দিয়েছিল এক আজিবস অপরাধের কারণে। অপরাধটা ছিল এমন, তিনি ৮ বছরে ১.৫ মিলিয়ন ডলার অন্যায়ভাবে আত্বসাৎ
করেছিলেন যেখানে তিনি কাজ করতেন সেই কোম্পানির ক্রেডিট সিস্টেম থেকে। যা দিয়ে তিনি প্রায় ১০০ জোড়া জুতো, ৩০০০ বই, ৫৮ কোট, ১৬ চেয়ান করাত, ২৫,০০০ ডলারের ট্রাক্টর মেশিন কিনা। যার বেশির ভাগ ছিল অর্থহীন, ও বেহুদা খরচ। কারণ তিনি এমনিতেই ছিলেন সয়ংসম্পূর্ণ ও সেইসব জিনিস বছরের পর বছরে তার ঘরেই পরে ছিল অব্যবহৃত অবস্থায়। আদালতে মানসিক ডাক্তার জবানবন্দি দেয়ার সময় বলেছিলেন, 'তিনি একজন কমপুলসিব শোপার'! কমপুলসিব শোপার কারা? এরা একধরনের মানসিক রোগী যাদের আসক্তি বা নেশা শপিং করার প্রতি। 'Compulsive buying disorder' বা Oniomania / অনিমেনিয়া বলা হয় একে। এই ধরনের মানসিক রোগীদের মানসিক শান্তি বা সুখ মানে শপিং করা। শপিং থেকে ফিরে আসলেই এরা দুর্দশাগ্রস্ত বা অসুখি হয়ে উঠেন।
ঈদে শপিং করাটা এই রোগের আওতায় পরে না, যদি না অনেক আগে থেকেই কেউ শপিংকে নেশা পেশা করে না তুলে। উপযুক্ত চিকিৎসা ও মানসিক ডাক্তারের সাথে কাউন্সিলিং মুক্ত করতে পারে এই রোগ কে।
তবে ভাইয়া, আপু, শপিং ঈদেও কম করেন, নইলে আপনাকে অনিমেনিয়া রোগী ভেবে বসতে পারে অন্যরা।
৩৪। *****পুলিশি নির্যাতনের শিকার হলে কী করবেন*****
‘মুক্তিযুদ্ধ’ বাংলাদেশ পুলিশের ট্র্যাডিশনাল চরিত্রে বিরাট পরিবর্তন এনে দিয়েছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্কিত কিছু ঘটনায় পুলিশের সেই ভাবমূর্তি এখন ম্লান হয়ে উঠেছে। জনগণের জানমাল ও সম্পদের হেফাজত না করে পুলিশের কিছু অংশ এখন সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে।
তাই পুলিশি নির্যাতনের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে বা পুলিশি হয়রানির পর করণীয় সম্পর্কে জেনে নিন।
‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’ অনুসারে ঘটনা সংশ্লিষ্ট যে কেউ অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। এই আইনের অধীনে ‘অভিযোগকারী’ হতে পারেন অভিযোগ উত্থাপনকারী বা ভুক্তভোগী উভয়ে।
‘ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি’ অর্থ ওই ব্যক্তি যাকে এই আইনের অধীনে তার উপর অথবা তার সংশ্লিষ্ট বা উদ্বিগ্ন এমন কারো উপর নির্যাতন করা হয়েছে।
আইনত যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে: আইন অনুসারে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ অর্থ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা শাখা, আনসার ভিডিপি ও কোস্টগার্ডসহ দেশে আইন প্রয়োগ ও বলবৎকারী সরকারি কোনো সংস্থা অর্থাৎ ‘সশস্ত্র বাহিনী’ (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী অথবা অপর কোনো রাষ্ট্রীয় ইউনিট) যা বাংলাদেশ প্রতিরক্ষার জন্য গঠিত।
-লেখা ক্রেডিট: Banglamail24.com
৩৫। না-দাবী দলিল:
কোন সম্পত্তি বা ব্যক্তির উপর যখন কোন প্রকার দাবী দাওয়া থাকে না, সেরুপ ক্ষেত্রে দলিলের আকারে উক্ত দাবি দাওয়া না থাকার কথা লিখতে হলে তা না-দাবী দলিল রুপে লিখতে হবে। দুই প্রকার বিষয় সম্পর্কে সাধারণত না-দাবী লিখতে হয়।
১। না-দাবী দলিল মূলে কয়েক প্রকার বন্ধক নামার দাবি ত্যাগ করা হয়।এরুপ না-দাবী দলিলের রেজিস্ট্রেশন ফীস আর্টিক্যার(ই) অনুসারে দিতে হয়।
২। অন্যান্য প্রকার দাবিপত্র, এই প্রকার না- দাবী দলিলমূলে কোন সম্পত্তিতে বা কোন ব্যক্তির উপর যে কোন প্রকার দাবি দাওয়া নাই লিখিত থাকে। এরুপ ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফীস আর্টিক্যার(এ) অনুসারে দিতে হয়।সকল প্রকার না-দাবী দলিলে স্ট্যাম্প সিডিউলের ৫৫ অনুসারে দিতে হয়।
(ক) যে সম্পত্তির দান, বিক্রয়, ওয়ারিশী পত্তন বা রেকর্ডীয় মালিক হিসাবে প্রাপ্ত ঐ সম্পত্তির উপর কোন ব্যক্তির না-দাবী দলিলের দ্ধারা ঐ দান গ্রহিতা, ক্রেতা, ওয়ারিশ বা মালিকের স্বত্ব বিনষ্ট হবে না। না-দাবী দলিলের দ্ধারা সম্পত্তির স্বত্ব হস্তান্তর হয় না।
(খ) কোন সম্পত্তিতে কোন ব্যক্তি স্বত্ব ছাড়া অর্থাত স্বত্ব বিহিন অবস্হায় বসবাস বা ভোগ দখল করতে থাকলে সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি স্বত্বধীন মালিকের বরাবরে দখল ছেড়ে দিয়ে ঐ ব্যক্তি কর্তৃক না-দাবী দলিল সৃষ্টি হতে পারে। যার কোন সম্পত্তিতে কোন উপায়ে মালিকানা সৃষ্টি হয়নি কেবল তার দ্ধারা না-দাবী দলিল সম্পাদন হতে পারে।
(গ)না-দাবী দলিল অর্থ বা সম্পত্তির উপর সৃষ্টি করা যায় । না-দাবী দলিল সম্পত্তি হস্তান্তর বিষয়ক দলিরের পরিপূরক হিসাবে গণ্য হবে না। না-দাবী দলিল দ্ধারা কেবল কোন কিছুর দাবী ত্যাগ করা হয়, স্বত্ব হস্তান্তর হয় না বা কারো স্বত্ব এর দ্ধারা সৃষ্টি হয় না।
৩৬। হঠাৎ মিথ্যা মামলা হলে কি করবেন ?
কেউ আপনার বিরুদ্ধে শত্রুতা করে মিথ্যা মামলা ঠুকে দিলেন। আপনি মামলার খবর শুনে যতটা হতবাক, তার চেয়েও দুশ্চিন্তায় পড়লেন, কীভাবে মিথ্যা মামলার অভিযোগ থেকে রেহাই পাবেন। মনে রাখতে হবে, আপনি অপরাধী, না নিরপরাধ, সেটি মামলায় অভিযুক্ত হলেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আইনের চোখে আপনার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আপনি নিরপরাধ।
ধরুন, আপনার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা হলো। আপনি দোষী বা নির্দোষ, সেটি পরে প্রমাণিত হবে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে আপনি যেন এ মামলা সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, সেই চেষ্টা করতে হবে। যদি আপনার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়, তাহলে এজাহারের কপিটি সংগ্রহের চেষ্টা করুন। আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন। মামলার এজাহারে দেখতে হবে, অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য বা অযোগ্য কি না।অভিযোগ তেমন গুরুতর না হলে এবং জামিনযোগ্য হলে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। অনেক সময় অভিযোগ জামিন-অযোগ্য হলে অনেককে হাইকোর্ট বিভাগে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে আগাম জামিন চাইতে দেখা যায়। হাইকোর্ট বিভাগ আগাম জামিন সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। এ মেয়াদের মধ্যেই নিম্ন আদালতে গিয়ে জামিননামা সম্পাদনের জন্য আবেদন করতে হবে। আদালতে প্রতি তারিখে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে আপনার জামিন বাতিল করে দিতে পারেন আদালত। জামিন সাধারণত পুলিশ প্রতিবেদন হওয়ার আগেই চাইতে হয়। তবে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করার আগে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে, তা প্রমাণের চেষ্টা করুন।তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন। চার্জশিট বা অভিযোগপত্র হয়ে গেলে আপনার মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলি হবে। অভিযোগ গঠনের দিন আপনাকে হাজির হয়ে নতুন করে পূর্বশর্তে জামিন চাইতে হবে এবং জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। তখন আপনি মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।
যদি এমন হয় যে আপনি জানতে পারলেন না, আপনার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার হয়েছে। পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেপ্তার করল। আপনাকে থানায় নিয়ে গেল। গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। তখন আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে। যদি রিমান্ড চায় পুলিশ, তাহলে আপনার আইনজীবীর উচিত হবে রিমান্ড বাতিলের জন্য আবেদন করা। যদি জামিন দেন আদালত, তাহলে একজন পরিচিত জামিনদারের জিম্মায় আপনার জামিননামা সম্পাদন করতে হবে। যদি জামিন না হয়, তাহলে পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে হবে।যদি থানায় মামলা না হয়ে আদালতে মামলা (সিআর মামলা) হয়, তাহলে আদালত সমন দিতে পারেন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাইতে পারেন। মনে রাখতে হবে, সিআর মামলায় অভিযুক্ত সব আসামি হাজির হলেই বিচারের জন্য মামলাটি বদলি করা হয়। আপনি কোনো কারণে হাজির না হলে আপনার জামিন বাতিল হতে পারে। পর্যায়ক্রমে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হতে পারে। এতে হাজির না হলে আপনার মালামাল ক্রোকের আদেশ হতে পারে এবং আপনার অনুপস্থিতিতেই বিচার হতে পারে। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণে আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি প্রচলিত আইনেই মামলা দায়ের করতে পারেন।
যদি আপনার বিরুদ্ধে দেওয়ানি মোকদ্দমা হয়, তাহলে জবাব দাখিলের জন্য আদালত আপনাকে সমন পাঠাবেন। নির্ধারিত তারিখে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দাখিল করতে হবে। পরবর্তী সময়ে মোকদ্দমা ধারাবাহিকভাবে এগোবে।মনে রাখতে হবে আইনের চোখ আমরা সবাই সমান.এটাও মনে রাখতে হবে অপরাধী হলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে, আর নির-অপরাধ হলে আপনি মুক্তি পাবেন।
#আইনজানুনসচেতনহোন
রকিব আহমেদ চোধুরী
এল.এল.বি(শেষ বষ)
৩৬। আত্মহত্যার প্ররোচনা ও তার শাস্তি:
সিমি ,রুমি,তিশার মতো অসংখ্য মেয়ে আমরা হারিয়েছি যাদের উত্যক্ত করে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেয়া হয়েছে। একইভাবে যৌতুকসহ অন্যান্য কারনে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে অনেক মেয়েকেই বাধ্য করা হচ্ছে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে।
আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীর জন্যও শাস্তির বিধান রয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা হয়েছে, “যদি কোন ব্যক্তি কোন নারীর ইচ্ছার বিরূদ্ধে কোন কার্য দ্বারা তার সম্ভ্রমহানী করে এবং এর ফলে সেই নারী আত্মহত্যা করে তাহলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দানের অভিযোগে অভিযুক্ত হবে। যার শাস্তি অনধিক দশ বছর কিন্তু কমপক্ষে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ডসহ এর অতিরিক্ত অর্থদন্ড।"
এছাড়াও দন্ডবিধি আইনের ৩০৬ ধারায় বলা হয়েছে, “যদি কোনব্যক্তি আত্মহত্যা করে তাহলে যে ব্যাক্তি আত্মহত্যায় সাহায্য করেছে এবং প্ররোচনা দান করবে সে ব্যক্তি দশ বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনামশ্রম কারাদন্ড এবং তাকে অর্থদন্ডেও দন্ডিত করা হবে।”
৩৭। পারিবারিক আইনে স্ত্রী এবং সন্তানের ভরণপোষণের বিধান রয়েছে। সাধারণত স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর এবং সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবার ওপর ন্যস্ত হয়। আবার অনেক সময় স্ত্রী তার বিয়েবিচ্ছেদের পরও স্বামীর কাছ থেকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন। কিন্তু বাবা-মা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব কার? বাংলাদেশে এতদিন পর্যন্ত এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো আইন ছিল না। নৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকে সন্তানরা বিশেষত ছেলে সন্তানরা এই দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমান আইনে এই দায়িত্ব ছেলে- মেয়ে উভয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য সাজার বিধানও রাখা হয়েছে। এম ডি মনির সব পিতা-মাতাই সন্তানের মঙ্গল চান। সাধারণত কোনো পিতা-মাতাই সন্তানের বিরুদ্ধে যান না। কিন্তু পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে কোনো সন্তান পিতা-মাতাকে বাধ্য করে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও বসবাস করতে, অথবা কোনো সন্তান যদি যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণে পিতা- মাতার ভরণপোষণ না করেন, তাহলে কি কোনো প্রতিকার নেই? অবশ্যই আছে। এ ক্ষেত্রে তারা ভরণপোষণের জন্য আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারেন। সম্প্রতি আমাদের দেশে এ বিষয়ে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করেছে জাতীয় সংসদ। ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ নামের এ আইনটি ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়ে গেছে। গত ১ জুলাই চীনে এরকম একটি আইন পাস হয়। ‘এলডারলি রাইটস ল’ বা প্রবীণ অধিকার আইন নামের সেই আইনটির মূলকথা, সন্তানদের অবশ্যই বৃদ্ধ বাবা-মার দেখাশোনা করতে হবে। ৭৭ বছরের বৃদ্ধ যে মা ৪০ কিলোমিটার বা ২৫ মাইল দূরে থাকেন, তাকে বন্ধের দিনগুলো ছাড়াও দুই মাসে অন্তত একবার দেখতে যেতে হবে। এভাবে আইন করে আসলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অধিকার কতটুকু সংরক্ষণ করা যাবে বলা মুশকিল। তারপরও জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিও আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে সেদিক থেকে এই আইনের তাৎপর্য অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের আইনটি সম্পর্কে জানা যাক। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন কী? পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন একটি জনকল্যাণকর আইন। বাংলায় প্রণীত এ আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় সেহেতু আইনটি প্রণয়ন করা হলো। অর্থাৎ কোনো সন্তান যদি কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করে তাহলে তারা ভরণপোষণের জন্য এ আইনের অধীনে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবেন। কে কাকে ভরণপোষণ করবে? আইনে ভরণপোষণ প্রদানে সন্তান বলতে শুধু পুত্রকেই বোঝায়নি বরং কন্যাকেও বুঝিয়েছে। অর্থাৎ পিতা- মাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব শুধু ছেলের একার নয় বরং মেয়েকেও নিতে হবে। এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আনা হয়েছে। আর ভরণপোষণ শুধু কোনো বিশেষ সন্তান নেবে তা নয় বরং সবাইকে নিতে হবে। তবে একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ- আলোচনা করে তাদের পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করবে। কোনো সন্তান পিতা-মাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। প্রত্যেক সন্তানকেই তাদের পিতা- মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে। পিতা-মাতা একত্রে বা আলাদা বসবাস করলে প্রত্যেক সন্তানকে সাধ্যমতো তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। কী পরিমাণ ভরণপোষণ দিতে হবে? পিতা-মাতা যদি সন্তানের সঙ্গে বসবাস না করেন তবে তাদের প্রত্যেক সন্তান নিজ নিজ উপার্জন থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে। পিতা-মাতা ছাড়া আর কাকে ভরণপোষণ দিতে হবে? আইনটি শুধু পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পিতা- মাতার অবর্তমানে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণপোষণ বিষয়েও জোর দিয়েছে। পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদিকে এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানিকে পিতা- মাতার মতো ভরণপোষণ দিতে হবে। অপরাধের শাস্তি কী? আইনটি সন্তানদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি অপরাধ, দ- ও বিচারব্যবস্থা কেমন হবে সে বিষয়েও বিধান দিয়েছে। যেমন_ কেউ যদি এই বিধানাবলি লঙ্ঘন করে তবে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদ- হতে পারে। অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদ- প্রদান করতে পারে আদালত। এছাড়া কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা- মাতা বা দাদা-দাদি বা নানা- নানির ভরণপোষণ প্রদানে বাধা দেয় বা অসহযোগিতা করে তবে তার সাজাও উপরোলি্লখিত দ-ের মতোই হবে। অপরাধের ধরন কী? আইনে কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই তা আমলযোগ্য। এই আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলায় জামিনও পাওয়া যেতে পারে। মামলায় আপস- মীমাংসারও সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ কোথায় করতে হবে? অপরাধের অভিযোগ দায়ের ও বিচার হবে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। তবে অপরাধের লিখিত অভিযোগ পিতা- মাতাকেই দায়ের করতে হবে। অন্যথায় আদালত তা গ্রহণ করবেন না। পিতা-মাতার অবর্তমানে কে লিখিত অভিযোগ করার অধিকারী সে বিষয়ে আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি। বিকল্প সমাধান আছে কি? হ্যাঁ। আদালত সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আপস নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার বা কাউন্সিলর কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রেরণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে তবেই নিষ্পত্তি করতে হবে এবং তখনই তা উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে। এ আইনে কোনো মামলা কি এর মধ্যে হয়েছে? ইতোমধ্যে ভরণপোষণ না দেয়ার অভিযোগ জানিয়ে চাঁদপুরের ছেলে ইয়াছিন রানার (৩০) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার পিতা মো. লিয়াকত আলী (৬০)। আইন পাস হওয়ার পর এটিই প্রথম মামলা। সব শেষ কথা, আইনের পাশাপাশি সন্তানের মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। আর এ কাজটি পিতা-মাতাকেই নিতে হবে। আর সন্তানকেও তাদের ভবিষ্যৎ পরিণতির কথা ভাবতে হবে এবং পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে পরিবার ও সমাজ তথা দেশ সুন্দর হবে। লেখক: গবেষণা কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া),
৩৮। 'এত আইন লইয়া আমরা কি করিব?'
দেশে এত শত আইন অথচ প্রয়োগ তার সামান্য। একেবারে মাঠ পযার্য়ে মানুষকে আইন জানিয়ে সচেতন নাগরিক হিসেবে তৈরি করা নাগরিকসহ সরকারী দায়িত্ব। কিন্তু মৃত আইন বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশের আইনগুলো বিশ্বের মাঝে অন্যতম 'স্মার্ট' আইন যা বিশ্বের অন্য অনেক দেশের কাছে রুল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। ইচ্ছে হলেই আইন বানিয়ে ফেলি কিন্তু তার প্রয়োগ হচ্ছে কিনা বা আদৌ প্রয়োজন ছিল কিনা বা পূর্বের বিদ্যমান আইন সংশোধন করেই কাজটি সমাধা করা যেত কিনা তা ভাবারও সময় দেওয়া হয় না।
মৃত আইনের পাল্লা ভারী করা নয়, বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ ও গণমানুষের কাছে পৌছে দিই। আর না পারলে এটিই সত্য হয় যে, 'The more laws, the less justice'
৩৯। দেওয়ানী মামলা-জমি ও দলিল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দের সংজ্ঞা:
১. নকসা: নসসা হলো কোন মৌজা ভুক্ত ভূমির বাস্তব চিত্র বা ভূ-চিত্র।
২. জে. এল. নং: উপজেলার অর্ন্তগত মৌজা সমূহের পরিচিতমূলক ক্রমিক নম্বর। যা 'জুরিসডিকশন লিস্ট নম্বর' বলা হয়।
৩. দাখিলা: ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের রশিদকে দাখিলা বলে। এটিকে আর. আর=রেন্ট রিসিট বলা হয়।
৪. ডি.সি.আর.: ভূমি উন্নয়ন করা ব্যতীত অন্যান্য সরকারী পাওনা আদায়ের জন্য যে রশিদ দেওয়া হয় তা। এটি 'ডুপ্লিকেট কার্বন রিসীট' বলে।
৫. কবুলিয়ত: এক ধরনের শর্তচুক্ত চুক্তিনামা যা রায়ত কর্তৃক সরকার বা জমিদার বরাবর দেওয়া হতো।
৬.মৌরাজী: পুরুষানুক্রমে কোন ভূমি ভোগ দখল করাকে মৌরাজী বলে।
আরও জানতে চোখ রাখুন আইন শিক্ষা কেন্দ্র। #আইন_জানুন_সচেতন_হওন।
৩৯। সমস্যা: জনাব আবুল ময়মনসিংহে বসবাস করে কিন্তু সেখান থেকে বা ঢাকায় এসে আপনার বিরুদ্ধে মান হানিকর কথা, বিবৃতি, প্রকাশনা, নিন্দাবাদ প্রণয়ন করে আপনার সুনাম ক্ষুন্ন করেন তবে আপনার কি প্রতিকার রয়েছে আইন মতে।
সমাধান: আপনার বিরুদ্ধে মানহানিকর বিবৃতি যে আদালতের এখতিয়ারে প্রদান করা হয়েছে সেই আদালতে অথবা জনবা আবুল যেখানে অবস্থান করেন সে আদালতের এখতিয়ারে দেওয়ানী কার্যবিধির ১৯ ধারা মোতাবেক তার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করতে পারেন।
অথবা তার বিরুদ্ধে আপনি ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে পারেন। দন্ডবিধির ৫০০ ধারা অনুসারে জনাব আবুলের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন যেখানে তার সবোর্চ্চ দুই বছরের কারাদন্ড অথবা অর্থদন্ড অথবা উভয় ধরনের শাস্তি হতে পারে।
তবে মানহানিকর বিষয়টির সাক্ষী, তা আইনে উল্লেখিত ব্যতিক্রম ব্যতিরেখে এবং আপনার সুনাম বা মান ক্ষুন্ন করার জন্য করা হয়েছে তা প্রমান করতে হবে।
#আইন_জানুন_সচেতন_হওন আইন শিক্ষা কেন্দ্র
৪০। চার বছর পর্যন্ত স্বামীর সন্ধান না জানা থাকলে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পাররে।
স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকলে স্ত্রী তালাক দিতে পারেন।
স্বামীর ৭ বৎসর বা ততোধিক সময়ের জন্য কারাদন্ড হলে তালাক দিতে পারেন স্ত্রী।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৪১। আমাদের প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো, কেবল ধর্ষণই যৌন নিপীড়ন। তাহলে শিশু যৌন নিপীড়ন কি? শিশু যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞা বিভিন্ন দেশের আইনে কিংবা গবেষণায় বিভিন্ন রকম। খুব সহজভাবে বলা যায়, কোনও ব্যক্তি কর্তৃক কোনও শিশুর প্রতি যে কোনও শারীরিক, মৌখিক বা চাক্ষুষ যৌন আচরন হলো শিশু যৌন নিপীড়ন।
শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি হলো দ্য ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ড (সিআরসি), যার ৩৪ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে সদস্য দেশগুলো সব প্রকার যৌন নিপীড়ন হতে শিশুদের রক্ষা করার জন্য নীতিগতভাবে বাধ্য। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে সিআরসিতে স্বাক্ষর করে শিশু অধিকার রক্ষার এই চুক্তির সদস্য দেশ হয়।
আন্তর্জাতিক আইনে ১৮ কম বয়সী যে কেউ শিশু। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ অনুযায়ী আমাদের দেশীয় আইনে ১৬ বছরের কম বয়স্ক যে কেউ শিশু বলে বিবেচিত হবে।
আর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ এর ১০ ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "যদি কোনও ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌনকামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোনও অঙ্গ বা কোনও বস্তু দ্বারা কোনও শিশুর যৌনাঙ্গ বা অন্য কোনও অঙ্গ স্পর্শ করেন তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন।" আর যৌন নিপীড়নের শাস্তি সবোর্চ্চ ১০ বছর আর সবর্নিম্ন তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এর সঙ্গে দোষী ব্যক্তি আথির্ক দণ্ডে ও দণ্ডনীয় হবেন।
একই আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও শিশুকে ধর্ষণ করলে তার জন্য শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড আর ধর্ষণের কারণে শিশুর মৃত্যু হলে দোষী ব্যক্তি সবোর্চ্চ মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
প্রশ্ন জাগতে পারে, শিশুদের উপর যৌন নিপীড়ন কোথায় হয়? কোথায় শিশুরা অনিরাপদ? বড়দের ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের ঘটনা সাধারণত ঘটে বাইরে এবং অপরিচিত ব্যক্তি দ্বারা। অপরপক্ষে, শিশু যৌন নিপীড়ন হতে পারে সেই সব স্থানে যেখানে আমরা মনে করি শিশু সবচাইতে নিরাপদ, যেমন, ঘরে, স্কুলে কিংবা শিশু শ্রমের স্থানে। বাল্যবিবাহকে কন্যা শিশুর উপর করা সবচাইতে প্রচলিত শিশু যৌননিপীড়ন ও শোষণ বলে অভিহিত করেছে ইউনিসেফ।
বন্ধ হোক শিশুদের প্রতি নিপীড়ন, বন্ধ হোক চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৪২। নিবারণমূলক আটক:
ব্রিটিশ-ভারত ও পরবর্তীকালে পাকিস্তানের ২৩ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশ সংবিধান প্রণেতাগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ সংবিধানে বিনা বিচারে আটক বা জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত কোন বিধান রাখা হবে না।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ জাতীয় অগণতান্ত্রিক বিধান সংবিধানে স্থান দেয়ার ঘোর বিরোধী ছিল। কিন্ত সংবিধান প্রণয়নের পর বছর যেতে না যেতেই দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরি অবস্থা ও বিনা বিচারে আটকের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
সংবিধানের ৩৩ অনু্চ্ছেদে নিবর্তনমূলক আটক সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষমতাবলে ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ ক্ষমতা আইন পাশ করা হয়।
১৯৭১ সালে ভারতে প্রণীত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইন ( Maintenance of Internal Security Act-MISA) এবং ১৯৫২ সালের East Pakistan Public Safety Ordinance কে অনুসরণ করে বিশেষ ক্ষমতা আইন তেরি করা হয়। কিন্তু উপরোক্ত দুটি আইনের চেয়েও বিশেষ ক্ষমতা আইনকে অধিকতর কঠোর করা হয়েছে।
সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে সাধারণ আইনে আটক করা হলে তার ৪টি সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকবে।
৩৩ অনুচ্ছেদে আরো বলা হয়েছে, যাকে নিবর্তনমূলক আইনে যাকে আটক করা হবে তার নিম্নলিখিত ৩টি সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকবে:
১. তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে যাদের ২ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক যা বিচারক হওয়ার যোগ্য কিংবা বিচারক ছিলেন এবং ১ জন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রবীণ কর্মচারি হবে।
সরকার কোনো ব্যক্তিকে ৬ মাসের বেশি আটক রাখতে চাইলে উপদেষ্টা পরিষদের সম্মতি লাগবে।
উপদেষ্টা পরিষদ আটককৃত ব্যক্তিকে স্বশরীরে ডাকবেন; তাকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া হবে এবং সরকারকে উপদেষ্টা পরিষদের সামনে আটকের কারণগুলো উপস্থাপন করতে হবে।
এরুপ উপস্থাপিত সকল বিষয় বিবেচনা করার পর এবং প্রয়োজনে সরকারের নিকট থেকে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে আরো তথ্য তলব করার পর উপদেষ্টা পরিষদ যদি মনে করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সময়েরে জন্য আটক রাখার পর্যাপ্ত কারণ আছে কেবল তখনই উক্ত ব্যক্তিকে ৬ মাসের অতিরিক্ত সময় আটক রাখা যাবে; অন্যথায় নয়।
২. নিবর্তনমূলক আটক আইনে কাউকে আটক করা হলে আটককারী কর্তৃপক্ষ তাকে যথাসম্ভব শীঘ্র আটকের কারণ জানাতে বাধ্য থাকবে।
৩. আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার তথা আটকাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশের জন্য আটককৃত ব্যক্তিকে সুযোগ দান করতে হবে।
#আইনজানুনসচেতনহোন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৪৩। পাগল বা মানসিক অসস্থ ব্যক্তিদের সুরক্ষায় একটি সয়ংসম্পূর্ণ আইন রয়েছে বাংলাদেশে। যদিও দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানেন কিনা সন্দেহ আছে। দেখি আইন কি বলে:
উন্মাদ আইন, ১৯১২ এখনো কার্যকর রয়েছে এ দেশে। এ আইনে কোনো উন্মাদকে তার আত্মীয়স্বজন বা তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক যথাযথ যত্ন এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা, নির্দয় ব্যবহার কিংবা অবহেলা না করার বিধিনিষেধ রয়েছে।
কিন্তু তা সত্ত্বেও উন্মাদ বা পাগলকে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখার ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে।উন্মাদ বা পাগলের জন্য ১৯১২ সালে উন্মাদ আইন তৈরী হয়। সেখানে কোন উন্মাদকে তার আত্মীয় স্বজন বা তত্তাবধায়ক কর্তৃক যথাযথ যত্ন এবং নিয়ন্ত্রনে রাখা, নির্দয় ব্যবহার কিংবা অবহেলা না করার কথা থাকলেও উন্মাদ বা পাগলকে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখার ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে।
পাগলের প্রতি পুলিশের কর্তব্য:
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার এখতিয়ারভূক্ত সীমানার মধ্যে যদি কোন লোককে বিক্ষিপ্তভাবে কিংবা এলোমেলো ঘোরা-ফেরা করা অবস্থায় দেখতে পান এবং তার বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, উক্ত লোক একজন উন্মাদ, তবে তিনি তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন। সেইসাথে উক্ত উন্মাদের উন্মাদনার কারণে যদি কেউ উন্মাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয় কিংবা তাকেও বিপজ্জনক বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকে তবে তাকেও গ্রেফতার করবেন।
কোন উন্মাদকে তার আত্মীয় স্বজন বা তত্ত্বাবধায়ক সঠিকভাবে যত্ন নিচ্ছে না কিংবা নির্দয় ব্যবহার করছে কিংবা অবহেলিত অবস্থায় দিন যাপন করতে বাধ্য করছে, তাহলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনতিবিলম্বে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট রিপোর্ট করবেন।
উন্মাদের প্রতি নির্দয় আচরণের সাজা:
যদি ম্যাজিষ্ট্রেট পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট কিংবা অন্য কোন লোকের তথ্যের ভিত্তিতে অবগত হন যে, তার আত্মীয় স্বজন কিংবা অন্য কেউ নির্দয় আচরণ করেছে তাহলে মাজিষ্ট্রেট উক্ত উন্মাদকে তার সামনে উপস্থিত করাতে পারবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি সমন ইস্যু করতে পারবেন।সেইখানে উন্মাদের প্রতি নির্দয় আচরণকারী ব্যক্তিদের প্রতি সদয় আচরণের আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
যদি কেউ উক্ত আদেশ অমান্য করেন তবে ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে এক মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
নাম- ঠিকানা বিহীন উন্মাদ কিংবা আইনগতভাবে বৈধ এমন কোন অভিভাবক না পাওয়া গেলে ম্যাজিষ্ট্রেট ১৪ ধারার বিধান অনুসারে অগ্রসর হবেন। এক্ষত্রে ডাক্তার যদি এইরূপ উম্মাদকে চিকিৎসা পরিচর্যার জন্য অন্তরীণ রাখা উচিৎ এই মর্মে সনদপত্র প্রদান করেন, তবে ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত উন্মাদকে পাগলা গারদে ভর্তি করাবার জন্য গ্রহণ অদেশ প্রদান করতে পারবেন।
উন্মাদ কর্তৃক কোন অপরাধ সংঘটিত হলে:
কোন উন্মাদ আসামী শেণ্রীভুক্ত হলে কিংবা পক্ষ সমর্থনে অক্ষম বলিয়া সাব্যস্ত হলে মোকদ্দমাটি জামিনযোগ্য বা অ-জামিনযোগ্য যাই হোক না কেন ম্যাজিষ্ট্রেট কিংবা আদালত পর্যাপ্ত জামানতে কিছু শর্ত সাপেক্ষে জামিন প্রদান করতে পারেন।
এছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যদি এই মতামত প্রদান করেন যে, পাগল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নাই এরূপ অবস্থায় বিচারক তাকে মেডিকেল হাসপাতালের হেফাজতে আবদ্ধ রাখার আদেশ প্রদান করেতে পারেন।
আইনের এত চমৎকার প্রদর্শনী থাকলেও কিছুই বাস্তবে নাই। আফসুস। তবুও বলি, মানুষ ও পশুর মাঝে যাদের বসিয়ে রেখেছে এ সমাজ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, আবার ফিরে আসবে স্বাভাবিক জীবনে।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র #আইনজানুনসচেতনহোন।
৪৪। আইন অধিকার : উত্তরাধিকার সনদ কীভাবে নেবেন:
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
হঠাৎ করে বাবুলের (ছদ্মনাম) বাবা মারা গেলেন। দুই ভাই, এক বোন ও মাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়লেন বাবুল। বাবার মৃত্যুর পর ব্যাংক থেকে টাকা ওঠাতে পারছেন না তাঁরা। ব্যাংক থেকে তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর বাবার নামে জমানো টাকা ওঠাতে চাইলে তাঁদের উত্তরাধিকার সনদ জমা দিতে হবে। এই সনদ ছাড়া ব্যাংকের টাকা তোলা যাবে না। উত্তরাধিকার সনদ হচ্ছে কোনো মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ কতজন এবং মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া অর্থ কে কতটুকু পাবেন, সে সম্পর্কে আদালত থেকে জারি করা একটি সনদ। এ সনদ শুধু মৃত ব্যক্তির অর্থসংক্রান্ত বিষয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, জমিজমা বিষয়ে জারি করা হয় না।
কীভাবে আবেদন করতে হয়
উত্তরাধিকার সনদ তুলতে হয় জেলা জজ আদালত থেকে। মৃত ব্যক্তির হিসাবের টাকা তোলার জন্য জেলা জজ আদালতে বা জেলা জজের মনোনীত অন্য কোনো আদালত থেকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে এ সনদ তুলতে হয়। ঢাকায় তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতকে এ সনদ-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীরা প্রত্যেকে কিংবা তাঁদের পক্ষে যিনি টাকা তুলবেন, তাঁকে আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আরজি দাখিল করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে হলফনামা দিতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে—
১। তিনি মৃত ব্যক্তির সম্পর্কে কী হন
২। মৃত ব্যক্তির এ টাকা কাউকে দান বা উইল করে যাননি
৩। উইলের জন্য কোনো প্রবেট বা লেটার অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দরখাস্ত দাখিল করে যাননি
৪। তাঁকে অন্য উত্তরাধিকারীরা টাকা তোলার ক্ষমতা দান করেছেন। আরজিতে মৃত ব্যক্তির টাকার হিসাবের বিবরণ তফসিল আকারে দিতে হবে।
৫। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা চেয়ারম্যান অফিস বা কমিশনারের কাছ থেকে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। মৃত ব্যক্তিকে যে কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে, সে মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র।
৬। মৃত ব্যক্তি যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে সেখান থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে।
৭। মৃত ব্যক্তি কোন ব্যাংকে কত টাকা রেখে গেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে একটি সনদ (ব্যালান্স কনফারমেশন লেটার) ওঠাতে হবে এবং আদালতে জমা দিতে হবে।
৮। আদালতে আবেদন করার পর আদালত আবেদনকারীর জবানবন্দি নেবেন এবং সততা যাচাই করবেন। পরবর্তী সময়ে আদালতে নির্দিষ্ট কোর্ট ফি জমা দেওয়ার জন্য আদেশ দেবেন। কোর্ট ফি জমা দেওয়া হলে পরে সনদ জারি করবেন।
কোর্ট ফি কত লাগবে
২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় না। কিন্তু ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ১ শতাংশ কোর্ট ফি দিতে হয়। আবার এক লাখ এক টাকা থেকে যেকোনো পরিমাণ অর্থের ওপর ২ শতাংশ কোর্ট ফি জমা দিতে হয়।
জেনে রাখুন
সাধারণত উত্তরাধিকার সনদ পেতে দুই থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তবে মৃত ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার জন্য ব্যাংকে কোনো নমিনি করে দিয়ে থাকেন, তাহলে ওই নমিনির টাকা তোলার জন্য উত্তরাধিকার সনদ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, কিন্তু অনেক ব্যাংকে এ টাকা তোলার জন্য জমা দেওয়া লাগতে পারে। কোনো কারণে আবেদন খারিজ হলে জেলা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৪৫। #সেক্সুয়াল_হ্যারাসমেন্ট_এবং_অনলাইন_লুলামির_ফাইন_লাইন
-Mashroof Hossain
আপনি একটা মেয়েকে চেনেন না, তাকে নক করলেন| সে রিপ্লাই না দেয়ায় আপনি আপনার মাইক্রোস্কোপিক আকারের একটা প্রত্যঙ্গের ছবি তুলে মেয়েটিকে পাঠালেন| আপনার "ক্ষুদ্রতা" দেখে মেয়েটা বমি করে দিল|
অথবা, মেয়েটাকে প্রপোজ করলেন এবং সে রাজী না হওয়ায় তাকে নিয়ে কুকথা ছড়াতে থাকলেন, ফেক আইডি খুলে তার ছবি এডিট করে তার বন্ধুবান্ধবদের রিকোয়েস্ট পাঠালেন|
অথবা, এককালে আপনাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল, কোন কারণে ভেঙে গিয়েছে| সম্পর্ক থাকাকালীন অন্তরঙ্গ চ্যাটলগ বা খোলামেলা ছবি প্রকাশ করে আপনি মেয়েটার জীবন নরক বানিয়ে দিলেন|
উপরের প্রতিটা কাজ অনলাইন সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের আওতায় পড়ে| কেউ যদি সাহস করে শক্ত হাতে মামলা করে দেয়, আপনার অবস্থা কিন্তু মেথরপট্টিতে গরম লৌহশলাকা পশ্চাদ্দেশে প্রবিষ্ট বরাহের মত হবে|
এবার আসি অনলাইন লুলামি প্রসঙ্গে|
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারী পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিজেদের ভেতরে ঘনিষ্ট কথাবার্তা, ছবি আদান প্রদান ইত্যাদি করে থাকলে এটা কোন অপরাধ নয়, যদি না এতে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়ে থাকে|
অনলাইনে আপনাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং নিজেকে অবিবাহিত দাবী করে কেউ যদি বাস্তবে আপনার দুর্বলতার সুযোগ নেয়, ওটা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ| আর সব জেনে শুনে পারস্পরিক সম্মতিতে সেক্সটিং ইত্যাদি হচ্ছে লুলামি, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট নয়| তবে স্ত্রী/স্বামীর কাছে ধরা পড়লে আপনার জন্যে অন্য আইন আছে যদিও!
এককালে অন্তরঙ্গ ছিলেন, এখন দুজন দুদিকে| অন্তরঙ্গ সময়ে বলা কথাবার্তার স্ক্রীনশট নিয়ে যে মুহূর্তে আপনি পাবলিশ করলেন, বোঝা গেল আপনি একটা তৃতীয় শ্রেনীর শূওরেরও অধম| মানহানির মামলা করে আপনাকে রাস্তায় নামানো সময়ের দাবী|
আমার কথা:
(ব্যস্ত পাঠক এটা এড়িয়ে যেতে পারেন)
আমাদের সমাজের একটা বৈশিষ্ট্য সব কিছুতে আমাদের জাজ করা চাই| সবকিছু ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট হিসেবে নেয়াটা একটা খুব বড় সমস্যা, গ্রে লাইনের উপস্থিতি আমরা অস্বীকার করি| কোন মানুষই মহাপুরুষ না, তাদের অসামান্য সব কীর্তির সাথে অনেক অতি সাধারণ ক্ষুদ্রতাও জড়িত থাকে| এই সত্যটা মেনে নিয়েই আমি চেষ্টা করি তাঁদের কীর্তিগুলোকে সম্মান জানাতে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা একেবারে টোটালি বিপরীত দিকে হাঁটা না দেয়|
আমার নিজেরও ব্যক্তিগত জীবন আছে, অনলাইনে এবং অফলাইনে নিজেকে গৌতম বুদ্ধ হিসেবে আমি দাবী করিনা| সাবেক বান্ধবীদের সাথে আমার অন্তরঙ্গ কত্থোপকত্থনের নমুনা মোটামুটি গুপ্তদা ফেইল এবং এতে কারো নাক গলানোর অধিকার আছে বলে আমি মনে করিনা| নাগরিকব্লগে বহুদিন আগে একটা ওস্তাদি বয়ান পড়েছিলাম:
"যতক্ষণ পর্যন্ত আমার কোন কাজে কারো কোন ক্ষতি না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার ইচ্ছে,বুদ্ধি,বিবেচনাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আইন"
কে বলেছিলেন মনে নেই, তবে এটাকেই আমার "মটো" বলা যায়|
৪৬। আইনের অঙ্গনেও বৈষম্য!
তানবীর চৌধুরী
বাংলাদেশের কোনো অনুমোদিত কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পাস করে বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলেই তাকে অ্যাডভোকেট বলা হয়। ঠিক তেমনি যখন কেউ ইংল্যান্ডের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আইন পাস করে প্র্যাকটিসের অনুমতি পান, তখন তাঁকে ঐ দেশে ব্যারিস্টার বলে আখ্যায়িত করা হয়। আবার আমেরিকায় একইভাবে আইনজীবীদের বলা হয় সলিসিটর। এটা একদমই স্বাভাবিক যে, একই পেশার লোককে একেক দেশে একেক নামে ডাকবে। কিন্তু এই নামই যদি কাউকে বাড়তি সুবিধা দেয় তাতে কোনো আপত্তি না থাকলেও, কেবলমাত্র এই টাইটেলের ওপর ভিত্তি করে আদালত প্রাঙ্গণে বৈষম্য তৈরি করাটা যথেষ্ট বোকামি। কোর্ট প্রাঙ্গণ তথা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যারিস্টাররা অ্যাডভোকেটদের চেয়ে উচ্চপদস্থ আইনজীবী। প্রসঙ্গত, ভারতে যাঁরা কেবল ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল করে আসছেন, তাঁদেরকে আইন চর্চার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয় না। তাঁদেরকে আবার ভারতীয় অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইন পাঠ পূর্বক পরীক্ষায় পাস করতে হয়। কবে আমাদের দেশে এই পদ্ধতি চালু হবে?
প্রতিষ্ঠানগত বৈষম্যটা কিছুটা সাম্প্রতিক। এই বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে যখন থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের অনুমতি নিয়ে আইন শিক্ষাদান শুরু করে আইনজীবী তৈরি করছে। এটা বলে রাখা ভালো যে, এই ধরনের বৈষম্যের জন্য আদালত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই জড়িত নন। এই বৈষম্যের জন্য আমাদের প্রথা পদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকেই কেবল দায়ী করা যেতে পারে। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা কোনো মতেই একজন মানুষকে তার লিঙ্গ, অঞ্চল, জাত, গোষ্ঠী, টাইটেল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি দিয়ে বিবেচনা করতে পারি না। এখন এই মানসিকতা পরিবর্তনের সময়। একজন নবীন আইনজীবীকে বৈষম্যহীন আইনচর্চার মাঠ তৈরি করে দেওয়া হোক। টাইটেল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিয়ে নয়, বরং বিবেচনা করা হোক জ্ঞান, শিক্ষা বা অভিজ্ঞতার পূর্ণতা দিয়ে।
-শিক্ষার্থী, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
৪৭। ডাক্তারের ভুলে একজন মানুষ ৪ ফুট নিচে কবরে চলে যেতে পারেন।
আর
আইনজীবীর ভুলে একজন মানুষ ৪ ফুট উপরে ঝুলে যেতে পারেন। তাই প্রতি ক্ষেত্রে সচেতন হোন, আইন জানুন। #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৪৮।
অদ্ভুত আইনের কথা…
১. দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় নতুন দেশ সামোয়াতে নিজের বৌয়ের জন্মদিন ভুলে গেলে দণ্ড পেতে হবে।
২. কলম্বিয়ায় মেয়ের বাসরঘরে তার মাকে (বেঁচে থাকলে) উপস্থিত থাকতে হয়!
৩. হংকংয়ে স্ত্রী পরকীয়া করলে স্বামী তাকে খুন করতে পারবে। তবে শর্ত একটাই, খুন করতে হবে খালি হাতে!
৪. জাপানে কোনে মেয়েকে প্রণয়ের প্রস্তাব দিলে আইন অনুসারে মেয়েটি না বলতে পারবে না।
৫. থাইল্যান্ডে ৩০ বছরের বেশি বয়সি অবিবাহিত নারী দেশের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।
৬. দক্ষিণ প্রশান্তমহাসাগরীয় এলাকার ভুখন্ড গুয়ামের আইন হচ্ছে- কোনো কুমারি মেয়ে বিয়ে করতে পারবে না। এখানে কিছু পেশাদার পুরুষ আছে যারা অর্থের বিনিময়ে মেয়েদের কুমারিত্ব মোচন করে। পরে তাদের দেওয়া সনদ দেখিয়ে মেয়েদের বিয়ে হয়।
৭. ফ্রান্সে শুকরের নাম নেপোলিয়ান রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
৮. যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে হলে যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে। নয়তো তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গন্য হবে। এজন্য প্রতারণা বা ছিনতাইয়ের সাজা ভোগ করতে হবে।
৯. ইন্ডিয়ানায় রোববার গাড়ি বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয়।
১০. আরাকানসায় মাসে দুইবার বউ পেটালেই দণ্ড। তবে একবার বৌ পেটালে আইনে আটকাবে না। আর নেভাদায় বৌ পেটানো ধরা পড়লে আইন অনুসারে তাকে আধ ঘন্টা বেঁধে রাখা হবে। তার বুকে ‘বউ পিটিয়ে’ লেখা পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হবে।
১১. আরিজোনায় সাবান চুরি করে ধরা পড়লে তার শাস্তি ওই সাবান দিয়েই নিজেকে ধুতে থাকবে যতক্ষণ না সাবান পুরো শেষ হয়।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৪৭। দেওয়ানী মামলার ধাপ বা পর্যায় সমূহঃ
আদালত সম্পর্কে বিচার প্রার্থীদের অনভিজ্ঞতা এবং ভয় ভীতি পরোক্ষভাবে আদালতের দাড়গোড়ায় তাদের ভোগান্তি বৃদ্ধি করে। মামলা সাধারণত ফৌজদারী বা দেওয়ানী এই দুই প্রকারের হয়। জমি জমা বা সম্পদ এবং পদ সংক্রান্ত মামলাকে দেওয়ানী মামলা বলা হয়। দেওয়ানী মামলা বিচারে কয়েকটি ধাপ আছে এবং প্রতিটি ধাপের জন্য আইনের কিছু নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। দেওয়ানী মামলার পূর্ব শর্ত আরজি গঠন। বাদীর নালিশের লিখিত বিবরণকে আরজি বলা হয়।
১। মামলা দায়ের ও আরজি গ্রহণ:
দেওয়ানী মামলা শুরু হয় আরজি গ্রহণের মাধ্যমে। দেওয়ানী আদালতের সেরেস্তাদার বা তার অনুপস্থিতিতে সেরেস্তাদার হিসেবে কর্মরত কর্মচারী মামলার আর্জি গ্রহণ করে আরজির গায়ে বা তার সাথে যুক্ত অর্ডারশিটে বা স্লিপে মামলার ফাইলিং নম্বর লিখবেন। যেমন- দেওয়ানী মামলা নং - ১০০/২০১২(এর অর্থ হল ঐ আদালতের ২০১২ সালের ১০০ নম্বর দেওয়ানী মামলা)।
এরপর সেরেস্তাদার অর্ডারশিটে আলাদা করে এবং সিল মোহর লাগিয়ে যিনি আর্জি উপস্থাপন করবেন তার কাছে ফেরত দিবেন। এরপর আর্জির সাথে দাখিল হতে পারে এরূপ সকল কাগজ পত্রে মামলার নম্বর উল্লেখ করতে হবে। সেরেস্তাদার আর-১২ ফাইলিং রেজিষ্টারে (যাকে সু্ট রেজিষ্টারও বলা হয়) আর্জির বিষয় বস্তু ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করবেন। সাধারণত যেদিন আর্জি গ্রহণ করা হয়, সেদিনই তা নিবন্ধকৃত হয়।
সেরেস্তাদার আর্জি পরীক্ষা করে আর্জির প্রথম পৃষ্ঠার বাম প্রান্তের উপরিভাগে ষ্ট্যাম্প পর্যাপ্ত হয়েছে কিনা তা লিখবেন। অপর্যাপ্ত ষ্ট্যাম্প থাকলে তাও উল্লেখ করবেন এবং বাকী ষ্ট্যাম্প আদায়ের পর ২য় বার তা উল্লেখ করে প্রত্যায়ন করবেন(সি. আর. ও, ভলিউম -১, বিধি-৫৫)। ২১ দিনের মধ্যে বাকী ষ্ট্যাম্প প্রদান করতে হয়। এইভাবে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করা হয়।
২।আর্জি ফেরত বা প্রত্যাখ্যান:
আর্জি ফেরত বা প্রত্যাখান হওয়া উচিত মনে করলে সেরেস্তাদার তা বিচারকের নিকট উল্লেখ করবেন। বিচারক আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা গ্রহণ করবেন (সি. আর. ও, ভলিউম-১, বিধি-৫৫)। কোন কারণে আর্জি সঠিকভাবে মূল্যায়িত না হলে তা সংশোধনের জন্য পক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয় যার সময়সীমা ২১ দিন।
৩।সমন জারী
একটি মামলা দায়েরের পরের ধাপ সমন জারী। সমন দু'ভাবে জারী করা হয়। আদালতের জারীকারকের (পদাতিকের) মাধ্যমে এবং আদালতের সেরেস্তা কর্তৃক ডাকযোগে। সমনের সাথে মামলার আর্জি, বাদীর ফিরিস্তিযুক্ত কাগজের কপি (আর্জির বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ কাগজপত্র যা আর্জির দাবীকে সমর্থন করে), ওকালতনামা, তলবানা (বিবাদীর নামীয় সমন জারীর ক্ষেত্রে সরকারের দেয়া কোর্ট ফি) দাখিল করতে হয়।
মামলার সমন বিবাদী সরাসরি গ্রহণ করলে তা সরাসরি জারী হিসেবে গণ্য হবে। আদালতের জারীকারক (পদাতিক) যখন বিবাদীর উপর সমন জারীর জন্য যাবে তখন সমন নোটিশের অপর পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দু'জন নিঃস্বার্থ ব্যক্তির স্বাক্ষর বা টিপ গ্রহণ করবেন।
সাধারণত সমন বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে জারী হতে হয়। তার অনুপস্তিতে তার পক্ষে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির উপর সমন জারী হতে হবে। যদি তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি পাওয়া না যায়, তবে তার পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্যের উপর সমন জারী করতে হয়। এক্ষেত্রে ভৃত্য পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন না। (দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৫, বিধি-১২ ও ১৫)।
বিবাদী বা তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বা তার পরিবারের কোন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ পাওয়া না গেলে বা সমন গ্রহণ না করলে বিবাদীর বাস গৃহের বহির্দ্বারে বা অন্য কোন প্রকাশ্য স্থানে লটকিয়ে সমন জারী করতে হবে (দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৫, বিধি -১৭)। এক্ষেত্রেও জারীকারক সমন নোটিশের অপর পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দু'জন নিঃস্বার্থ ব্যক্তির স্বাক্ষর বা টিপ গ্রহণ করবেন।
বিবাদীর সাময়িক অনুপস্থিতিতে তার বাসগৃহের বহির্দ্বারের সামনে সমন লটকিয়ে জারী করা যুক্তিসংগত নয়। যদি ঐ বিবাদীকে তার বাসগৃহে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে পুণরায় তার বাড়ীতে সমন জারী করতে হয় (সি. আর. ও, ভলিউম-১, বিধি-৭৬)।
জারীকারক সমন জারী রিটার্ণ ফেরত দিলে নাজির যথাসম্ভব দ্রুত এবং কমপক্ষে মামলার ধার্য্য তারিখের দু'দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট কোর্টে ফেরত দিবেন (সি. আর. ও, ভলিউম-১, বিধি-১০৫)।
অপরদিকে ডাকযোগে প্রেরণের পর ডাকরশিদ (একনলেজমেন্ট ডিউ) থাকলে এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এ. ডি (ডাক সমন) জারী হিসেবে গণ্য হবে।
বিবাদী একের অধিক হলে প্রত্যেকের উপর সমন জারী হতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন জেলার বিবাদীদের উপর সমন সংশ্লিষ্ট জেলার নেজারত বিভাগের মাধ্যমে প্ররণ করতে হবে।
৪।জবাব দাখিল
বিবাদী মামলা ১ম শুনানীর তারিখ বা তৎপূর্বে বা আদালতের অনুমোদিত সময় দুই মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করবেন (দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ -৮, বিধি-১)। তা না হলে মামলাটি একতরফা শুনানীর জন্য নির্ধারিত হবে। তবে দেওয়ানী কার্যবিধির ৮০ ধারার নোটিশ জারী না হলে সরকার জবাব দাখিলের জন্য ৩ মাস সময় পাবে।
বিবাদী যদি তার দাবীর সমর্থনে কোন দলিলাদির উপর নির্ভর করে, তবে তা ফিরিস্তি সহকারে ঐ দলিলাদি দাখিল করবেন।
৫।প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহির্ভূত শূনানী
১ ম শুনানীর তারিখে যদি দেখা যায় যে, মামলার পক্ষদের মধ্যে কোন বিরোধীয় বিষয় নেই তবে তা অবিলম্বে নিষ্পত্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে মামলা মূলতবি করার কোন সুযোগ নেই।
৬।ইস্যু গঠন
মামলার ১ম শুনানীর তারিখ বা জবাব দাখিলের মধ্যে যেটি পরে, তা হতে ১৫ দিনের মধ্যে ইস্যু গঠন করতে হবে(দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-১৪, বিধি-১)। যেসব বিরোধীয় বিষয়ের উপর মামলা নিষ্পত্তি হবে সেসড বিষয় বস্ত নিয়ে ইস্যু গঠন করা হবে।
৭।উদঘাটন ও পরিদর্শন
ইস্যু গঠনের ১০ দিনের মধ্যে বাদী বা বিবাদী আদালতের অনুমতি নিয়ে অপর পক্ষকে প্রশ্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে একটি পক্ষকে একবারই লিখিত প্রশ্ন দাখিল করতে পারবেন (দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-১১, বিধি-৮)
৮।৩০ ধারার তদ্বীর
ইস্যু গঠনের পর উভয় পক্ষের কোন তদ্বীর আছে কিনা তার জন্য এই পর্যায়টি রাখা হয়।
৯।চূড়ান্ত শুনানীর তারিখ নির্ধারণ (এস. ডি)
ইস্যু গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত শুনানীর দিন ধার্য করতে হয় (দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-১৪, বিধি-৮)
১০।চূড়ান্ত শুনানী
চূড়ান্ত শুনানীর (পি. এইচ) তারিখ হতে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার শুনানী শেষ করতে হয় (দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ১৮, বিধি-১৯)। চূড়ান্ত শুনানী (পি. এইচ) ও পরবর্তী চূড়ান্ত শুনানী (এফ. পি. এইচ বা পার্ট হার্ড) পর্য্যায়ে বিচারক জবানবন্দী, জেরা, দলিলাদি গ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শুনবেন।
১১।রায় ঘোষণা
মামলা শুনানী সমাপ্ত হওয়ার পরে অনধিক ৭ দিনের মধ্যে আদালত রায় ঘোষণা করবেন (দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২০, বিধি-১১)।
১২।ডিক্রি প্রদান
রায় ঘোষণার তারিখ হতে ৭ দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রদান করতে হবে (দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২০, বিধি -৫)
তাছাড়া মামলার যেকোন পর্যায়ে পক্ষগণ আর্জি, জবাব সংশোধণ, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, স্থানীয় পরিদর্শন এবং স্থানীয় তদন্তের জন্য আদালতের দরখাস্ত প্রদান করতে পারবেন। মামলার জবাব দাখিলের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পক্ষগণ যে কোন সময় আপোষ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের মধ্যস্ততায় বা আদালতের বাইরে বসতে পারেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯(ক) ধারা অনুযায়ী আপোষ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে, যা এ. ডি. আর নামে পরিচিত।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৪৮। বাংলাদেশে যেভাবে ফাঁসি কার্যকর করা হয়:
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে আসামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ইলেকট্রিক চেয়ার, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে, ফায়ারিং স্কোয়াডে, পাথর ছুড়ে, জবাই করে, শিরোচ্ছেদ করে, গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে, দড়িতে ঝুলিয়ে ফাঁসি ইত্যাদি ভাবে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। বাংলাদেশে দড়িতে ঝুলিয়ে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। বাংলা সিনেমাতে অনেকেই দেখেছেন কিভাবে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বাস্তবে কিভাবে কার্যকর করা হয় তা নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে করে? ইদানিংকার হট টপিকসও রাজাকারদের ফাঁসি, তাই এ লেখা।
আইনানুগ সকল ফর্মালিটি শেষে ফাঁসির আসামীকে নিয়ে আসা হয় কনডেম সেলে। সেখানে শুধু ফাঁসির আসামীরাই থাকে। মাথায় থাকে লাল টুপি। অনেকটা ওয়েটিং রুমের মতো। এখানে কয়েকদিন রাখা হয়। তার সাথে যথাসম্ভব ভালো ব্যবহার করা হয়। বিদেশ থেকে আনা হয় দড়ি। সাধারনত জার্মানি থেকে বিশেষ এই দড়ি আনা হয়। নিয়ম করে কয়েকবার এতে মাখানো হয় সবরি কলা আর মাখন। জল্লাদ নির্বাচন করা হয় কয়েদিদের মধ্য থেকেই। প্রতিটি ফাঁসি কার্যকরের জন্য ঐ কয়েদির ২ মাস করে সাজা কমে। আসামীর সম-ওজনের বালির বস্তা দিয়ে কয়েকবার ফাঁসির প্র্যাকটিস করা হয় কয়েকদিন আগেই।
কনডেম সেলে আসামীর আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করানো হয়। তবে কবে ফাঁসি কার্যকর হবে তা আসামী এবং আত্মীয়-স্বজন কাউকেই বুঝতে দেয়া হয় না।
সাধারনত রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে কারাগার মসজিদের ইমামকে সাথে নিয়ে জেল সুপার কনডেম সেলে যান। তখন কয়দি বুঝতে পারেন যে আজই তার জীবনের শেষ রাত। সাড়ে ১১টার মধ্যে তওবা পড়ানোর কাজ শেষ হয়ে যায়।
১২টার ৫ মিনিট আগে যম টুপি ও গলায় দড়ি পরিয়ে দেয়া হয়। জেল সুপার হাতে রুমাল নিয়ে মঞ্চের পাশে দাড়িয়ে থাকেন। সাথে দাড়িয়ে থাকেন অন্যান্য অতিথিরা। জল্লাদের চোখ তখন রুমালের দিকে। ঐ মুহুর্তে এই রুমালই একজন মানুষকে এপাড় থেকে ঐপাড়ে পাঠিয়ে দেয়ার ভূমিকা পালন করে।
আসামীর চোখে মুখে অন্ধকার। দাঁতে দাঁত খিটে থাকে। গলাটাকে ফোলানোর চেষ্টা করেন যেন ব্যথাটা একটু কম লাগে। কিন্তু বিশাল এই দেহের ভারকি আর গলা সইতে পারে? ফলাফল ওপারের ঠিকানায়।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র প্রয়োজন মনে করলে #শেয়ার করুন, আইন জানুন সচেতন হোন।
৪৯। গল্পে প্রচলিত আছে, একজন উকিল বিয়ের আগে মামলা পেলে বিয়ের পর শেষ করেন আর বিয়ের পর মামলা পেলে ছেলে উর্পাজনক্ষম হওয়া পযর্ন্ত মামলা চালান! কিন্তি এসব গল্পের কোন ভি্তি নেই। দিন বদলেছে, মানুষের মানসিকতাও সেইসাথে নতুনদের আগমনে সুসভিত এ অঙ্গন।
ধরে নিই, আজগর আলী সাহেব আইন পেশায় আছেন দীর্ঘদিন। এখন অবসরে যাওয়ার সময় চলে এসেছে, তার ছেলে পড়াশোনা শেষ করে এই পেশাতে যোগ দিয়েছেন। আদালতে প্রথম দিনেই অনেক পুরোনো একটি মামলা জিতে আনন্দে বাড়িতে ফিরে বাবাকে খবরটি দিলেন। উত্তরে, আজগর আলী সাহেব বললেন, করলি কি তুই? এত বছর এই মামলার খরচ দিয়েই তোর পড়াশোনা করিয়েছি আর আজ তুই এই মামলাটি শেষ করে দিলি?
আদালতে মামলা যতক্ষণ, আইনজীবীর পকেটে টাকা আসবে ততক্ষণ। কিন্তু চলুন আমরা আরেকটু বড় মনের মানসিকতায় চিন্তা করি। একটি মামলা যত তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারবেন একজন আইনজীবী, তার কাছে ওই লোক সারাজীবনের জন্য মক্কেল হয়ে যাবেন। যত ধরনের আইনী সমস্যা, প্রয়োজনীয়তা সব গুলোর কেন্দ্রতে পরিণত হবেন সেই আইনজীবী। বিশ্বাস জন্ম নিবে বাড়বে আস্থা। ফলাফল আপনার হাতে মামলা। যদিও দেশের আইনী জটিলতা সমাধান সময়সাপেক্ষ, কিন্তু এই পদ্ধতি আপনাকে সম্মানের আসনে, আস্থার আসনে বসাবে।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৪৯। কেন একজন ল’ইয়ারের সাথে প্রেম করবেন বা ভালোবাসবেন:
১. সে স্মার্ট।। আত্মোপলবদ্ধি ও ব্যতিক্রম অনুভতির দেখা পাবেন।
২. আপনার বাবা-মা খুশি হবেন এবং পরিবারে একজন ল’ইয়ার থাকা অবশ্যই ভাল বিষয়।
৩. বেশির ভাগ ল’ইয়ার পোষাক সচেতন। যদিও কোর্টে একই রকম পোষাক পরতে হয়।
৪. অর্থনৈতিকভাবে তারা নিরাপদ।
৫. ল’ইয়াররা জানে কোথায় কিভাবে নিজেকে সুন্দর ভাবে পরিবেশন করতে হয়। আপনার সাথে থাকলে আপনার বন্ধু, সাথীদের কাছে চমৎকার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।
৬. আপনার প্রেম হবে সার্থক, যদিও আপনি ভুল প্রমাণীত হওন, তা সংশোধন করে দিবে সে।
৭. ল’ইয়াররা চমৎকার সব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান। আপনিও হতে পারবেন তার সাথী।
৮. ল’ইয়ার অভিজ্ঞ নেগোশিয়েটর। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষম।
৯. বিতর্কের ক্ষেত্রে আপনার সঙ্গীই সবার উপরে থাকবে।
১০. ল’ইয়ারের আছে ভাল স্মৃতি শক্তি, অন্তত ঠিক মত নোট লেখার যোগ্যতা।
১১. ফ্রি পরামর্শ তো আছেই যেকোন সময়, যেকোন পরিস্থিতিতে।
১২. আপনার সময় কাটবে মজার গল্পে, অভিজ্ঞতার গল্পে। এক কথায় তারা অনেক পরিশ্রমী। বিরক্তির মুখোমুখি হবেন না কখনও পাশে থাকলে।
১৩. যখন অন্য একজন মানুষের সাথে তুলনায় যাবেন তখন বিশেষ বিশেষ গুণ গুলো নিজেই বের করতে পারবেন।
১৪. বিরক্তির কিছু থাকবে না, জীবন হবে রঙিন। পাবেন অফুরন্ত ভালোবাসা ও যত্ন।
১৫. যদি আপনার সঙ্গীকে চান নিজের কাজের জন্য, সে আপনার জন্য করবে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম। বিশেষ ভাবে করবে হাজারও ত্যাগ স্বীকার।
৫০। ★★★বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২★★★
◘বিভিন্ন ধর্মীয় রীতির বাইরেও বিয়ের বিধান রয়েছে, যা বিশেষ বিবাহ আইন নামে অভিহিত। একই ধর্মের নয়, অথচ বিয়ে করতে চায় এমন ব্যক্তিদের বিয়েকে আইনসম্মত করা এ আইনের উদ্দেশ্য। প্রচলিত ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী ভিন্ন ধর্মের দু'জন মানুষের বিয়েতে অনেক বিধিনিষেধ থাকে। যেমন_ যারা কিতাবিয়া তাদের পরস্পর বিয়ে করতে কোনো অসুবিধা নেই অর্থাৎ কোনো মুসলিম পুরুষ খ্রিস্টান, ইহুদি মেয়েকে বিয়ে করতে পারে কিন্তু প্রতিমা উপাসিকা অথবা অগি্ন উপাসিকাকে বিয়ে করতে পারবে না। আবার মুসলিম নারী শুধু মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে। অন্য যেকোনো ধর্মের মানুষকে বিয়ে করলে তা বাতিল হবে। খ্রিস্টান আইন ও হিন্দু আইনেও ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিয়ে সম্ভব নয়। ফলে ধর্মীয় আইনের আওতায় পারিবারিক আইনে ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ থাকায় যারা পরস্পরকে বিয়ে করতে চায় তারা বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২ অনুসারে বিয়ে করতে পারে। ১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইনে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, মুসলিম, পারসি, বৌদ্ধ, শিখ অথবা জৈন কোনো ধর্মই পালন করে না তারা এ আইনের অধীনে বিয়ে করতে পারে। এ আইনের অধীনে বিয়ে করতে হলে পাত্র-পাত্রীকে ঘোষণা করতে হবে, তারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না। ধর্ম ত্যাগের ঘোষণা না করলে বিয়েটি অবৈধ এবং বাতিল হবে। বিয়েটি যদি হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈনদের মধ্যে সম্পাদন করা হয় তাহলে তারা নিজ নিজ ধর্ম অনুসরণ করতে পারবে। বিশেষ বিবাহ আইনের ৩টি শর্ত বিদ্যমান। যথা_ ১. ছেলে মেয়েকে অবিবাহিত হতে হবে অথবা ছেলে বা মেয়ের অন্য কোনো স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবে না। ২. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ অনুসারে ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮ হতে হবে। ৩. বিয়ের ছেলে বা মেয়ে পরস্পরের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কের কেউ, যাদের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ, তারা কেউ হতে পারবে না।
◘◘-বিয়ে রেজিস্ট্রেশন : বিশেষ বিবাহ আইনের বিয়ে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত রেজিস্ট্রার সম্পন্ন করবেন। বিয়ের পাত্র বা পাত্রী রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিতভাবে নোটিশ পাঠাবেন। নোটিশ পাঠানোর ১৪ দিন পর বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে। এই বিশেষ বিয়েতে কারো আপত্তি থাকলে তিনি দেওয়ানি আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। বিয়েতে অবশ্যই ৩ জন সাক্ষী এবং স্বয়ং রেজিস্ট্রার উপস্থিত থাকবেন।
◘◘◘-বিবাহ বিচ্ছেদ : বিশেষ বিবাহ আইনের আওতায় বিয়ে করা দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ ১৮৬৯ সালের খ্রিস্টান বিবাহবিচ্ছেদ আইন অনুসারে ঘটানো যাবে।
◘◘◘◘-উত্তরাধিকার : বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে যারা বিয়ে করবেন তাদের উত্তরাধিকার সাকসেশন অ্যাক্ট-১৯২৫ অনুযায়ী হবে।
৫১। আইনী সমস্যা ও সমাধান:
প্রশ্ন: মুসলিম বিবাহ বিচেছদ আইন অনুযায়ী একজন স্বামী কি কি কারণে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে?
উত্তর: স্ত্রীকে তালাক দিতে কোন কারণ লাগে না। চাইলেই দিতে পারে স্বামী আইন অনুযায়ী। তবে স্ত্রী দিতে চাইলে কিছু শর্ত মেনে দিতে হয়। সঠিক উপায়ে না দিলে জেল হতে পারে।
প্রতারক থেকে দূরে থেকে নিজের জীবন নিজের মত চালান। সচেতন হোন। আর মামলা করতে চাইলে আইনজীবীর সাথে পরামর্শসহ ব্যবস্থা নিন দ্রুত।
#প্রশ্ন থাকলে মেসেজ করুন। পাশে আছে #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৫২। খুন করা সবচেয়ে বড় ফৌজদারী অপরাধ। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী খুনের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে এ বিধানেরও কিছু ব্যতিক্রম আছে।
দণ্ডবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী যদি কাউকে খুন করা হয় তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
তবে এ ধারাটি তখনই প্রয়োগ করা যাবে যখনঃ
১) যদি কোন লোক আপনার উপর এমন আঘাত করতে উদ্ধ্যত হয় যার ফলে ন্যায় সঙ্গতভাবেই আপনার এরূপ আশংকার সৃষ্টি হয় যে, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে সে আঘাতকে প্রতিহত না করলে আপনার মৃত্যু অনিবার্য।
২) যদি কোন লোক আপনাকে এমন আঘাত বা আক্রমণ করে যার ফলে ন্যায় সঙ্গতভাবেই এরূপ আশাংকার সৃষ্টি হয় যে, সে আঘাত বা আক্রমণের ফলে আপনার গুরুতর আহত হওয়া অনিবার্য।
৩) আপনি যদি স্ত্রীলোক হন এবং আপনাকে যদি কেউ ধর্ষণ করতে আসে। (অর্থাৎ স্ত্রীলোক তার ইজ্জত রক্ষার্থে ধর্ষণে উদ্ধত লোকের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারেন।)
৪) যদি কেউ কোন অস্বাভাবিক কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আঘাত বা হামলা করে।
৫) যদি কোন লোক কোন শিশু বা নারীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা হামলা করে।
৬) যদি আপনাকে কেউ বেআইনীভাবে আটক করতে উদ্যত হয় এমন পরিস্থিতিতে আপনার ন্যায়সঙ্গতভাবে আশংকা হয় যে, আপনি আটক হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে আপনি আর উদ্ধার হতে পারবেন না, তখন আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যাবে।
৫৩। আম মোক্তার নামা কি?
মোক্তার নামা একটি সম্পূর্ণ আইনী দলিল। ষ্ট্যাম্প এক্ট ১৮৯৯ এর ২(২১) উপ ধারা অনুসারে যে দলিল দিয়ে কোনো ব্যাক্তিকে অপর কোনো ব্যাক্তির পক্ষে হাজির হয়ে কার্য সম্পাদন বা কোনো ডিক্রি/রেজিস্ট্র্রি সম্পাদন তত্বাবধান ইত্যাদি বিষয়ক যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করার ক্ষমতা দেয়া হয় তাকে মোক্তারনামা বলে ।
সাধারণত: স্থাবর সম্পত্তি তথা জমিজমা দান, বিক্রয়, হস্তান্তর, রক্ষনাবেক্ষন, বন্ধক রাখা, ঋন গ্রহন, খাজনা প্রদান ইত্যাদি কাজে মোক্তার বা এটর্নী বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। তবে অস্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে ও মোক্তার নিয়োগ করা যায়।
পাওয়ার অফ এটর্নী দু প্রকার যথা:
ক) জেনারেল পাওয়ার অফ এটর্নী
খ) স্পেশাল পাওয়ার অফ এটর্নী
যে মোক্তার নামা মোক্তার দাতার পক্ষে জমি-জামা ক্রয়, বিক্রয় রক্ষণা-বেক্ষন, চুক্তিপত্র করা, মামলা মোকাদ্দমা পরিচালনা করা সহ যাবতীয় কাজের ক্ষমতা মোক্তার কে দেওয়া হয় তাকে জেনারেল পাওয়ার অফ এটর্নী বলে ।
অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট বা কোনো বিশেষ কাজের ক্ষমতা মোক্তারকে দিয়ে তৈরি মোক্তার নামাকে স্পেশাল পাওয়ার অফ এটর্নী বলে ।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৫৪। বিভিন্ন সভ্যতায় আইনে নারীদের সম্মান ও মূল্যায়নের সারমর্ম:
১. ব্যাবিলনীয় সভ্যতাঃ ব্যাবিলনীয় আইনে নারীর কোনো ধরণের কোনো অধিকার স্বীকৃত ছিলনা। মূল্য-মর্যাদা কি ছিল একটি উদাহরণে তা স্পষ্ট করে দেবে। কোনো পুরুষ যদি ঘটনাক্রমে কোনো নারীকে হত্যা করে তাহলে তাকে শাস্তি দেবার পরিবর্তে তার স্ত্রীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হতো।
২. গ্রীক সভ্যতাঃ গ্রীক সভ্যতাকে পূর্বকালের সকল সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম ও উজ্জ্বলতম গণ্য করা হয়। তথাকথিত এই উজ্জ্বলতম সভ্যতায় নারী ছিল সব রকম অধিকার থেকে বঞ্চিত। উপরন্তু অস্তিত্বগত ভাবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট। একারণে তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখা হতো। গ্রীক পৌরাণিক শাস্ত্রের এক কাল্পনিক নারী যার নাম “প্যানডোরা”। বিশ্ব মানবতার সকল দুর্ভাগ্যের মূল কারণ সেই নারী। তাই গ্রীকরা নারীকে ‘প্রায় মানুষ’ অর্থাৎ মানুষের মতো বটে, কিন্তু সম্পূর্ণ নয় বলে মনে করত। পুরুষের সাথে তার কোনো তুলনাই হয় না এমন। অপরদিকে নারীর সতীত্ব ছিল মহামূল্যবান কিছু এবং দেবীর মতো সম্মানও করা হতো। কিছুকাল পরেই এই গ্রীকরা আত্মঅহংকারের উত্তুঙ্গে উঠে ধরা পড়ে বিকৃত যৌনাচারের হাতে, বেশ্যালয়ে গমনাগমন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছি।
৩. রোমান সভ্যতাঃ যখন তার বিকাশের শিখর চূড়ায় তখন একজন পুরুষ যে-কোনো সময় তার স্ত্রীকে হত্যা করার অধিকার রাখতো। নগ্ন নারী যে-কোনো আসরের সৌন্দর্য এবং বেশ্যালয় যাতায়াত পুরুষের সংস্কৃতি।
৪. মিসরীয় সভ্যতাঃ মিসরীয় সভ্যতায় নারী ‘ডাইনী’ এবং শয়তানের নিদর্শন হিসেবে গণ্য হতো।
৫. ইসলাম পূর্ব আরবঃ ইসলাম পূর্ব আরবে নারীর অবস্থান ছিল ঘরের অন্যান্য ব্যবহারীক আসবাবপত্রের মতো। অনেক পিতা অসম্মানের হেতু হিসেবে তার শিশুকণ্যাকে জীবন্ত কবর দিত।
৫৫। আদালতের সমন পেলেই ভয় পাবেন না, গাবড়ে যাবেন না, চিন্তা করবেন না:
এ ক্ষেত্রে প্রথমেই সমন সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। আসামী এবং সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার লক্ষে আদালতের বিচারক কর্তৃক সাক্ষর ও সীলমোহর যুক্ত যে আদেশ নামা প্রদান করা হয় তাকে সমন বলে। সমন যেমন আসামীর উপর জারী করা হয় তেমনি সাক্ষীর উপর ও জারী করা হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারা অনুযায়ী সমন লিখিত ফরমে দেওয়া হয়। ফরমের উপরে আসামীর প্রতি সমন বা সাক্ষী হলে সাক্ষীর প্রতি সমন লেখা থাকে। সমনের দুই কপি থাকে। স্থানীয় থানা পূলিশের মাধ্যমে সমন জারি করা হয়। যাকে সমন দেওয়া হয় তাকে এক কপি দেওয়া হয়। অন্য কপিতে যার উপর সমন জারি হলো তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সমন যথা সম্ভব ব্যাক্তিগত ভাবে জারী করতে হয়। তা সম্ভব না হলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৭০ ধারায় বলা হয়েছে, যার ওপর সমন জারি করা হয় তাকে পাওয়া না গেলে তার পরিবারের বয়স্ক কোনো পুরুষের কাছে সমন বুঝিয়ে দিয়ে আসতে হবে।
আসামীর প্রতি সমন হলে আসামী আদালতে ব্যাক্তিগত ভাবে বা উকিল মারফত আদালতে হাজির হতে হবে। কোন সাক্ষী সমন পেলে তাকে অবশ্যই আদালতে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা বর্ণনা করে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।
সাক্ষীর প্রতি সমন জারী হলে সাক্ষীকে সমনটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে হয়। কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর তার সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
অন্যদিকে জজ বা দায়রা আদালতে বা কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে হলে সমন নিয়ে সাক্ষীকে সরকারী কৌঁশুলি বা পিপি অফিসে হাজির হতে হয়। সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা সাক্ষীকে সংশ্লিষ্ট পিপির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করে সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। একটা কথা মনে রাখা দরকার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট কাউকে টাকা পয়সা বা ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
আসামী বা সাক্ষী সমন পেয়ে আদালতে হাজির না হলে আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির হতে বাধ্য করা হয়। অথবা আসামী বা সাক্ষীর প্রতি হুলিয়া বা সম্পত্তি ক্রোক করার মত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করবে। সেক্ষেত্রে সাক্ষীকে আরো হয়রানি হতে হবে। তাই সাক্ষীর প্রতি সমন জারী হলে সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে প্রকৃত ঘটনা বর্ণনা করে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।
সমন পাওয়ার পর কেউ আদালতে হাজির না হলে তিনি দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ী দণ্ডযোগ্য অপরাধী সাব্যস্ত হবেন
#আইনজানুনসচেতনহোন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র জানুন জানান। শেয়ার করুন।
৫৬। মানহানি (Defamation)। অনেক সময় শুনে থাকবেন শব্দটি, বিষয়টি কি আসুন জেনে নিই:
মুখের কথা ব্যবহার করে, লেখার মাধ্যমে, অঙ্গভঙ্গীর সহায্যে, বা যা লোকের চোখে পড়ে এমন কিছুর সাহায্যে একজনের মানহানি করা যায়। কোনো ব্যক্তি যদি কারোর সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে বা হবার যুক্তিযুক্ত সম্ভাবনা আছে জেনেও কারোর বিরুদ্ধে নিন্দা বা অপপ্রচার করেন, তাহলে প্রথম ব্যক্তি দ্বিতীয় ব্যক্তির মানহানি করেছেন বলে বিবেচিত হবে।
মানহানি হয়েছে প্রমাণিত হলে তার জন্য শাস্তি কারাবাস (যা দুবছর পর্যন্ত হতে পারে) কিংবা জরিমানা, অথবা দুইই। আইনের চোখে এ ব্যাপারে বেশ
কিছু ব্যতিক্রম আছে।
সেগুলি হল:
★যে জিনিস সত্য এবং যে সত্যের প্রচার জনস্বার্থে করা প্রয়োজন, সেটি নিন্দার
কথা হলেও মানহানি হিসেবে ধরা হবে না।
★সরকারী কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সরকারী কর্মচারীর ব্যবহার
বা চরিত্র সম্পর্কে কোনো অভিমত জানালে সেটি মানহানির আওতায় পড়বে না -
যদি সেই সেই অভিমতটি ব্যক্ত করা হয় কোনো দুরভিসন্ধি ছাড়া অর্থাত্ শুভ-
বিশ্বাসে (good faith)।
★যেখানে জনস্বার্থ জড়িত, সেখানে যে কোনো ব্যক্তির আচরণ
বা চরিত্র সম্পর্কে পূর্ণ-বিশ্বাসে দেওয়া অভিমত মানহানির কারণ
হবে না।
★কোর্টের কোনো রায় ছাপালে বা সেই সম্বন্ধে মোটামুটি ভাবে নির্ভুল তথ্য
পরিবেশন করলে - সেটি মানহানির মধ্যে পড়বে না।
★যে মামলা কোর্টে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, সেই মামলা সম্পর্কে নিজের মতামত ব্যক্ত
করা বা সেই মামলার কোনো সাক্ষী বা বাদী-বিবাদীর আচরণ
সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করা (যদি সেগুলি শুভ-বিশ্বাসে করা হয়)
মানহানির বিষয় হবে না।
★কোনো লেখকের প্রকাশিত লেখা সম্পর্কে শুভ-বিশ্বাসে দেওয়া কোনো অভিমত মানহানির মধ্যে পড়বে না।
★আইন বা চাকরির চুক্তি অনুসারে যখন একজন অন্যের অধীনে কাজ করে, তখন
অধীনস্ত কর্মচারীকে কাজের ব্যাপারে শুভ-বিশ্বাসে তীরস্কার বা ভতসনা করা মানহানির মধ্যে পড়বে না।
★কেউ যদি নিজের স্বার্থ বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য শুভ-বিশ্বাসে কারোর চরিত্র সম্পর্কে নিন্দনীয় কিছু বলে তাহলে সেটি মানহানির মধ্যে পড়বে না।
★কাউকে সাবধান করা যেটা তার ভালোর জন্য বা জনস্বার্থে - সেটিও মানহানির
আওতায় পড়বে না।
#আইনজানুনসচেতনহোন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র জানুন জানান।
৫৭। মানুষের জীবনে বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধনের চুক্তি মাত্র যেখানে কিছু নির্ধারিত দায়িত্ব-কর্তব্য ও শর্ত পূরণের অঙ্গীকার করে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে চুক্তি বদ্ধ হয়ে থাকে। মুসলিম আইনের বিধান মতে বিবাহ বন্ধনের ক্ষেত্রে সামাজিক রীতির তেমন গুরুত্ব নেই, বরং বিবাহে ইচ্ছুক একজন নারী ও পুরুষ বিবাহের মাধ্যমে একটি সামাজিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয় মাত্র।
একটি চুক্তিপত্রে সাক্ষর করার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের শর্ত-সাপেক্ষে বিবাহ কার্য সম্পাদিত হয়। মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুযায়ী একটি বিবাহ বৈধ হতে অবশ্যই ৫ (পাঁচ) টি উপাদান থাকতে হয়, যার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো উপযুক্ত দেনমোহর বা মোহরানা নির্ধারণ করা এবং স্বামী কর্তৃক স্ত্রী কে তা পরিশোধ করা। এক্ষেত্রে, একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো পুরুষরা নারীদেরকে বিবাহের সময় উপযুক্ত দেনমোহর প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। এসব ক্ষেত্রে কেউ দেনমোহর প্রদানে ব্যর্থ হলে নারীরা যথাযথভাবে আইনের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে কোন পেশার কোন ব্যক্তি নানারকম ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক ও সামাজিক কাজের স্বার্থে পণ্য/সেবার বিপরীতে অর্থ/সেবা আদান-প্রদান করে থাকি যেখানে কিছু শর্ত সাপেক্ষে চুক্তিবদ্ধ হতে হয়। চুক্তি পত্রের কোন শর্ত ভঙ্গের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বাধ্য করা যায়। তেমনি, কোন নারী তার ন্যায্য অধিকার – মোহরানা হতে বঞ্চিত হলে তা পরিশোধ করবার জন্য শর্তভঙ্গকারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে নালিশ করার মাধ্যমে (সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত এবং দ্রুত বিচার পাবার উপায়) অধিকাংশ মামলার ক্ষেত্রেই উপযুক্ত ন্যায় বিচার পেয়ে থাকেন।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৫৮। বিবাহের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করা হলে নিম্নবর্নিত উপকার পাওয়া যায়:
ক – বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলে যে সনদ পাওয়া যায় সেটি হলো একটি বৈধ বিয়ের দলিল;
খ – রেজিস্ট্রেশনের ফলে বিয়ের সব তথ্য সরকারের তথ্য ভান্ডারে নথিভুক্ত হয় বলে এর সত্যতা অস্বীকার করা যায় না;
গ – বিবাহে দুই পক্ষই বিশেষ করে নারীরা আইনে প্রদত্ত সকল সুরক্ষাসহ, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে;
ঘ – স্ত্রীরা স্বামীদের প্রতারণার স্বীকার হলে এই রেজিস্ট্রেশন এর সনদই একমাত্র রক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে;
ঙ – স্বামীর মৃত্যু পরবর্তীকালে স্বামীর সম্পত্তির বৈধ অংশ সহ অন্যান্য দাবি আদায়ে এই দলিলটি অত্যাবশ্যকীয়;
চ – এমনকি তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের সময়ও বিবাহের রেজিস্ট্রেশন একটি অত্যাবশ্যকীয় দলিল;
ছ – স্বামীর অবর্তমানে সন্তানের বৈধ পরিচয় নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হতে পারে;
জ – বিদেশ গমনের ক্ষেত্রেও কিছু রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ভ্রমণে আগ্রহী কোন নারী যদি নিজের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান কালে নিজেকে বিবাহিতা পরিচয় দিলে বিবাহের প্রমাণ হিসেবে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের একটি সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
#আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৫৯। বেডরুম থেকে কোর্টরুম: দাম্পত্য ধর্ষণ :
মাত্র আঠারো ঘণ্টার নোটিশে বিয়ে হল শামার (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যে পড়ুয়া চটপটে মেয়ে সে। পাত্র পাওয়া গেল মনের মতন। তাই পরিবার থেকে শেষ মুহূর্তে ওকে জানানো হলো- ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে। বাসর ঘরে বসে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে করতে শামা মনে মনে ঠিক করছিল কীভাবে শুরু হবে দু‘জনের বন্ধুত্ব, সারাজীবনের পথচলা।
কিন্তু স্বামী ঘরে ঢুকেই কোনও কথার আগেই হামলে পড়ল শামার শরীরের উপর। মানসিক আর শারীরিক যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলে শামার মুখে গুঁজে দেওয়া হল কম্বল। এভাবেই চলত প্রতিরাত। ওর ইচ্ছা-অনিচ্ছার বা শারীরিক অসুবিধার প্রতি কোনও ভ্রুক্ষেপ ছিল না। আইনের আশ্রয় নেওয়া তো দূরের কথা; মাকে পর্যন্ত বলা হয়নি লজ্জায়। কিন্তু ধীরে ধীরে শারীরিক আর যৌন নির্যাতন বাড়তে লাগল, সমস্ত শরীরে জখম আর কালশিটে দাগ। উপায়ান্তর না দেখে সাত মাসের গর্ভাবস্থায় মেয়েটি পালিয়ে চলে এলো মায়ের কাছে। তারপর শারীরিক নির্যাতনের কারণ দেখিয়ে ডিভোর্স নেওয়া হল।
গল্প হলেও এটা সত্য। এটা শুধু শামার একার গল্প নয়, অনেকের জীবনের অপ্রকাশিত গল্প। স্বামী কর্তৃক স্ত্রী শারীরিক নিযার্তনের শিকার হলে ভুক্তভোগী স্ত্রী আইনের আশ্রয় নিতে পারে - আমরা ধীরে হলেও এই ব্যাপারটা মেনে নিতে শিখেছি। কিন্তু স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ধর্ষিত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে আইনে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকা উচিত অর্থাৎ ধর্ষণের দায়ে ধর্ষক স্বামীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত -এ ধারণা এখনও আমাদের নেই। দাম্পত্য ধর্ষণ বা ম্যারিটাল রেপ এখনও অনুচ্চারিত আর অপরিচিত একটি শব্দ আমাদের কাছে।
এর পেছনের মূল কারণ আমাদের সামাজিক অবকাঠামো আমাদের শেখায়- স্ত্রী হলো স্বামীর সম্পত্তির মতো। সুতরাং বিয়ে শুধু নারী পুরুষের মাঝে একটি সামাজিক আর ধর্মীয় চুক্তি নয়; ধরেই নেওয়া হয় বিয়ে স্বামীর ইচ্ছে মতো স্ত্রীকে ভোগ করার একটি বৈধ লাইসেন্সও।
দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ৩৭৫ ধারায় আইনের ভাষায় ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ধর্ষকের ভূমিকা থেকে সযত্নে মুক্তি দেওয়া হয়েছে স্বামীকে (যদি স্ত্রী ১৩ বছরের নিচে না হয়)। অর্থাৎ স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা স্বামীর জন্য কোনও অপরাধ নয়। আর তাই স্বামীর হাতে প্রতিনিয়ত যৌন নিপীড়নের শিকার স্ত্রী একে ধর্ষণ নামটুকু পর্যন্ত দিতে পারে না; প্রতিকার চাওয়া তো সেখানে অকল্পনীয়।
কিন্তু এভাবে নীরবে সয়ে যাওয়া আর কতদিন? আশার কথা, দেরিতে হলেও আন্তর্জাতিক আইন ম্যারিটাল রেপ বা দাম্পত্য ধর্ষণকে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য হিসাবে অবিহিত করেছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১১ এর এপ্রিল পযর্ন্ত পৃথিবীর ৫২টি দেশ ম্যারিটাল রেপকে আইনের অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং শাস্তির বিধান রেখেছে। ইংল্যান্ডে ১৯৯২ সালে হাউজ অব লর্ডস স্ত্রীকে ধর্ষণের অপরাধ থেকে স্বামীর অব্যাহতির আইনকে অবলুপ্ত করে। ১৯৯৩ সালের জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব স্টেটে দাম্পত্য ধর্ষণকে বে-আইনী ঘোষণা করেছে ।
দাম্পত্য ধর্ষণকে অপরাধে অন্তর্ভুক্ত করা দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, মেক্সিকো অন্যতম। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া ও নেপাল। তবে দাম্পত্য ধষর্ণকে অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা এই দেশগুলোর বেশিরভাগই ধর্ষক স্বামীর জন্য সামান্যই শাস্তির বিধান রেখেছে। মালয়েশিয়াতে যেখানে ধর্ষণের জন্য প্রচলিত শাস্তি সর্বোচ্চ ২০ বছর সেখানে দাম্পত্য ধর্ষণের জন্য ধর্ষক স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মাত্র ৫ বছরের কারাদণ্ড। আর শাস্তির সর্বনিম্ন কোনও সময়সীমা না থাকায় ধর্ষক স্বামী এমনকি ন্যূনতম একদিন পর্যন্ত শাস্তি পেতে পারে। কাছের দেশ নেপালে দাম্পত্য ধর্ষণের শাস্তি প্রতীকী মাত্র - তিন থেকে ছয় মাসের কারাবাস।
অথচ ‘আরএআইএনএন‘ এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নারীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর দাম্পত্য ধর্ষণের ভয়াবহ প্রভাবের চিত্র। ধর্ষণ মানেই বিভীষিকা, অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে একবার ধর্ষণের শিকার হলে নারী সমগ্র জীবন বয়ে বেড়ায় ওই দুঃসহ স্মৃতি; আর দাম্পত্য ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারীকে বছরের পর বছর বসবাস করতে হয় ওই ধর্ষকের সঙ্গে। তাই সাধারণ ধর্ষণ যেখানে একবারের ঘটনা, ম্যারিটাল রেপ হতে পারে নিত্যদিন বা বহুবার। লোকলজ্জায় বা স্বামীর ভয়ে ধর্ষণের শিকার নারী অনেকক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছেও যায় না; ফলস্বরূপ দীঘর্দিন বয়ে বেড়ায় জটিল কোন যৌন রোগ বা ক্ষত। দেখা দিতে পারে অনিদ্রা, হতাশা মানসিক অসুস্থতা এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীনতাও। দাম্পত্য ধর্ষণের শিকার নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের উপরই শুধু নয়, ওই দম্পতির সন্তানদের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ইউএনএফপিএ- এর ২০০০ সালের এক রিপোর্ট অনুসারে ভারতের দুই-তৃতীয়াংশ বিবাহিত মহিলাকে স্বামী ধর্ষণ করেছে। অন্যদিকে প্রতি পাঁচজনের একজন ভারতীয় পুরুষ স্বীকার করেছে স্ত্রীকে ধর্ষণের কথা (আইসিআরডাব্লিউ-২০১১)।
প্রশ্ন জাগতে পারে, বাংলাদেশে দাম্পত্য ধর্ষণ হয় কি? আমাদের রাষ্ট্রীয় আইনে দাম্পত্য ধর্ষণ স্বীকৃত নয়। আবার এ সংক্রান্ত কোনও রিপোর্ট বা সমীক্ষাও নেই আমাদের হাতে। তবে জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি আর আর্থ-সামাজিককাঠামো মিল থাকার কারণে ভারতের উপরোক্ত সমীক্ষা যে আমাদের সমাজেরও প্রতিচ্ছবি- তা বুঝতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না।
যৌনতা বিষয়টি এখন ও আমাদের সমাজে ট্যাবু বা অচ্ছুৎ কোন বিষয়। যৌনতা আর অধিকার নিয়ে আমাদের ধারণাগুলো তাই খুব অস্বচ্ছ। সুতরাং, কোনও নারীকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনার স্বামী কি আপনাকে ধর্ষণ করেন বা কখনও করেছেন? -অনেকেই কিছুটা চিন্তায় পড়ে যাবেন। কারণ, সমাজ আমাদেরর শেখায় নারী হল সাব-হিউম্যান বা ঊনমানুষ অর্থাৎ মানুষ তথা পুরুষ থেকে কিছু কম, নারী হলো তার স্বামীর সম্পত্তি।
বাংলাদেশে দাম্পত্য ধর্ষণ হয় কিনা তার সঠিক তথ্য জানতে হলে এ বিষয়ে সমীক্ষা আর গবেষণা প্রয়োজন। সমীক্ষায় কোনও নারীকে নিম্নে বর্ণিত কিছু প্রশ্ন করা যেতে পারে। যেমন:
১. আপনার স্বামী কি আপনি না বলা সত্ত্বেও তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য আপনার ওপর বল প্রয়োগ করে বা করেছে?
২. শারীরিক সম্পকের্র সময় কি আপনার স্বামী অাপনাকে গুরুতর আহত করেছে?
৩. আপনার স্বামী কি কোনও প্রকার ভয় দেখিয়ে আপনার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে? এক্ষেত্রে আপনি কি ‘না‘ বলতে ভীত ছিলেন?
৪. আপনার স্বামী কি কখনও আপনাকে যৌন হয়রানি করেছে এবং ওই হয়রানির কারণে আপনি কি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য হয়েছেন?
৫. আপনার স্বামীর কোনও যৌন আচরণে আপনি কি তীব্র অস্বস্তিতে ভুগেছেন, তথাপিও তার সেই যৌন আচরণ প্রতিপালন করেছেন বা করতে বাধ্য হয়ছেন?
প্রশ্নগুলোর যে কোনও একটির উত্তর হ্যাঁ-সূচক হলেই এটি ম্যারিটাল রেপ বা দাম্পত্য ধর্ষণ।
মনে রাখা দরকার, দাম্পত্য ধর্ষণের ক্ষেত্রে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আঘাত বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা বা আঘাত করার হুমকি শুধু স্ত্রীর প্রতিই করা হয় না, অনেক সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের, যেমন: শিশুর প্রতিও করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে পরিবারের ওই সদস্যের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্ত্রী বাধ্য হয় যৌন সম্পর্কে।
তাই, ম্যারিটাল রেপ বা দাম্পত্য ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ। দাম্পত্য ধর্ষণকে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা এবং ধর্ষক স্বামীর কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা - এই ঘৃণ্য অপরাধ নিরসনে রাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সামাজিকভাবে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই দাম্পত্য ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হতে পারে পরবর্তী কাযর্করি পদক্ষেপ। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের প্রদত্ত সেবাগুলো সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা প্রয়োজন। বর্তমানে মাত্র ছয়টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার সহিংসতার শিকার নারীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নারীর প্রতি ঘটে চলা সহিংসতার মাত্রা বিবেচনায় প্রয়োজন আরও বেশি সংখ্যক ক্রাইসিস সেন্টার। ধর্ষণের শিকার নারীর পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে দাম্পত্য ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে নারী। আর এভাবেই সম্ভব নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা। তাই আজকের চাওয়া -গৃহ হোক নারীর সবচাইতে নিরাপদ স্থান ।
লেখক: ব্যারিষ্টার ফারজানা হুসাইন
৬০। স্ত্রীর অধিকার লংঘনে আইনী প্রতিকার:
কোন পুরুষ যদি সালিশি পরিষদের অনুমতি বিনা দ্বিতীয় বিবাহ করেন তবে তিনি অবিলম্বে তার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের আশু বা বিলম্বিত দেন মোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করবেন এবং মোহরানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের মতো আদায় করা হবে। এছাড়াও অভিযান দোষী সাব্যস্থ হলে ১ বৎসর পর্যন্ত জেল ও ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড কিংবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। পাশাপাশি দন্ডবিধি আইন ১৮৬০ এর ৪৯৪ এর বিধান মতে স্বামী যা স্ত্রীর জীবনকালে পুনরায় বিবাহ করেন যে ব্যক্তি যে কোন বর্ণনার কারাদন্ডে যার মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত হতে পারে তদুপরি অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা উচিত, বহু বিয়ের মামলায় বাদীকে সফল হতে হলে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম বৈধ বিয়ের অস্তিত্ব ছিল।
৬১। কোনো অশ্লীল বই, পুস্তিকা, কাগজ, অঙ্কন, ছবি, মূর্তি বা অন্য কোনো অশ্লীল জিনিস বিক্রি, ভাড়া দেওয়া, প্রদর্শন বা বিতরণ করার উদ্দেশ্যে বানানো; অথবা উপরোক্ত অশ্লীল জিনিসগুলি বিক্রি, ভাড়া দেওয়া, বিতরণ বা প্রদর্শন করা, অথবা সেগুলি নিজের কাছে রাখা হল দণ্ডনীয় অপরাধ।
উপরোক্ত যে কোনো উদ্দেশ্যে কোনো অশ্লীল বস্তু আমদানী বা রপ্তানী করা; নিজের সে উদ্দেশ্য না থাকলেও সেই উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহৃত হতে পারে যদি জানা থাকে - সেটাও দণ্ডনীয় অপরাধ।
নিজের জ্ঞাতসারে অশ্লীল বস্তু সংক্রান্ত ব্যবসায় অংশ নিলে বা সেই ব্যবসার লভ্যাংশ গ্রহণ করলে - সেটিও হবে দণ্ডনীয়।
তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, প্রকৃতই ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত বা ব্যবহৃত কোন পুস্তক বা লেখা বা চিত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এমন করলে দন্ডবিধি অনুযায়ী আপনার ৩ থেকে ৬ মাসের সাজা হতে পারে। বা অর্থদন্ড অথবা উভয় শাস্তি হতে পারে।
দন্ডবিধির ২৯২ থেকে ২৯৪ পযর্ন্ত এ সংক্রান্ত বিধান বলা হয়েছে।
আরো জানতে সাথে থাকুন #আইনজানুনসচেতনহোন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৬২। দানের উপাদানসমূহ:
ক) দাতার জীবনকালের মধ্যে দান কার্য সম্পন্ন হতে হবে।
খ) দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্য হলে দান বাতিল বলে গণ্য হবে।
গ) দানের সময় সম্পত্তিতে দাতার মালিকানা ও দখল থাকতে হবে।
ঘ) দান স্বেচ্ছায় এবং পণবিহীন হতে হবে।
ঙ) দাতাকে সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন ও সাবালক হতে হবে।
চ) দান গ্রহীতা মানসিক ভারসাম্যহীন বা নাবালক হলে তার পক্ষে অভিভাবক দান গ্রহন করতে পারবেন।
ছ) মুসলিম আইন অনুযায়ী দাতা তার সমুদয় সম্পত্তি যে কাউকে দান করতে পারেন। তবে দায়ভাগ মতে একজন হিন্দু যাদের ভরণপোষণে আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত বব্যস্থা রাখার পর বাকী সম্পত্তি দান করতে পারেন।
জ) দখল হস্তান্তরের পুর্বে দান প্রত্যাহার করা যায়। দখল হস্তান্তরের পরে দান প্রত্যাহারের জন্য আদালতের ডিক্রী লাগবে।
৬৩। প্রশ্ন: কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য নিয়োগ করে তাহলে তার শাস্তি কি?
উত্তর: ভিক্ষার উদ্দেশ্যে কোন শিশুকে ব্যবহার করলে যে ব্যক্তি শিশুকে এ কাজে ব্যবহার করে সে এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা তিনশত টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। যা নিদ্রিষ্ট করা হয়েছে শিশু আইন মতে।
বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর আইনের ১২ ধারায় বলা হয়েছে,“যদি কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি বা অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিক্রির উদ্দেশ্যে কোন শিশুর হাত,পা,চক্ষু বা অন্য কোন অঙ্গ বিনষ্ট করেন বা অন্য কোনভাবে বিকলাঙ্গ বা বিকৃত করেন,তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হবেন।”
তাই #আইনজানুনসচেতনহোন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৬৪।
ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা একটি সময়ের দাবি। যদিও অনেকে হইত জানেনই না ন্যায়পাল জিনিসটা কি!
সংবিধান অনুযায়ী এমন একটি প্রতিষ্ঠান যারা সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে৷ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আনবে জবাবদিহিতার মধ্যে৷ সুইডিশ শব্দ 'ওমবুডস' অর্থ প্রতিনিধি বা মুখপাত্র। অর্থাৎ ন্যায়পাল হলেন এমন ব্যক্তি যিনি অন্যের জন্য কথা বলেন বা অন্যের প্রতিনিধিত্ব করেন। সরকার থাকবে জবাবদিহির মধ্যে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোয় ‘গণতন্ত্র’ ও ‘ন্যায়পাল’ কোনো নগণ্য বিষয় নয়। যদিও যেখানে জনগণ নগণ্য সেখানে এ কথা বলা কঠিন বই কি।
১৯৭২ সালে সংবিধানে সাংবিধানিক পদ হিসেবে ন্যায়পালের কথা বলে হয়েছে অনুচ্ছেদ ৭৭ এ। কিন্তু দুঃভাগ্যের বিষয় তার ৪২ বছর হতে চলছে তবু বাস্তবায়ন হয় নি সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটি। এমন নয় যে চেষ্টাও করা হয় নি, হয়েছিল, তবে তা অগণতান্ত্রীক ভাবে বা ভীরু সেজে, নিজের আখের ও অপকর্মের কথা চিন্তা করে আজও পথ দেখে নি তা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বর্তমান নির্বাচনকালীন সরকার আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতিহারে তারা ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ্য করেছিল, কিন্তু তাও হয় নি। এখন হইত আবার পরবর্তী নির্বাচনের ইশতেহারে উঠিয়ে নেয়া হবে। ২০০৫ সালে কর ন্যায়পাল আইনের মাধ্যমে কর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা ২০১০ সালে বাতিল করা হয় তার সুফল ও সরকারের জবাবদিহিতা বেড়ে যাওয়ায় তা সহজেই বোধগম্য। যেখানে গণতন্ত্র মানে একদিনের ভোটের আয়োজন সেখানে অবশ্য সংবিধানের কথা বলে ঘাম ঝরানোর কিছু নেই।
বিস্তারিত সামনে পাবেন।
৬৫। কেন জানবেন আইন?
না জানাটাই আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। যেখানে জানার সুযোগ রয়েছে সেখানে বেঁচে থাকতে হলে জানতে হবে আইন। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা মৌলিক চাহিদা। আর সেইসব মৌলিক চাহিদা পূরনে সচেতনভাবে শিক্ষা আহরণ করা কতর্ব্য। সেই শিক্ষার একটি অংশ আইন শিক্ষা যা পেলে আপনি অন্যসব অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করতে পারবেন সচেতনভাবে।
আইন জানা প্রতিটি নাগরিকের কতর্ব্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
সেই দায়িত্ব পালন কল্পে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে দেশের বিদ্যমান আইন সম্পর্কে। তাই বলছি আইন জানুন সচেতন হওন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের সুশাসন প্রয়োগে অংশীদার হওন।
আমরা এখানে চেষ্টা করব আইন জানাতে, বাকিটা আপনার দায়িত্ব।
৬৬। তথ্য বলতে কি বোঝায়?
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী, তথ্য বলতে বোঝায়, সরকারী এবং সরকারী বা বিদেশী অর্থে পরিচালিত বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠানের গঠন প্রণালী,ব্যবস্থাপনা কাঠামো,অফিসের কাজের সাথে সম্পৃক্ত কাগজপত্র, ফাইল, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য উপাত্ত, লগবই, আদেশ, দলিল, নমুনা, চিঠি, রিপোর্ট, খরচের হিসেব, প্রকল্প প্রস্থাব, ছবি, ফিল্ম ইত্যাদি। উদাহরণ সরূপ বলা যায়, আপনার এলাকার রাস্তা কবে তৈরী হবে বা মেরামত হবে সেই সম্পর্কে তথ্য, সরকারী হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠান সমূহে কি কি সেবা আছে আপনার জন্য এই ধরনের তথ্য, গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ এর ভিজিএফ কার্ড, কাবিটা, কাবিখা কিভাবে পরিচালিত হয় তা জানতে পারেন এই আইনের মাধ্যমে আবেদন করে।
৬৭। এ ভুলটা অনেক সাংবাদিকরা করে থাকেন, কিন্তু পার পেয়ে যান এদেশে আইন সস্তা বলে। কারণ আমেরিকার চেয়ে এ দেশে আইন বেশি থাকলেও প্রয়োগ নেই যতেষ্ট।
সংবাদ মাধ্যমে 'নির্যাতিতা নারী ও শিশু'র পরিচয় প্রকাশ দন্ডনীয় অপরাধ।
পাবলিককে নিউজ খাওয়ানো যখন ব্যবসায়ীক উপলব্ধিতে প্ররিণত হয় তখন সেই নির্যাতিত নারী ও শিশুর শুধু পরিচয়ই নয়, তার ছবিসহ সকল তথ্য প্রকাশ করে দিচ্ছে কিছু মিডিয়া।
অজ্ঞতার ফলে তারা এটি করছে এমনটিই ধরে নিই আমরা। কারণ আইন জানা ও আইন মানার প্রতি আমাদের সখ্যতা তৈরি হয়ে উঠেনি এখনও। বিশেষ করে কিছু অনলাইন নিউজ এজেন্সি বা মিডিয়া এ কাজটি খুবই মারাত্বক ভাবে করে চলছে। ভাবছেও না সেই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষটির সামাজিক, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও জীবন নিয়ে। তাই সচেতন হওন, আইন জানুন-মানুন। নারী ও শিশুর জীবন আপনার একটি ভুলের জন্য ধ্বংস করে দিবেন না। আইনের কথা বাদ দিলাম, আপনি একজন মানুষ হিসেবে সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে ভাবুন কাজটি আপনি ঠিক করছেন কিনা!
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১৪ ধারা মতে নির্যাতিতা নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশ কারী দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ প্রত্যেককে অনধিক ২ বছর কারাদন্ড বা অনুর্ধ্ব ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে।
#আইনজানুনসচেতনহওন আইন শিক্ষা কেন্দ্র
৬৮। পুলিশ গ্রেফতার করলে আপনার করণীয়-
- পুলিশের নিকট নাম, ঠিকানা ও পেশাসহ পরিচয় তুলে ধরতে হবে।
- পেশজীবি বা ছাত্র হলে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। একারণে সবসময় পরিচয়পত্র সাথে রাখা উচিত।
- এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচিত আইনজীবির ফোন নম্বর সাথে রাখা যেতে পারে এবং গ্রেফতারের পর দ্রুত আইনজীবিকে বিষটি জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা উচিত। অন্তত আত্নীয় বা বন্ধুকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
- ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নেয়া হয়, আর যে কোন থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে সংশ্লিষ্ট থানায় নেয়া হয়।
- গ্রেফতারের পর কাউকে লকআপে রাখার আগে তার বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন, কাগজ, মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি থাকলে তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার সেগুলোর একটি তালিকা তৈরী করে আটককৃত ব্যক্তির সাক্ষর নেয়। এই স্বাক্ষর দেবার সময় তালিকাটি পড়ে নেয়া উচিত।
- পুলিশ অফিসারের নিকট কোন বিবৃতি দিলে তা পাঠ করে বা বিবৃতির ভাষ্য অবগত হয়ে তাতে স্বাক্ষর করা উচিত।
- গ্রেফতারের পর আইনজীবী বা পরিবারের কাউকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানাতে না পারলে আদালতে হাজির করার পর ম্যাজিস্ট্রেটকে সরাসরি বিষয়টি জানানো উচিত। এতে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
- গ্রেফতারের পর কোন পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হলে বা অসুস্থ হলে আদালতের মাধ্যমে বা নিজ উদ্যোগে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে নিতে নেয়া যায়। চেকআপ করালে এ রিপোর্টটি সংগ্রহে রাখা উচিত। চেকআপকারী ডাক্তারের পরিচয় জেনে রাখা উচিত কারণ তা পরবর্তীতে প্রয়োজন হতে পারে।
- পুরনো কোন মামলায় গ্রেফতার হলে দ্রুত ঐ মামলার নম্বরসহ কাগজপত্র নিয়ে আদালতে গিয়ে জামিন শুনানির চেষ্টা করা যেতে পারে।
- নতুন কোন মামলায় বা কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হলে একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জামিন শুনানীর চেষ্টা করা যেতে পারে।
#আইনজানুনসচেতনহওন #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৬৯। ১২ বছর ব্যাপি কোন জমিতে আপনার দখল থাকলে কিছু অধিকার জন্ম নিবেঃ
তামাদি আইন অনুযায়ী, কৃষি বা অকৃষি জমি শান্তিপূর্ণ ভাবে এবং কোনো ব্যক্তির বাঁধাহীন ভাবে একটানা ১২ বছর নিরবচ্ছিন্ন ভাবে তার নিজের ভোগ দখলে রাখে তাহলে ঐ ব্যক্তি ভোগ দখলকৃত জমিটিতে মালিকানা দাবী করতে পারে এবং ঐ জমিটি হতে বেদখলের হাত থেকে মুক্ত থাকতে পারেন ৷ তবে জমিটি যদি সরকারের জমি হয়ে থাকে তাহলে বেদখলের হাত থেকে মুক্ত থাকার জন্য এবং মালিকানা দাবীর জন্য জমিটিতে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দখলে থাকতে হবে ৷
১২ বৎসর সংক্রান্ত ধারণাটি মূলত ১৯৪৯ সনের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন থেকে এসেছে-
এ আইনের ৬(২) ধারায় বলা হয়েছে একজন অকৃষি প্রজা কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ১২ বত্সর বা তার অধিককাল ধরে অবস্থান করলে সে উক্ত জমিতে নিম্নরূপ অধিকার ভোগ করতে পারবেন:
পাকা বাড়ী তৈরী করতে পারবেন
যে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরী করতে পারবেন
পুকুর খুড়তে পারবেন
গাছ লাগিয়ে তার ফলফোগ করতে এবং উক্ত গাছ কর্তন/বিক্রয় করতে পারবেন, ইত্যাদি।
#আইনজানুনসচেতনহওন। #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৭০। অনেক কষ্ট ও অর্থের বিনিময়ে আপনার তৈরী সিনেমাটি যখন আপনার অনুমতি ব্যতিরেখে নকল করে বা কপিরাইট আইন ভায়োলেট করে-
১. কর্মটির অধিকার লঙ্ঘনকারী অনুলিপি বিক্রয় বা ভাড়া করেন বা বিক্রয় বা ভাড়া করান বা বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শনী করেন বা বিক্রয়ের কিংবা ভাড়ার প্রস্তাব করেন; বা
২. বাণিজ্যিক উদ্দেশে অথবা কপিরাইটের মালিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এরূপ পরিসীমায় বিতরণ করেন; বা
৩. বাণিজ্যিকভাবে জনসাধারণ্যে প্রদর্শন করেন; বা
৪. কোন কর্মের অধিকার লংঘিত অনুলিপি আমদানি সংক্রান্ত বাংলাদেশে আমদানী করেন
তবে তা ‘অধিকার লঙ্ঘনকারী অনুলিপি’ হিবাবে গণ্য হবে যা কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
চলচ্চিত্র বিষয়ক কর্মের কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য উক্ত ব্যক্তির পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে, তবে এ অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন শাস্তি এক বছরের কারাদন্ড এবং একলক্ষ টাকা অর্থদন্ড (ধারা-৮২)।
#আইনজানুনসচেতনহোন। #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৭১। ভূয়া বিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ের সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ধর্ষণঃ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ১৬ বছরের বেশি কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতি ছাড়া বা ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে যৌন সঙ্গম করে, তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। আর ১৬ বছরের কমবয়সী নারীর সঙ্গে সম্মতিসহ বা সম্মতি ছাড়া যৌন সঙ্গম করে, তাহলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে।
ধর্ষণের অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ধারা ৪৯৩ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীকে প্রতারণামূলকভাবে আইনসম্মত বিবাহিত বলে বিশ্বাস করান, কিন্তু আদৌ ওই বিয়ে আইনসম্মতভাবে না হয় এবং ওই নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে অপরাধী ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। ৪৯৬ ধারা অনুযায়ী আইনসম্মত বিয়ে না করে প্রতারণামূলক বিয়ে করলে সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
#আইনজানুন_সচেতনহওন আইন শিক্ষা কেন্দ্র
৭২। টেলিফোন, মোবাইলে বিরক্ত করলেও প্রতিকার আছে চমৎকার:
টেলিযোগাযোগ আইনের ৬৬ ধারায় বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি বা বেতার যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কেউ মিথ্যা, প্রতারণামূলক বিপদ সংকেত বা বার্তা পাঠালে তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। আবার দুটি দণ্ডই কার্যকর করা যেতে পারে।
টেলিযোগাযোগ আইনের ৭০ ধারায় বলা হয়েছে, বার বার টেলিফোন করে কাউকে বিরক্ত করা বা অসুবিধার সৃষ্টি করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে অপরাধীকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়ারও বিধান করা হয়েছে।
দুই ব্যক্তির টেলিফোনে আলাপ চলাকালে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ আড়ি পাতলে এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য অপরাধীকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডই দেওয়া যেতে পারে।
-সংক্ষেপিত।
৭৩। রিমান্ড শুনলেই যেন কেমন শরীর কেঁপে উঠে। কি জানি কি করে, পুলিশের হাতে ক্ষমতা, যেভাবেই হোক অপরাধীর কাছ থেকে বের করতে হবে তথ্য। চলুন জেনে নিই রিমান্ডের ১০টি পদ্ধতি সম্পর্কে যা সচরাচর ব্যবহার করে আইন শৃংখলা বাহিনী।
রিমান্ডে পুলিশি নির্যাতনের ১০টি প্রচলিত পদ্ধতি: গিটা লাগাও, বাদুড় ধোলাই, ওয়াটার থেরাপি, বোতল থেরাপি, ডিম থেরাপি, ডিস্কো ড্যান্স, সিলাই, ঝাল মুড়ি, টানা ও বাতাস।
গিটা লাগাও-এর অর্থ হচ্ছে, হাত-পায়ের প্রতিটি জয়েন্টে লাঠিপেটা করা। বাইরে থেকে রক্ত বের হবে না, কিন্তু ভেতরে হাড় ভেঙে যাবে-মাংস থেতলে যাবে।
বাদুড় ধোলাই পদ্ধতিতে দুটি টেবিলের মাঝখানে দুই হাত বেঁধে বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে পেটানোর নাম হচ্ছে বাদুড় ধোলাই।
ওয়াটার থেরাপি, নির্যাতনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে অভিযুক্তকে চিৎ করে মাটিতে ফেলে চার হাত-পা টানা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর মুখে গামছা অথবা কাপড় দিয়ে বেঁধে সামান্য ওপর থেকে মুখে পানি ঢালা হয়। এই পদ্ধতি প্রয়োগের সময় অনেক সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।
বোতল থেরাপি পদ্ধতিতে কোমল পানীয়র মতো শক্ত কোনো বোতলে ঠাণ্ডা অথবা গরম পানি ভরে অভিযুক্তকে ওই বোতল দিয়ে পেটানো হয়। এই পদ্ধতিতে পেটালে শরীরে পেটানোর কোনো দাগ হয় না। তবে শরীরে ভেতরকার হাড় ভেঙে যায়।
এক ধরনের কুৎসিত পদ্ধতিতে নির্যাতনের নাম ‘ডিম থেরাপি’। এক্ষেত্রে সিদ্ধ ডিম অভিযুক্তের মলদ্বার দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। গরম ডিমের অসহ্য তাপ সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করতে থাকে অভিযুক্ত ব্যক্তি। এই নির্যাতনে কোনো চিহ্ন থাকে না।
অভিযুক্তের হাতে-পায়ে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন করার পদ্ধতির নাম হলো ‘ডিস্কো ড্যান্স’। বৈদ্যুতিক শক যখন দেওয়া হয় তখন আসামি যন্ত্রণায় লাফাতে থাকে। এ কারণে পুলিশ এর নাম দিয়েছে ডিস্কো ড্যান্স।
হাত-পায়ের নখের নিচে বিভিন্ন আকারের সুই ফোটানোর নাম হচ্ছে ‘সিলাই’ (সেলাই)। নৃশংস এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি সহজেই স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়।
চোখে-মুখে-নাকে শুকনো মরিচ বেটে দেওয়ার নাম হচ্ছে ‘ঝাল মুড়ি’। এক্ষেত্রে অভিযুক্তের দুই চোখ, নাক ও মুখের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বাটা শুকনো মরিচ লম্বা করে ঝুলিয়ে পায়ের পাতাসহ বিভিন্ন স্থানে পেটানোর হয়।
টানা আর সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে নির্যাতন করার নাম ‘বাতাস পদ্ধতি’।
নানা পদ্ধতি থাকলেও পুলিশ ওয়াটার থেরাপি, বোতল থেরাপি এবং ডিস্কো ড্যান্স পদ্ধতি প্রয়োগ করে বেশি। কারণ এই পদ্ধতিগুলো খুবই নৃশংস হলেও এতে করে কোনো চিহ্ন থাকে না। যা আদালত অথবা অন্য কোনো সমস্যা হলে চিহ্ন না থাকায় পুলিশ সহজেই নির্যাতনের অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যায়।
তবে রিমান্ডে নিয়ে এসব অত্যাচার মানবাধিকারের লংঘন বলা হয়ে থাকে। এমন অনেক নিরিহ মানুষকে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ অত্যাচার করে তাও খবরে জানা যায় বিভিন্ন সময়। বর্তমানে রিমান্ডের জন্য আলাদা কোন রুম রাখা হয়না থানায়। প্রকাশ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আসামীকে। যদিও তা মানা হয় না বাস্তবে।
৭৪। ইজমেন্ট বা সুখাধিকার কি?
ইজমেন্ট বা সুখাধিকার বলতে এমন এক সুবিধাভোগী স্বত্বের অধিকারকে বুঝায় যা দ্বারা কোনো জমির মালিক বা দখলকার তা জমির সুবিধাজনক ভোগের জন্য অপর কোনো ব্যক্তির জমির উপর দিয়ে কিছু করতে বা করা অব্যাহত রাখতে, কোনো কিছু নিবৃত্ত করতে বা নিবৃত্ত অব্যাহত রাখতে পারে ।
১৯৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট এক্ট এর ৪ ধারা অনুযায়ী-
এ অধিকার অর্জন সম্পর্কে ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি শান্তিপূর্ণভাবে এবং প্রকাশ্যভাবে কোনো ব্যক্তির ভূ-সম্পত্তি বাঁধাহীন ভাবে ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ২০ বত্সর কাল ধরে ভোগ দখল করে থাকলে তাতে তার পথ চলার অধিকার জনিত স্বত্ব অর্জিত হয় ৷
৭৫. হিন্দু আইনে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে:
একজন হিন্দুর কোন সম্পত্তি না থাকলেও সে তার নাবালক ছেলে, অবিবাহিতা মেয়ে ও বাবা-মার ভরণপোষণ করতে আইনতঃ বাধ্য। দায়ভাগা মতে, বাবা সাবালক ছেলেকে ভরণপোষণ করতে আইনতঃ বাধ্য নন।
কর্তা যৌথ পরিবারের সকল পুরুষ, তাদের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের ভরণপোষণে আইনতঃ বাধ্য।
একজন মৃত ব্যক্তি যাদের ভরণপোষণ করতে আইনতঃ বাধ্য ছিল, মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীও মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে তাদের ভরণপোষণ করতে আইনতঃ বাধ্য।
বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত বাবা তার কন্যা সন্তানের ভরণপোষণ করতে বাধ্য। বাবার অবর্তমানে কন্যার ভরণপোষণ বাবার সম্পত্তি হতেই চলতে থাকবে।
অক্ষমতা বা অযোগ্যতাহেতু কেউ পৈতৃক সম্পত্তির অধিকারে বঞ্চিত থাকলে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে অক্ষম ব্যক্তির বাবা ও বাবার অবর্তমানে বাবার উত্তরাধিকারী যথাযোগ্য ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।
৭৬. স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন-উত্তর:
প্রশ্ন: আমাদের বিয়ে হয়েছে একবছর। আমার স্বামী আমাকে উঠিয়ে নিচ্ছে না আবার ভরণপোষণও দিচ্ছে না, যদিও কাবিননামায় টাকা দেয়ার কথা লেখা ছিল। এখন কি করা যায় ?
উত্তর: স্বামী অবশ্যই ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। এমন কি, কাবিন নামায় ভরণপোষণ দেয়ার কথা না থাকলেও আইন অনুসারে স্বামী স্ত্রীকে ভরণ পোষণ দিতে বাধ্য।
প্রশ্ন: বিবাহিত কিন্তু পৃথক থাকা অবস্থায় ভরণপোষণ কি ?
উত্তর: স্ত্রী যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বসবাস করেন, তবে স্বামী স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকবেন না। তবে, বিবাহিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বসবাস করেও কয়েকটি ক্ষেত্রে ভরণপোষণ পেতে পারেন। স্বামী যদি স্ত্রীর তাৎক্ষণিক দেনমোহরের দাবি অস্বীকার করেন বা পরিশোধ না করেন, তাহলে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বসবাস করলেও ভরণপোষণ পাবেন।
চলবে: সাথে থাকুন #আইন_জানুন_সচেতন_হওন আইন শিক্ষা কেন্দ্র
৭৭। আপনিও খুন করতে পারেন/যে খুন খুন নয়...
খুন। শুনলেই আত্মা কেঁপে উঠার কথা। আইন অনুযায়ী খুন ও নরহত্যার আলাদা সংজ্ঞা বিদ্যমান। তবে আপনিও খুন করতে পারবেন যা খুন বলে গণ্য হবে না।
বাংলাদেশ দন্ডবিধি, ১৮৬০ এ Self Defense আত্ম রক্ষা বলে একটি শব্দ রয়েছে। যা বর্ণণা করা হয়েছে ৯৮ ধারায়। দণ্ডবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী যদি কাউকে খুন করা হয় তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
তবে এ ধারাটি তখনই প্রয়োগ করা যাবে যখনঃ
১) যদি কোন লোক আপনার উপর এমন আঘাত করতে উদ্ধ্যত হয় যার ফলে ন্যায় সঙ্গতভাবেই আপনার এরূপ আশংকার সৃষ্টি হয় যে, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে সে আঘাতকে প্রতিহত না করলে আপনার মৃত্যু অনিবার্য।
২) যদি কোন লোক আপনাকে এমন আঘাত বা আক্রমণ করে যার ফলে ন্যায় সঙ্গতভাবেই এরূপ আশাংকার সৃষ্টি হয় যে, সে আঘাত বা আক্রমণের ফলে আপনার গুরুতর আহত হওয়া অনিবার্য।
৩) আপনি যদি স্ত্রীলোক হন এবং আপনাকে যদি কেউ ধর্ষণ করতে আসে। (অর্থাৎ স্ত্রীলোক তার ইজ্জত রক্ষার্থে ধর্ষণে উদ্ধত লোকের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারেন।)
৪) যদি কেউ কোন অস্বাভাবিক কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আঘাত বা হামলা করে।
৫) যদি কোন লোক কোন শিশু বা নারীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা হামলা করে।
৬) যদি আপনাকে কেউ বেআইনীভাবে আটক করতে উদ্যত হয় এমন পরিস্থিতিতে আপনার ন্যায়সঙ্গতভাবে আশংকা হয় যে, আপনি আটক হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে আপনি আর উদ্ধার হতে পারবেন না, তখন আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যাবে।
সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে আপনাকে খুন করার অধিকার দেয়া হয়েছে দণ্ডবিধির ১০৩ ধারায় ।
এ ধারায়ও আপনার কষ্টার্জিত সম্পত্তিতে যদি-
১) দস্যুদের দ্বারা লুন্ঠনের উপক্রম হয়,
২) রাত্রিকালে আপনার গৃহে কেউ বেআইনী প্রবেশ করে,
৩) কোন গৃহ, তাঁবু বা যানবাহনে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়, যদি সে গৃহ, তাঁবু বা যানবাহন কোন মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে,
৪) যদি কোন লোক চুরি করার উদ্দেশ্যে আপনার গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে। চুরি করার সুবিধার জন্য আপনাকে গুরুতর আঘাত করতে উদ্ধত হয় এবং আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ না করলে আপনার মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য, প্রভৃতি ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার জন্য মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত ক্ষমতা আইন আপনাকে দিয়েছে।
তবে সবার আগে #আইন_জানুন_সচেতন_হওন। আইন শিক্ষা কেন্দ্র অন্যকে জানান।
৭৮। জমির নামজারি কীভাবে করবেন?
কোনো কারণে জমি হস্তান্তর হলে খতিয়ানে পুরোনো মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের নাম প্রতিস্থাপন করানোকে বলে মিউটেশন বা নামজারি। উত্তরাধিকারসূত্রে, বিক্রয়, দান, খাসজমি বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন ধরনের হস্তান্তরের কারণে জমির মালিকানা বদল হয়। কিন্তু জমির নামজারি না করানো হলে মালিকানা দাবি করার ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা তৈরি হয়। জমি রেজিস্ট্রেশন, জমি ক্রয়-বিক্রয়, খাজনা প্রদানসহ নানা ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় নামজারি। জমি হস্তান্তর হওয়ার পর নামজারি করা অনেকটাই বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোথায় করা হয় নামজারি?
সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারির জন্য আবেদন করতে হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে মিউটেশন সহকারী পদের একজন দায়িত্বে থাকেন। নাজির পদের একজন নামজারির জন্য ফি জমা নেন। তহশিলদারেরা (সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা) নামজারির তদন্তের দায়িত্বে থাকেন। কোনো আবেদন করা হলে এ নামজারি করা জমির ওপর তদন্ত করার নিয়ম আছে। অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে তহশিলদারের অফিসে নামজারি আবেদন করে থাকেন। এটা ঠিক নয়।
কীভাবে আবেদন করতে হয়?
সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে নির্ধারিত আবেদনপত্র সংগ্রহ করে আবেদন করতে হবে। এতে নির্ধারিত জায়গায় জমির বিস্তারিত পরিচয় দিতে হবে। আবেদনে নাম, ঠিকানা, রেজিস্ট্রি ক্রয় দলিলের নম্বর ও সাল স্পষ্ট থাকতে হবে। একই সঙ্গে মূল দলিলের অনুলিপি, ভায়া দলিল, পরচা বা খতিয়ানের অনুলিপি, ভূ-উন্নয়ন কর পরিশোধের দলিল, ওয়ারিশান সনদপত্র (তিন মাসের মধ্যে ইস্যু করা), বণ্টননামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) দিতে হবে। কোনো রায় বা ডিক্রির কারণে নামজারি করতে হলে ডিক্রি বা রায়ের অনুলিপি জমা দিতে হবে। আবেদনকারী নিজেও আবেদন করতে পারেন অথবা আবেদনকারী কোনো প্রতিনিধি নিয়োগ করেও আবেদন করতে পারেন। আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারী অথবা আবেদনকারীর প্রতিনিধির পাসপোর্ট আকারের ছবি সংযুক্ত করে দিতে হবে আবেদনের নির্ধারিত জায়গায়। খেয়াল রাখতে হবে নামজারি করাতে গিয়ে কোনো দালালের খপ্পরে যেন না পড়েন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী মহানগরে ৬০ কর্মদিবসে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে নামজারি-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম করা হয়েছে।
নামজারি আবেদন নামঞ্জুর হলে কী করবেন?
যেকোনো কারণেই নামজারি আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে। কোনো দলিল-দস্তাবেজে ত্রুটির কারণে হতে পারে, আবার অন্য কোনো উদ্দেশ্যেও নামঞ্জুর হতে পারে। কিন্তু আবেদন নামঞ্জুর হলে প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। নামজারি নামঞ্জুর হলে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) আদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের (রাজস্ব) কাছে এবং তা করতে হয় আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের (রাজস্ব) আদেশের বিরুদ্ধে ভূমি আপিল বোর্ডে আদেশের ৯০ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়। এ ছাড়া রিভিশনের পথও খোলা রয়েছে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা তাঁর নিজের ইচ্ছায় নথি তলব করে সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন। এ ছাড়া রিভিউর পথও খোলা আছে। রিভিউ মানে হচ্ছে পুনর্বিবেচনা করা। দলিলপত্রে কোনো ভুল পর্যবেক্ষণ হয়েছে বলে মনে করলে কিংবা আবেদন বাতিল করলে রিভিউর আবেদন করতে হয়। যে কর্মকর্তা আদেশ দিয়েছেন, তাঁর বরাবরই রিভিউ করতে হবে। রিভিউ করতে হয় ৩০ দিনের মধ্যে। তবে রিভিউ আবেদন করা হলে আর আপিল করা যায় না।
৭৯. বাংলা সিনেমায় দেখা যায়,
নায়ক, নায়িকাকে নিয়ে পালিয়েছে। কোন মানুষকে সাক্ষী না মেনে- চন্দ্র, সুর্য পাহাড়, নদী, জংগলকে সাক্ষী রেখে দু'জন বিয়ে করে একসাথে বসবাস করতে শুরু করে। আবার দেখা যায়, অনেকে মাজারে বা দরগাহে গিয়ে মালাবদলের মাধ্যমে বিয়ে করে থাকেন, এমনও হয় কেউ কেউ কোরান শরীফ ছুয়ে পরস্পরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহন করেন।
যদি বাস্তবে এমনটি হয় তবে কি হতে পারে আইনের দৃষ্টিতে জানেন কি? এসব ক্ষেত্রে তাদের বিয়ে গুলো আসলে কোনো বিয়েই ছিল না। শুধুই আবেগ, উত্তেজনা ও আইন এবং ধর্ম বর্জিত কাজ। এ ধরনের বিয়ে দেশিয় আইন ও ইসলামী আইন অনুযায়ী অবৈধ হবে। কারণ এ বিয়ে সমূহতে বিয়ের শর্ত পূরন করে করা হয়নি। বিয়েতে অবশ্যই সাক্ষী থাকতে হবে যারা পূর্ণবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী। বিয়েতে থাকবে দেনমোহর, দুই পক্ষের সম্মতি, করতে হবে রেজিস্ট্রেশন। বৈধ বিয়ের শর্ত গুলো হচ্ছে, সম্মতি, বয়স, দেনমোহর, সাক্ষী এবং রেজিস্ট্রেশন। অনিয়মিত বিয়ে বা অবৈধ বিয়ের ফলে আপনি হারাবেন আপনার আইনগত অধিকার। দাম্পত্ত সম্পর্কে পাবেন না আইনী প্রতিকার। প্রতারকের খপ্পরে পরে হারাবেন নিজের সর্বস্ব। তাই সচেতন ভাবে বৈধ উপায়ে বিয়ে করুন।
#আইন_জানুন_সচেতন_হওন আইন শিক্ষা কেন্দ্র
৮০। যেসব ব্যক্তি খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, মুসলিম, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্ম গ্রহণ করেননি তাদের বিয়ের নিয়মঃ
বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করতে চাইলে পাত্র ও পাত্রীকে একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হবে ৷ আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত হলফনামায় পাত্র-পাত্রী স্বাক্ষর দানের পর ওই হলফনামা নোটারি পাবলিক কর্তৃক নোটরাইজড করতে হবে ৷
হলফনামায় অবশ্যই ‘বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে’ শব্দগুচ্ছ লিখ েহবে ৷ অতঃপর সরকার অনুমোদিত বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নির্ধারিত ফরম পূরণপূর্বক ৩ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয় ৷
উল্লেখ্য, বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক প্রথা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার বাহুল্যতা নেই ৷ বিশেষ বিবাহ আইন : ১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইনানুসারে যেসব ব্যক্তি খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, মুসলিম, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্ম গ্রহণ করেননি, তাদের জন্য বিয়ের একটি ধরন নির্ধারণ করা এবং যেসব বিয়ের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, সেসব সুনির্দিষ্ট বিয়ের বৈধতা প্রদান করা সমীচীন ৷
*সংক্ষেপিত।
৮১। বিভিন্ন দিবসে আমরা পতাকা উড়াচ্ছি কিন্তু জানিনা সঠিক নিয়ম। বিশ্বকাপ টি-২০তে আমরা অনেকেই বাসার ছাদে টানাবো জাতীয় পতাকা, চলুন সঠিক নিয়মে উড়াই আমাদের পতাকা।
জেনে নিই জাতীয় পতাকা টানানোর নিয়মঃ
১. সর্বদা পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করিতে
হইবে।
২. পতাকা দ্বারা মোটরযান, রেলগাড়ি অথবা নৌযানের খোল, সম্মুখভাগ অথবা পশ্চাদৎভাগ কোন অবস্থাতেই আচ্ছাদিত করা যাইবে না।
৩. যেক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের পতাকা অথবা রঙিন পতাকার সহিত ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য স্থান সংরক্ষিত থাকিবে।
৪. যেক্ষেত্রে কেবলমাত্র দুইটি পতাকা অথবা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ ভবনের ডানদিকে উত্তোলন করা হইবে।
৫. যেক্ষেত্রে পতাকার সংখ্যা দুইয়ের অধিক হয়, সেক্ষেত্রে অযুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যখানে এবং যুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যভাগের ডানদিকে উত্তোলন করা হইবে।
৬. যেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অন্য পতাকার সহিত আড়াআড়িভাবে কোন দণ্ডে দেয়ালের বিপরীতে উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকা অন্য পতাকার ডানদিকে আড়াআড়িভাবে থাকিবে (আড়াআড়িভাবে যুক্ত পতাকা দুইটির দিকে মুখ করিয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বামদিকে) এবং পতাকা দণ্ডটি অন্য পতাকা দণ্ডের সম্মুখভাগে স্থাপিত হইবে।
৭. ‘বাংলাদেশের পতাকা’র উপরে অন্য কোন পতাকা বা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা যাইবে না।
৮. ‘বাংলাদেশের পতাকা’ শোভাযাত্রার মধ্যভাগে বহন করা হইবে অথবা সৈন্য দলের অগ্রগমন পথে (Line of March) শোভাযাত্রার ডানদিকে বহন করা হইবে।
৯. মর্যাদার প্রতীক সম্বলিত ঢালে (escutcheons) অযুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যভাগে এবং সর্বোচ্চ কেন্দ্রে থাকিবে এবং যুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ঢালের ডানদিকে শীর্ষে (ঢালের দিকে মুখ করিয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বামদিকে) বাংলাদেশের পতাকা স্থাপন করা হইবে।
১০. যেক্ষেত্রে অন্য কোন দেশের সহিত ‘বাংলাদেশের পতাকা’ একত্রে উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ প্রথমে উত্তোলন করিতে হইবে এবং নামাইবার সময় সর্বশেষে নামাইতে হইবে।
১১. যেক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক দেশের পতাকা প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে প্রতিটি পতাকা পৃথক পৃথক দণ্ডে উত্তোলন করা হইবে এবং পতাকাসমূহ প্রায় সমান আয়তনের হইবে।
১২. যেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অর্ধনমিত থাকে, সেক্ষেত্রে প্রথমে সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উত্তোলন করা হইবে এবং অতঃপর নামাইয়া অর্ধনমিত অবস্থায় আনা হইবে। ঐ দিবসে নামাইবার সময় পুনরায় উপরিভাগ পর্যন্ত উত্তোলন করা হইবে, অতঃপর নামাইতে হইবে।
১৩. যেক্ষেত্রে দণ্ডের উপর ব্যতীত অন্যভাবে কোন দেয়ালের উপর ‘পতাকা’ প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে উহা দেয়ালের সমতলে প্রদর্শিত হইবে। কোন পাবলিক অডিটোরিয়াম বা সভায় ‘পতাকা’ প্রদর্শন করিতে হইলে উহা বক্তার পশ্চাতে উপরের দিকে প্রদর্শিত হইবে। যেক্ষেত্রে রাস্তার মধ্যখানে পতাকা প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে উহা খাড়াভাবে প্রদর্শিত হইবে।
১৪. কবরস্থানে ‘জাতীয় পতাকা’ নিচু করা যাইবে না বা ভূমি স্পর্শ করান যাইবে না।
১৫. ‘পতাকা’ কোন ব্যক্তি বা জড় বস্ত্তর দিকে নিম্নমুখী করা যাইবে না।
১৬. ‘পতাকা’ কখনই উহার নিচের কোন বস্ত্ত যেমন: মেঝে, পানি বা পণ্যদ্রব্য স্পর্শ করিবে না।
১৭. ‘পতাকা’ কখনই আনুভূমিকভাবে বা সমতলে বহন করা যাইবে না, সর্বদাই । ঊর্ধ্বে এবং মুক্তভাবে থাকিবে।
১৮. ‘বাংলাদেশের পতাকা’ কোন কিছুর আচ্ছাদন হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না, তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি যাঁহাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা বা পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতাসহ সমাধিস্থ করা হয়, তাঁহার শবযানে পতাকা আচ্ছাদনের অনুমোদন প্রদান করা যাইতে পারে।
১৯. ‘পতাকা’ এমনভাবে উত্তোলন, প্রদর্শন, ব্যবহার বা সংরক্ষণ করা যাইবে না, যাহাতে উহা সহজেই ছিঁড়িয়া যাইতে পারে বা যে কোনভাবে ময়লা বা নষ্ট হইতে পারে।
২০. কোন কিছু গ্রহণ, ধারণ, বহন বা বিলি করিবার নিমিত্ত ‘পতাকা’ ব্যবহার করা যাইবে না।
২১ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আরোপিত কোন শর্তাবলী (যদি থাকে) এবং লিখিত অনুমোদন ব্যতীত, কোন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্বোধন, পেশা বা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ‘পতাকা’ কোন ট্রেড মার্ক, ডিজাইন, শিরোনাম অথবা কোন প্যাটেন্ট হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না।
২২. যেক্ষেত্রে ‘পতাকা’র অবস্থা এমন হয় যে, উহা আর ব্যবহার করা না যায়, সেক্ষেত্রে উহা মর্যাদা পূর্ণভাবে, বিশেষ করিয়া সমাধিস্থ করিয়া, নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
২৩. ‘পতাকা’ দ্রুততার সহিত উত্তোলন করিতে হইবে এবং সসম্মানে নামাইতে হইবে।
উপরোক্ত নিয়ম গুলো 'বাংলাদেশ পতাকা রুলস, ১৯৭২ অনুযায়ী।
৮২। ১২ বছর ব্যাপি কোন জমিতে আপনার দখল থাকলে কিছু অধিকার জন্ম নিবেঃ
তামাদি আইন অনুযায়ী, কৃষি বা অকৃষি জমি শান্তিপূর্ণ ভাবে এবং কোনো ব্যক্তির বাঁধাহীন ভাবে একটানা ১২ বছর নিরবচ্ছিন্ন ভাবে তার নিজের ভোগ দখলে রাখে তাহলে ঐ ব্যক্তি ভোগ দখলকৃত জমিটিতে মালিকানা দাবী করতে পারে এবং ঐ জমিটি হতে বেদখলের হাত থেকে মুক্ত থাকতে পারেন ৷ তবে জমিটি যদি সরকারের জমি হয়ে থাকে তাহলে বেদখলের হাত থেকে মুক্ত থাকার জন্য এবং মালিকানা দাবীর জন্য জমিটিতে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দখলে থাকতে হবে ৷
১২ বৎসর সংক্রান্ত ধারণাটি মূলত ১৯৪৯ সনের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন থেকে এসেছে-
এ আইনের ৬(২) ধারায় বলা হয়েছে একজন অকৃষি প্রজা কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ১২ বত্সর বা তার অধিককাল ধরে অবস্থান করলে সে উক্ত জমিতে নিম্নরূপ অধিকার ভোগ করতে পারবেন:
পাকা বাড়ী তৈরী করতে পারবেন
যে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় তৈরী করতে পারবেন
পুকুর খুড়তে পারবেন
গাছ লাগিয়ে তার ফলফোগ করতে এবং উক্ত গাছ কর্তন/বিক্রয় করতে পারবেন, ইত্যাদি।
#আইনজানুনসচেতনহওন। #আইনশিক্ষাকেন্দ্র
৮৩। যেসব কারনে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারেন:
১. চার বৎসর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে।
২. দুই বৎসর স্বামী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে ব্যর্থ হলে।
৩. স্বামীর সাত বৎসর কিংবা তার চেয়েও বেশী কারাদন্ড হলে।
৪. স্বামী কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবৎ দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।
৫. বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে।
৬. স্বামী দুই বৎসর ধরে পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে।
৭. বিবাহ অস্বীকার করলে। কোন মেয়ের বাবা বা অভিভাবক যদি ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেন, তা হলে মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে, তবে যদি মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সর্ম্পক (সহবাস) স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনি কোন বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে।
৮. স্বামী ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লংঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে।
৯. স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে।
উপরে যে কোন এক বা একাধিক কারণে স্ত্রী আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে।
অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব স্ত্রীর। প্রমাণিত হলে স্ত্রী বিচ্ছেদের পক্ষে ডিক্রি পেতে পারে, আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি দেবার পর সাত দিনের মধ্যে একটি সত্যায়িত কপি আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবে।
১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যান নোটিশকে তালাক সংক্রান্ত নোটিশ হিসেবে গণ্য করে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নিবে এবং চেয়ারম্যান যেদিন নোটিশ পাবে সে দিন থেকে ঠিক নব্বই দিন পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।
৮৪।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন