বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৪

গায়ে নীল কুচকানো পান্জাবী আর ছিড়ে স্যন্ডেল! এতে কি মানুষকে জটিল লাগে?

যখন পাখি গুলো ঘরে ফিরে গেল মানুষ জন ফিরছে ঘরে হন্তদন্ত হয়ে
তখন আমি বের হলাম রাস্তায় একান্তই নিজের জন্য, একাকি।

সবাই এত ব্যস্ত কেন আজ?
আজ কি বিশেষ কিছু!
ও হ্যা,কাল তো ছুটির দিন! দিনটাকে লম্বা করে নিতেই হইতো সবার তাড়াহুড়া।

বসে থাকলাম অনেক ক্ষণ যাত্রী ছাউনিতে।

এখানে ভিড় নেই, সবাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করছে।
নিস্তব্ধ নয়। কেমন যেন জমে থাকা ধুলোর মত শুষ্ক লাগছে বাতাসের গন্ধ।
পাশে বসে থাকা বুড়োটি একটানা সিগেরেট টানছে। অসহ্য!

চারদিকে কলরব করতে শুরু করেছে বহুরুপি সাজে সজ্জিত মেয়েরা।
মানে রাতের ছুটি শুরু হয়ে গেল। ওদের কাজটা হইতো শুধু বেঁচে থাকার তাগিদেই।

বাসার দিকে যাওয়া উচিত,কিন্তু ভালই তো লাগছে রাতটি!
নেই জোসনার আলো আছে নিয়ন আলোর ছটা।
রিকসাওয়ালাদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে কাল ঈদ!
রাতের বেলা তারা এত ফুরফুরে থাকে কেন?
ভাল লাগছিল না হাঁটতে। রিকসা ওয়ালাকে বোকা বানিয়ে অযথা ঘুরা যায়!
এই যাবেন?
কাঁচাপাকা গোঁফ রিকসাওয়ালার। অন্য সবার মত হাসি খুশি নয়।
-মেজাজ গরম কেন চাচার?
একটা শুষ্ক হাসি উপহার দিয়ে জিজ্ঞাস করলো, কই যাইবেন মামা?
এত তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যাবো! না আর একটু রাস্তায় চলবো।
-সামনে চলেন আমি বলে দিচ্ছি।

পিচ ঢালা পথ আর হারিকেনের আলোয় চলা। এই ছোট শহরটির হঠাৎ নগরি হয়ে উঠার প্রচেষ্টা চারদিকে ভালই বুঝা যাচ্ছে। যেন, বয়সন্ধি পার হয়ে বড় হতে চাইছে।
তিন রাস্তার মোরে আসলামের ডাকে ফিরে তাকালাম-
-মনোয়ার মামা, আপনারে তো জটিল লাগতাছে। এক কাপ চাফি খেয়ে যান?
না আজ না বলে মুখ ফিরিয়ে নিলাম।
আসলাম একটা চরিত্র বটে। সবসময়ের জন্য সাদা মনের মানুষ।কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই। আমার কাছে বাকি আছে শ তিনেক টাকা তা একবারের জন্যেও আমাকে মনে করিয়ে দেয় না। হইতো বুঝে মনের কষ্টটা! তার দোকানের চা+কফি=চাফি অনেক বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে এই এলাকায়। কিন্তু আমাকে কেন আজ জটিল লাগবে?

গায়ে থাকা নীল রঙের কুচকানো পান্জাবী আর ছিড়ে স্যন্ডেল! এতে কি মানুষকে জটিল লাগে?

ঘুম থেকে উঠেছিলাম আজ সুমনার ফোনের ডাকে। পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে। আমি কি করতে পারবো তা জানতে চেয়েছিল।
কত মজা করে বলে দিলাম,
- বিয়ে তো অনেক ভাল জিনিস, করো। না করেছে কে। যত তাড়াতাড়ি করবে তত ভাল জীবন পাবে।
ও এই কথা শুনে ফোনটা রেখে দিয়েছিল।

জীবনটা অনেক মজার যদি সব কিছু হাতের মুঠোয় পুরে রাখা যেন আর সময় মত চাহিদা অনুযায়ী বের করে নেয়া যেত।

সুমনার বাবার তো সরকারী চাকরিজীবি পাত্র লাগবে। আমি তো বেকার। বাবার ঔষধ কেনার টাকাটাও দিতে পারি না।
বাড়ি থেকে খানিকটা দুরে রিকসা থেকে নেমে গেলাম। পকেটের খুচরো টাকা গুলোর মাঝে ২ টাকার নোটটা ছিড়ে একাকার। কিন্তু রিকসাওয়ালা কোন অভিযোগ তুললো না। শুষ্ক মুখ করেই চলে গেল।

আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘের আনাগোনা দেখার ইচ্ছে আজ আর মনে আসছেনা।
ইচ্ছে হলে আমার উপর ভেঙে পড়ুক!

নিজেকে খুজে পাওয়ার তাড়নায় আমি যে এক অচেনা সাথী আজ এই চেনা পথের।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন