বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১২

নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র ও বটতলা থেকে ঘুরে এলাম

ময়মনসিংহের ত্রিশাল, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজরিত এলাকা। কবির শৈশব কেটেছে এখানে। এ বছর ১০০ বছর পূর্তি হচ্ছে ত্রিশালে নজরুলের আগমনের।

১৯১৪ সালে আসানসোল থেকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামের দারোগার বাড়িতে নজরুলকে নিয়ে আসেন কাজী রফিজউল্লাহ। কিছুদিন পর নজরুল জায়গির হিসেবে চলে যান একই উপজেলার বিচ্যুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে। পাশের গ্রাম নামাপাড়ায় বিশাল বটতলায় বাজতো কবির বাশিঁ। ২০০৮ সালে ব্যাপারী বাড়িতে স্থাপিত হয় নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র ও নজরুল গবেষণাগার।
এখানকার নজরুল উদ্যানে কবির লেখা কবিতা, গান ও কাব্যে স্থান পাওয়া বিভিন্ন বৃক্ষরাজি দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে রোপণকৃত। যেভাবে আসবেন: ঢাকা হতে প্রায় ১০০ কি.মি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায় বাসে করে যেতে পারবেন। ত্রিশালে বাস থেকে নেমে, দুখুমিয়া বিদ্যালয় পার হয়ে ভ্যানগাড়ি বা রিকসাওয়ালাকে বললেই আপনাকে পৌছিয়ে দিবে দারোগা বাড়িতে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটের পাশেই কবির স্মৃতি বিজরিত ‘বটতলা’ যেখানে কবি বসে বাশিঁ বাজাতেন শৈশবে। বিশাল বটতলায় বসে আজ আর সেই সুর শুনতে পারবেন না। কিন্তু অনুভব করতে পারবেন মায়া।
সেই বটগাছ
হেটে সামনে ব্যাপারী বাড়ির দিকে চললাম। প্রিয় কবির স্মৃতি আকঁড়ে তৈরি করা হয়েছে নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম কেন্দ্রটি এখন ধ্বংসাত্বক। নতুন করে ২০০৮ সালে নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে এটি। বাড়ির আঙিনায় স্থাপিত হয়েছে দুটি ‘নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র’।

পুকুরের পাড়ে বিশাল ভবন
২ তলা বিশাল বাড়ির নিচ তলাতে রয়েছে সম্মেলন কেন্দ ও উপরে ১৪০০ বই এর সংগ্রহ এবং কবি নজরুলের বিরল সব ছবি, কবির ব্যবহৃত পালঙ্ক ও গ্রামোফোন রেকর্ডসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। পুকুর পাড়ে টিন ও কাঠ দিয়ে তৈরি ঘরটি নজরুল গবেষণার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

স্মৃতিকেন্দ্রের লাইব্রেরী
বিশাল ভবনের পাশে রয়েছে সান বাধানো পুকুর ঘাট। গাছের সমাহার। দর্শনার্থীদের বসার জায়গা। এ স্মৃতিকেন্দ্রে রয়েছে কবির হাতে লেখা জাতীয় রণ সংগীত, কবির ব্যবহায্য গ্রামোফোন রেকর্ড ও কবির প্রাপ্ত বিভিন্ন পুরুষ্কার ও স্বরণীকা।

কবির ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র
ত্রিশালেই রয়েছে দারোগাবাড়ি ও কবির স্কুল পালানো দিন গুলোর সেই স্কুল। কবির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। নজরুল গবেষকরা নজরুলকে ফিরে পেতে, নজরুলকে জানতে ঘুরে আসতে পারেন এ স্মৃতিকেন্দ্র ও নজরুল জাদুঘর হতে।

কবির হাতে লেখা রণ সংগীত
 প্রতি বছর দরিরামপুরে প্রতিষ্ঠিত নজরুল একাডেমিতে আয়োজন করা হয় জাতীয় ভাবে নজরুল জন্ম জয়ন্তীর। তিনদিন ব্যপী মেলাসহ বিভিন্ন ধরনের আয়োজনে উদযাপন করা হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলমের জন্মদিবস। এ সময় গেলে ঘুরে আসতে পারবেন মেলা হতেও।


কিছু কথা: 
কেন্দ্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হওয়ার কারণে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসে এখানে। কিন্তু এটি তেমন স্বমৃদ্ধ নয়। দর্শনার্থীদের বিনোদন, বসার জায়গা ও লোকবল বাড়ানো উচিত এখানে। স্মৃতিকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারি, এখানে মোট ১৮টি পদ রয়েছে কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৪ জন রয়েছে দেখাশোনার জন্য! সঠিক পরিচর্চা না করলে এটি দর্শনার্থীদের টানতে পারবে না, নজরুলের আর্দশ, শিল্প সাহিত্যের সাথে পরিচয়ে সফল হবেনা। আশা নিয়ে এসেও নিরাশায় ফিরে যেতে হবে নজরুল পিয়াসীদের।

 নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতাবাদী আদর্শ বেঁচে থাকুক আজীবন।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন