বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১১

বিপ্লবের জয়গানে বেড়ে গেল উদিত সূর্যের তেজ

ভোর হতে অনেক দেরি। সব পরিকল্পনা মাফিক হলেই বিজয় নিশ্চিত। শুধু স্বপ্ন গুলোকে তখন গুজে দিতে বাস্তবতার আলোকে নতুন ভাবে দেশ গঠনে।
সফিক আর আসাদ ঘেমে নেয়ে একাকার। সারারাত বিপ্লব আর প্রকৃত স্বাধীনতার কথা প্রকাশ করেছে। মাত্র ২১ বছর বয়স ওদের, কিন্তু বুঝার উপায় নেই মনস্তাতিক ভাবনা গুলো দেখে। বয়স সত্যিই সবসময় কথা বলে না!

সফিক আর আসাদ ছোট বেলা থেকে এক সাথে বড় হয়েছে। দুজনের বাবা সরকারী কর্মচারী। তাদের গাড়ী আছে, বাড়ি আছে। কিন্তু কেন জানি তারা দুজন সম্পুর্ণ ব্যতিক্রম। অন্য সব ছেলেরা যেখানে ছোট বেলায় মার্বেল বা বাসায় বসে বসে কার্টুন দেখতো, সেখানে তারা বাসার বাইরে মানুষ আর তাদের জীবন দেখতো। আসাদের মামা দেশের বাইরে থাকেন, বিভিন্ন রকমের বই পাঠান তার জন্য। জীবনী বেশি। বিখ্যাত ব্যক্তিরাও তো মানুষ ছিল? তাহলে আমি কেন বিখ্যাত হতে পারবো না!



মানুষের জীবন, অসহায়ত্ব দেখে তারা চোখের পানি ফেলতে পারত। অন্যরা কেন পারে না! বোকার মত মানুষ গুলো খেয়ে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে আছে আর কেও বা না খেতে পেয়ে বস্তা বন্দি করে রেখেছে নিজেকে।

যখন অন্য ছেলেরা মেয়েদের পিছনে লাইন মারতে বা নিজেকে জাহির করতে ব্যস্ত, তখন তারা সমাজ আর দেশ নিয়ে ভাবছে। যে দেশটি শ্যামল আর মায়াময় থাকার কথা ছিল তা আজ কুৎসিত আর বিকৃত মস্তিস্কের মানুষে ভরে গিয়েছে। এখন দুর্নীতি আর অন্যের ক্ষতি করাটাই সংস্কৃতি! মনে হয় যেন বাবা ছেলেকে কান ধরে বলে গিয়েছেন-‘পরের মাথায় কাঠাঁল ভাঙবি নিজের মাথায় ভাঙবি না।’ জংলী,জানোয়ার যেমন নিজের দেহ নিজে চিবিয়ে খায় সেভাবেই এখন একজন অন্যজনকে চিবিয়ে খাচ্ছে আর অন্যরা তাদের দৃশ্য দেখে হাত তালি দিচ্ছে। এখানে আইন না মানাটায় আইন। মানুষকে মানুষ ভাবা যাবে না কিছুতেই। মনুষ্যত্ব যার যত নিচু হবে সে তত বড় মানুষ হবে সমাজে। সবাই দানব রুপে আর্বিভূত হয়ে রাক্ষসের সাথে বন্ধুত্ব করে পদ পিষ্ঠ করে মারছে সাধারণ মানুষকে। আর ক্ষমতার প্রধান থাকার কথা যাদের তারা চোখ বন্ধ করে হাটছে!

কেন এমন হবে? দেশে তো দানব থাকার কথা ছিল না। সব দানব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। দানবের সাথে লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু তাদের রক্ত ছড়িয়ে থাকায় তাতে আবার বাসা বেধেছে রাক্ষস!
বিপ্লবী মন আর বিপ্লবী চেতনা জাগ্রত হোক প্রতিটি মানুষের মনে। তাহলে এই সব রাক্ষস দের কেও ধ্বংস করা যাবে। তরুণ দুই সেনা বিপ্লবের চেতনায় জাগ্রত হয়েছে আজ। দানবদের যেভাবে দেশ থেকে তাড়ানো হয়েছিল ঠিক সেভাবে নয় নতুন পদ্ধতিতে দেশ হবে রাক্ষস মুক্ত।

শেফালির হাতে যুদ্ধের রসদ। শেফালি, আসাদ-সফিকের বন্ধু। তাদের বিপ্লবী সংগে আরো আছে অনেক তরুণ। যারা তাদের মতই ভাবতে পারে। আর বড় বড় বিপ্লবীদের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশের রাক্ষসদের ধ্বংস করতে সদা সচেষ্ট।

‘বিপ্লব এর চেতনা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকলে বিপ্লব আসবে না,রাস্তায় নামতে হবে...।
দেশ মাতা কে মুক্ত করতে দু হাত মুষ্ঠী বদ্ধ করে আমাদের লড়ায়ে নামার শপথ নিতে হবে,
আমরা আর দেখতে চাই না শকুনেরা খুব্লে খাচ্ছে আমার দেশ মাতা কে’ কথা গুলো সফিক বলে নিজেই কেদেঁ ফেললো। ‘আর ভাল লাগে না মানুষের এমন কষ্ট। পুজিবাদি বল বা সমাজতন্ত্র। আমি চাই মানুষের দু-বেলা খাবারের নিশ্চিত বন্দোবস্ত।’
সবাই সমোস্বরে বললো। ‘আমার পারবো,এই দেশটাকে রাক্ষস মুক্ত আর দানব দের রক্ত দুর করতে।’

বিপ্লবী হতে হলেই কি অস্ত্র হাতে নিতে হবে? যে কোন কিছুই যে কোন সময় অস্ত্র রুপে হাতে চলে আসতে পারে। শুধু প্রয়োজন তা চালানোর দক্ষতা। যা তরুণ এই বিপ্লবীরা শিখেছে। তাদের রসদ বলতে সাধারণ মানুষ আর কিছু ভাল মানুষের ভাল মনের ভালবাসা। তাই তারা সেই সব রসদ ঠিক ভাবে ব্যবহার করাটা শিখেছে। যে দেশের জনগণকে বলা হয় প্রধান ক্ষমতার উৎস সেখানে সেটাই প্রধান অস্ত্র যেকোন বিপ্লবে জয়ী হতে। সফিক-আসাদ=শেফালিরা এটা জানে। তারা এখন মানুষকে সচেতন করছে, যা তাদের কাছে এখন সবচেয়ে কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। যে দেশের মানুষ এত সহজ ভাবে দানব দূর করতে পেরেছে তারা কেন রাক্ষসদের শাসন মেনে নিশ্চুপ আর সার্থপর হয়ে রইলো? সবাই ইতিহাস জানে কিন্তু কেন শিক্ষা নিল না সেখান থেকে? তাহলে কি বইয়ের কথা ভূল! এটা কি শুধু মন ভূলানো কথা? কিন্তু তারা তো পেরেছিল! দানব দের থেকে দেশটাকে রক্ষা করতে। আমরা কেন পারবো না?

পারতেই হবে। বোকা জনতাকে জাগাতে হবে। চোখে আঙুল দিয়ে তার ঘুমন্ত ছবিটি দেখাতে হবে। তাহলেই সে জাগবে আর বিপ্লবীদের পাশে থেকে রাক্ষস মুক্ত করে আবার শ্যামল করে তুলবে দেশ।
তাদের হাতে আজ সব রাক্ষসদের অপকর্মের চিত্র। আসাদ’রা বিপ্লবীদের জাল ফেলে রেখেছে চর্তুদিকে। যার কারণে সব রাক্ষসদের তথ্য আজ তাদের হাতে চলে এসেছে। ভাল মানুষ আর বিপ্লব কখনো ধ্বংস হয় না,তারা সব সময় জাগ্রত থাকে। সফিক,আসাদরা বিশ্বাস আর ভালবাসায় মানুষের মন জয় করতে পেরেছিল যার কারণে আজ তারা সাথে পেয়েছে আরো অনেক বিপ্লবীকে। যারা রাক্ষসদের শাসন ব্যবস্থার প্রতি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পরে আসাদ দের তথ্য দিয়েছে। রাক্ষসদের সব খারাপ কাজের দলিল আজ বিপ্লবীদের হাতে।

তারা মানুষ নামে, কিন্তু ভিতরে বসবাস করছে রাক্ষস। কাল ভোর হলেই সব প্রকাশ পেয়ে যাবে।
সকল অফিস,আদালত,গণমাধ্যম জুড়ে নতুন বিপ্লবের আগুন জ্বলে উঠবে। তথ্য যাবে প্রধান ক্ষমতার অধিকারী জনতার হাতে। চোখ খুলে তাকালে প্রকৃত স্বাধীনতা উপলব্ধি করে সবাই সামনে চলে আসবে। বিশ্বাস বিপ্লবীদের।

সকাল হয়ে এলো প্রায়। মানুষ জন চলতে শুরু করেছে, এই তো সংবাদ পত্র নিয়ে বাচ্চা ছেলেটি চিৎকার করছে। কিন্তু বিপ্লবী স্বপ্ন!
সফিকরা ধীর পায়ে সামনের দিকে যাচ্ছে। তখন শহরের প্রধান ঘড়িতে ঘন্টা বাজলো কাজ শুরুর...
তাহলে কি আসাদ রা ব্যর্থ?
ওই তো...
দূর থেকে কাদের ছায়া যেন চোখে পড়ছে! দেশের প্রধান শক্তি আজ জোট বেধে সামনে আসছে,আসাদ,শেফালিদের দিকেই। আরো দূরে রাক্ষস হঠাও স্লোগান শোনা যাচ্ছে। আসাদের চোখ ঝলসিয়ে গেল আনন্দে। জেগেছে মানুষ! বিপ্লবী চেতনায় মুক্ত করবে দেশ রাক্ষসদের থেকে। প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করে শ্যামল করবে দেশ।
হাতে হাত রেখে আসাদরা নেতৃত্ব দিয়ে সকল ক্ষমতার উৎস নিয়ে রাক্ষসদের
বিরোদ্ধে রচিত করলো বিপ্লব।

আর দূরে উদিত সূর্যের তেজ বেড়ে গেল বহুগুণ !


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন