রবিবার, ১৯ মে, ২০১৩

আত্বহত্যার সহজ পাঠ


প্রথম দৃশ্য:
মৌ শুয়ে আছে রেল লাইনে ট্রেনের অপেক্ষায়। কাধেঁ ব্যাগ। বার বার উঠে বসছে আর ট্রেন আসছে না কেন তা ভাবছে।
আগন্তুক: আত্বহত্যা করতে এসেছেন বুঝি? এভাবে না শুয়ে সোজা ট্রেনের দিকে চোখ রেখে শুয়ে পরুন, এতে মৃত্যু নিশ্চিত হবে। ওভাবে থাকলে হইত হাত না হলে পা কাটা যাবে পরে আপনাকে সারাজীবন পঙ্গু হয়ে বাচঁতে হবে।
অনেকক্ষণ পর অধৈর্য্য হয়ে স্টেশনের দিকে গেল-
মৌ: আচ্ছা, পরবর্তী ট্রেনটা কখন আসবে?
স্টেশন মাষ্টার: হরতালকারিরা ট্রেনে আগুণ দিয়েছে তার উপর সামনেই ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলেছে। আজ ট্রেন চলবে না। ঠিক হলে পরে।
মৌ: ধুত্তুরি!
স্টেশন মাষ্টার: কোথায় যাবেন?
মৌ: আত্বহত্যা করব।
(স্টেশন মাস্টার অবাক তাকিয়ে থাকে)

আগন্তুক: তাহলে আজ আর পারলেন না। তাছাড়া ট্রেনে কাটা পরে মরাটাও অসম্মানের! মরবেন যখন সম্মানের সাথে মরুন। নিজের চেষ্টায় মরুন। ট্রেনের সাহায্যে মরার কি দরকার? আমাকে ২৪ ঘন্টা সময় দিন, আমি আপনাকে মরতে সহায়তা করব।
-ধুর মিয়া যান তো! বিরক্ত কইরেন না।
দ্বিতীয় দৃশ্য:

ব্রীজের উপর দাড়িয়ে মৌ। ঝাপ দেওয়ার জায়গা খুজতে থাকলো।
আগন্তুক:  নদীতে হাটু পানি, পরবেন কিন্তু মরবেন না। ইন্ডিয়ার দিদি আমাদের শান্তিতে মরতেও দিচ্ছে না নদীতে ঝাপিয়ে। কাঁদা পানিতে খামোখা শরির নোংরা হবে।
মৌ: দয়া করে আমাকে বিরক্ত করবে না। যান আপনি।
আগন্তুক: তার থেকে ভাল হয় পাশের তুরাগ নদীতে চলুন, পানি আছে, ঝাপিয়ে পরার কষ্টটাও করতে হবে না। শুধু ধৈর্য্য ধরে ২ ঘন্টা পর পর এক চুমুক পানি খাবেন। বিষ খেয়ে মরার থেকে এই পানি খেয়ে মরাটা কার্যকর। বুঝেনই তো বিষেও ভেজাল কিন্তু এই পানিতে ভেজাল নেই।
মৌ কিছু না বলেই হাঁটা ধরলো।
তৃতীয় দৃশ্য: (রাতের দৃশ্য)
মহাসড়কে উঠে এদিক ওদিক দেখে মাঝখানে শুয়ে পরলো মৌ।
লোক: কত? চল
মৌ: কোথায় চলবো?
লোক: পুষিয়ে দিবো নে।
আগন্তুক: এই যে শুনুন, মেয়েটি আমার সাথে। (লোকটি চলে গেল)
দুরে পুলিশের গাড়ির সাইরেন শোনা যাচ্ছে।
আগন্তুক: চলুন।
মৌ: কেন? যাবো না।
আগন্তুক: না গেলে পুলিশ ধরবে আপনাকে, আত্বহত্যা চেষ্টার জন্য গ্রেফতার করবে, মামলা হবে, বিচার হবে, পরিবার-বন্ধুরা জানবে, ১ বছরের জেলও হতে পারে। এভাবে আত্বহত্যা করাটা বোকামি। লোকে বোকা ডাকবে আপনাকে।
মৌ: কিন্তু আমি এই মুখ আমার বাসায় দেখাতে পারবো না।
আগন্তুক: কেন চেহারা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে বুঝি?
মৌ: পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করেছি।
আগন্তুক: তাহলে তো আরও ভাল হল, গামের্ন্টসে কাজে ঢুকুন, বেতন পাবেন যতদিন পযর্ন্ত না মরবেন। পরিবারকে সহায়তাও করতে পারলেন আর আত্বহত্যায় সর্ম্পূণ সহযোগিতাটাও তাদের কাছ থেকে পাবেন।
মৌ: আপনি কি আমারা সাথে ফাজলামু করছেন?
আগন্তুক: না, আমি আপনার ইচ্ছে পূরণে সহায়তা করছি মাত্র। চলুন, সামনে একটা চায়ের দোকান আছে। গরুর খাটি দুধের চা পাওয়া যায়। তারপর আমরা আবার আত্বহত্যার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাই।
মৌ আনমনে আগন্তুকের সাথে হাটঁতে থাকলো।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন