ছবিটি দেখুন। দুইটি বাচ্চা ছেলে একজন যাত্রীর পা ধরে বসে আছে! মাফ চা্ওয়ার জন্য নই! টাকা না দিলে তারা পা ছাড়বে না। এটাই তাদের আয় করার নিয়ম। নিয়মিত তারা বাস স্টেশন,রেল স্টেশন,সদর ঘাটে এমন কি বিমান বন্দরে এই ভাবে ভিক্ষা করছে।
যাত্রীদের বাধ্য করে টাকা দিতে,এভাবে, সবাই টাকা দিতে বাধ্য হয় কোন ধরনের বুঝানোতেই কাজ হয়না! আর প্রেমিক জুটি থাকলে তো কথায় নেই-একটা নিদ্রিশ্ট টাকা দাবি করে-ভাবি ভাবি বলে চিৎকার করতে থাকে মুখে যা আসে তাই বলে বসে! তাই বাধ্য হয়ে তাদের টাকা দিতে হয়।
আমি বিমান বন্দর রেল স্টেশনে যাতায়াত করার দরুন তাদের কয়েকজনের সাথে কথা হয়। যা্ওয়ার সাথে সাথে ভাই টাকা দেন!কি করবে জিজ্ঞাস করলে বলে সকাল থেকে কিছু খাইনি,মায়ে রান্না করছে না।এমন আরো অনেক কথা বলে এমন কি তাদের কেউ কেউ এমন অভিনয় করে যে সে ক্ষুদার জ্বালায় পরে যাচ্ছে। আপনি যদি বলেন -ঠিক আছে চল আমি তোমাদের খা্ওয়াবো। না তারা যাবে না তাদের কে টাকায় দিতে হবে।
আর টাকাটা হাতে পা্ওয়ার সাথে সাথে আপনাকে ফেলে চম্পট দিবে। একটৃ পরে দেখবেন আপনার সামনেই হয়তো ঝালমুড়ি খাচ্ছে বা দল বেধে মারামারি খেলা খেলছে!
আর একটু বড় যারা তারা বিড়ি ফুকছে!আপনি আবার কিছু বলতে যাবেন,তো দেখবেন এমন একটা ভাব যেন আপনাকে সে চিনেই না!
কারণ-
১.তারা পরিবার থেকে কোন ধরনের সাহায্য পাই না।
২. মানসিক ভাবে ভেবেই নিয়েছে যে তারা রাস্তার ছেলে।
৩.বাব-মা হতে পারে খারাপ কাজে লিপ্ত!
৪.বাস্তহারা।
৫.শিক্ষার অভাব।
৬.একাকিত্ব।
৭.আমাদের অবহেলা।
৮.পারিবারিক নির্যাতনের প্রভাব
৯ অভাব।
ফলাফল-
১.শৈশবেই জীবন ধ্বংসের সিড়ি
২.বড় হয়ে হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী
৩.জীবনটা হয় অর্থূহীন
৪.মানবিক মূল্যবোধহীন প্রাণীতে পরিণত হয়।
৫.খারাপ সঙ্গ আর খারাপ পথে চলে যায়।
৬.মানসিক রোগীতে পরিণত হয়।
৭.আত্বহত্যার চেষ্টা
৮.পরিণত হয় জাতির বোঝা।
-----------------------------------------------------------
আমরা কি করতে পারি এই শিশুদের জন্য-
আমি যখন ওদের সাথে কথা বলি তখন আমাকেও তাদের কাতারেই নামতে হয়,
না হলে তারা আমাকে কোন উত্তর দেবে না! তাই আমি তাদের মতই ভাষা ব্যবহার করে জনতে চেয়েছিলাম
-আচ্ছা-পড়াশুনা করবা?
--টেকা নাই।ভালা লাগে না।
-চলো ভালো কোন জায়গাতে গিয়ে আজ তোমাকে খা্ওয়ামু.
--ই পরে চোরের কাচে বেইচ্চা দিতেন?
-আমি যদি সবাইকে বই কিইন্না দেই?
--দেইন যে।হি হি হি।
-পায়ে ধরে বসে থাকো কেন,এমন বিরক্ত কর কেন মানুষকে?
--আব্বা কইচে,নাইলে কেরতাম!
এমন তাদের উত্তর। এক কথা দুইকথার মাঝেই শেষ!
আপনারাই বলুন আমরা কি করতে পারি এই অভাগা শিশুদের জন্য যাদের শৈশবেই ধ্বংসের সিড়ি!
সরকারি ভাবে তাদের কে পুনর্বাসন করতে পারে,কিন্তু তাদের পরিবার! যেখান থেকে তারা এই গুলো শিখছে।
চলুন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবি। শিশু শ্রম,পারিবারিক নির্যাতন আর ভিক্ষা আমাদের চারপাশের কচি মন গুলো কে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
আমরা কি কিছুই করতে পারি না!!!!
সবার মতামত আশা করছি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়টিতে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন